২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে গিনিতে একটি সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই গণভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সংবিধানের পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেওয়া। এই প্রক্রিয়াটি জেনারেল মামাদি দুমবুয়ার নেতৃত্বে থাকা সামরিক জান্তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে, যারা ২০২১ সালে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল।
সামরিক জান্তা কর্তৃক নির্ধারিত বেসামরিক শাসনে ফেরার সময়সীমা, যা মূলত ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা অতিক্রান্ত হয়েছে। এই বিলম্ব এবং রাজনৈতিক পরিবেশের উপর জারি করা বিধিনিষেধ, যেমন প্রধান বিরোধী দলগুলির (ইউএফডিজি এবং আরপিজি) কার্যক্রম স্থগিত করা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং সমালোচকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, এই সাংবিধানিক পরিবর্তনগুলি জান্তার শাসনকে বৈধতা দেওয়ার এবং জেনারেল দুমবুয়ার ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করার একটি প্রচেষ্টা। তারা এই পদক্ষেপকে 'একনায়কত্ব দীর্ঘায়িত করার একটি কৌশল' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে সামরিক অভ্যুত্থানের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার মধ্যে গিনির এই গণভোট একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এই অভ্যুত্থানগুলি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলেছে এবং অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, অর্থনৈতিক সম্প্রদায় (ইকোওয়াস) গিনির গণভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মিশন পাঠিয়েছে, যা একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর জোর দিয়েছে।
গণভোটের আগে, দেশের তিনটি প্রধান বিরোধী দলকে ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, যা তাদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গণভোটের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কিছু নাগরিক এই পরিবর্তনগুলিকে জাতীয় উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন, তবে জনমত জরিপগুলি দেশের বর্তমান গতিপথ নিয়ে অসন্তোষ এবং সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। অনেক নাগরিক গণতন্ত্রের প্রতি তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এবং সামরিক শাসন থেকে দ্রুত বেসামরিক শাসনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই সাংবিধানিক গণভোট গিনির জন্য একটি সন্ধিক্ষণ, যা দেশটির শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল কেবল গিনির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই প্রভাবিত করবে না, বরং পশ্চিম আফ্রিকার গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের উপরও এর গভীর প্রভাব ফেলবে।



