আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে চরম উত্তেজনা: পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা সমগ্র আঞ্চলিক ভারসাম্যের জন্য এক গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। ঐতিহাসিক ডুরান্ড লাইন নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধের পটভূমিতে এই সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলস্বরূপ কাবুল এবং ইসলামাবাদের মধ্যে তীব্র সামরিক কার্যকলাপ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পালা শুরু হয়েছে, যা এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ককে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় যখন আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে “প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর সামরিক অভিযান” পরিচালনা করেছে। তালেবানরা তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ২৫টি পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিতে নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে। আফগান পক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে তারা ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনাকে নির্মূল করেছে এবং আরও ৩০ জনকে আহত করেছে। উপরন্তু, আফগান বাহিনীর কার্যক্রমে ২০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে বলেও তারা জানায়। কাবুল দাবি করেছে যে ইসলামাবাদের কথিত কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালে কাবুলে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগও রয়েছে—যে হামলায় ৪৬ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

অন্যদিকে, পাকিস্তানি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে তাদের সেনাবাহিনী “অপ্রীতিকর আগ্রাসনের” বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা আর্টিলারি, ট্যাঙ্ক এবং ড্রোন ব্যবহার করে এই জবাব দিয়েছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী ১৯টি আফগান সীমান্ত ফাঁড়ি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ কাবুলের এই কার্যকলাপকে “গুরুতর, ক্ষমার অযোগ্য কাজ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার জন্য “কঠোর ও দৃঢ় প্রত্যুত্তর” প্রয়োজন। ইরান, সৌদি আরব এবং কাতার সহ আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।

উত্তেজনার মূল কারণ এখনও সেই ডুরান্ড লাইন—২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ বিতর্কিত সীমান্ত, যা আফগানিস্তান কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এই বাহ্যিক সংঘাতগুলো অভ্যন্তরীণ চাপের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, পাকিস্তান তার পূর্ব সীমান্তে ভারতের সাথেও সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই সংঘাত তীব্র হওয়ার সময়ই আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি নয়াদিল্লি সফর করছিলেন। এই সময়েই ভারত কাবুলে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করার অভিপ্রায় নিশ্চিত করেছে, যা এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আঞ্চলিক সমীকরণে পরিবর্তন এনেছে।

উৎসসমূহ

  • Deutsche Welle

  • NDTV

  • BBC News

  • Al Jazeera

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।