মিউস স্পার্ক এআই মডেল উন্মোচন এবং ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় রেকর্ড বিনিয়োগের ঘোষণায় মেটার শেয়ার বাজারে বড় উত্থান
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কে অবস্থিত মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেড তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে এক আমূল পরিবর্তন এনেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন মাল্টিমোডাল এআই মডেল 'মিউস স্পার্ক' (Muse Spark) উন্মোচন করার পর শেয়ার বাজারে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। লেনদেনের এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৯.৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা প্রমাণ করে যে বিনিয়োগকারীরা মেটার পণ্য-ভিত্তিক এবং ক্লোজড-সোর্স এআই কৌশলের ওপর আস্থা রাখছেন।
মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস (MSL)-এর প্রধান আলেকজান্ডার ওয়াং-এর নেতৃত্বে এই মিউস স্পার্ক মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত জিপিটি-৫.৪ (GPT-5.4) এবং জেমিনি ৩.১ প্রো (Gemini 3.1 Pro)-এর মতো শক্তিশালী মডেলগুলোর সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে 'লামা ৪ মেভেরিক' (Llama 4 Maverick) উন্মোচনের পর এটিই মেটার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত সংযোজন। উল্লেখ্য যে, পূর্ববর্তী লামা মডেলগুলোর মতো এটি ওপেন-সোর্স করা হয়নি, তবে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এটি মেভরিকের তুলনায় দশ গুণ কম কম্পিউটেশনাল শক্তি ব্যবহার করেও সমপর্যায়ের ফলাফল দিতে সক্ষম। স্বাস্থ্যসেবা খাতে এই মডেলটির দক্ষতা বিস্ময়কর; হেলথবেঞ্চ হার্ড (HealthBench Hard) মেট্রিক্সে এটি ৪২.৮ স্কোর অর্জন করেছে, যা জিপিটি-৫.৪-এর ৪০.১ স্কোরের চেয়ে বেশি। এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক হাজারেরও বেশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সংগৃহীত তথ্যের নিবিড় প্রশিক্ষণ।
প্রযুক্তিগত এই অগ্রগতির পাশাপাশি মেটা তাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এক বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০২৬ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১১৫ থেকে ১৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূলধনী ব্যয়ের (CapEx) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই অঙ্কটি ২০২৫ সালের ৭২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বিপুল অর্থ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ক্রয় এবং ওহাইও ও লুইসিয়ানায় অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে মেটা এখন অ্যালফাবেট এবং মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টদের কাতারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করছে।
তবে এই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির মধ্যেও মেটা বেশ কিছু আইনি জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে। সম্প্রতি নিউ মেক্সিকোতে শিশুদের নিরাপত্তা এবং গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত মেটা এবং ইউটিউবকে তাদের প্ল্যাটফর্মে আসক্তিমূলক ফিচার যুক্ত করার জন্য দায়ী করেছে, যা একজন তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪.২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়। এই রায়গুলো বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর পণ্য ডিজাইনের ক্ষেত্রে আইনি দায়বদ্ধতাকে আরও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
মেটার ২০২৬ সালের ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে তারা কিছু কৌশলগত চুক্তিও করেছে। এর মধ্যে কোরউইভ (CoreWeave)-এর সাথে ২১ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি রয়েছে যা ২০৩২ সাল পর্যন্ত ক্লাউড সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং নেবিয়াস (Nebius)-এর সাথে ২৭ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ব্যাপক ব্যয় সত্ত্বেও মেটা আশা করছে যে ২০২৬ সালে তাদের পরিচালন আয় ২০২৫ সালের তুলনায় অনেক বেশি হবে। কোম্পানিটি ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ কর হার বজায় রাখার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা তাদের মূল বিজ্ঞাপন ব্যবসার শক্তিশালী অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
forbes.pl
Let's Data Science
The Team
ForkLog
Meta Investor Relations
Investing.com
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



