বুখারেস্টের সংসদ কক্ষে কয়েক ঘণ্টার বিতর্কের পর বিরোধীদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে: মার্সেল চিওলাকু সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সফলভাবে পাস হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট এবং ন্যাশনাল লিবারেলদের ইউরোপীয়পন্থী জোটটি হঠাৎ করেই বিলুপ্ত হয়ে গেল। দেশটি এখন এমন এক রাজনৈতিক শূন্যতার মুখে পড়েছে, যখন ইউরোপীয় তহবিল ব্যবহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সর্বাধিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন ছিল।
এই জোটটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একীভূত হওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য এবং ইইউ পুনরুদ্ধার তহবিল থেকে শত কোটি অর্থ পাওয়ার আশায় গঠিত হয়েছিল। তবে কর নীতি, সামাজিক ব্যয় বণ্টন এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে মতপার্থক্য ধীরে ধীরে এই মৈত্রীকে দুর্বল করে দিয়েছে। ন্যাশনাল লিবারেলরা যখন কার্যত তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়, তখন রক্ষণশীল এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী দল প্রয়োজনীয় ভোট সংগ্রহ করে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগে বাধ্য করতে সক্ষম হয়।
এই পরিস্থিতি অনেকটা একটি নড়বড়ে সেতুর মতো: ভিত্তিপ্রস্তরে ফাটল ধরলে শক্ত খুঁটিও কোনো কাজে আসে না। রোমানিয়ার ক্ষেত্রে এই ফাটলটি ছিল অর্থনৈতিক সংকট এবং কৃচ্ছ্রসাধন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ। ইউরোপীয় অগ্রাধিকারের সাথে অভ্যন্তরীণ জরুরি চাহিদাগুলোর সমন্বয় করতে না পারায় এই জোট শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে ভেঙে পড়েছে।
রোমানিয়াকে এখন হয় নতুন সরকার গঠন করতে হবে, না হয় আগাম নির্বাচনের দিকে এগোতে হবে। সংস্কার বিলম্বিত হওয়ার ফলে ইউরোপীয় তহবিল প্রাপ্তি ধীর হয়ে যেতে পারে এবং ইউক্রেনকে সহায়তার ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ব্রাসেলস গভীর উদ্বেগের সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ তারা বুঝতে পারছে যে বুখারেস্টের অস্থিরতা ইইউ-র পুরো পূর্ব সীমান্তকে প্রভাবিত করবে।
রোমানিয়া এর আগেও এমন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে: ২০২১ সালেও নেতাদের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে আগের জোটটি ভেঙে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা এবং ইউরোপীয়পন্থী ধারা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলো এই সুযোগে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার বদলে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে আগামী কয়েক সপ্তাহ হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: রাজনৈতিক দলগুলোর আপস করার ক্ষমতার ওপরই নির্ভর করছে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হবে কিনা। একটি নতুন এবং স্থিতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া রোমানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো উভয়ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান দুর্বল করে ফেলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই জোটের পতন দেখিয়ে দিচ্ছে যে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে জাতীয় স্বার্থ এবং ইউরোপীয় অঙ্গীকারের মধ্যে ভারসাম্য কতটা ভঙ্গুর হতে পারে, যেখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রায়শই অভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যের ওপর প্রাধান্য পায়।



