আজ 5:05 a.m. EST এ, Nov. 18, GHOST (Grand cHallenge MesOsphere Student rockeT) মিশন Andøya Space in Norway থেকে উৎক্ষেপণ হয়েছে, সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় 167 মাইল (268 kms)।
২০২৫ সালের ১৮ই নভেম্বর, নরওয়ের আন্দোইয়া স্পেস থেকে জিএইচওএসটি (GHOST - Grand cHallenge MesOsphere Student rockeT) মিশনটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ অভিযানটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি দৃষ্টান্ত, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পুয়ের্তো রিকো এবং নরওয়ের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তৈরি করেছে। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মেসোস্ফিয়ার এবং নিম্ন থার্মোস্ফিয়ার স্তরগুলির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা।
দুই-পর্যায়ের টেরিয়ার-ইমপ্রুভড ম্যালমিউট সাউন্ডিং রকেটটি সফলভাবে ২৬৮ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যা মহাকাশ ও বায়ুমণ্ডলের প্রচলিত বিভেদকারী কার্মান রেখা (১০০ কিলোমিটার)-কে উল্লেখযোগ্যভাবে অতিক্রম করে। উড্ডয়নের সময়, রকেটটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির জন্য কয়েক মিনিটের মাইক্রোগ্র্যাভিটি ডেটা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। শিক্ষার্থীদের দ্বারা নকশা করা পরীক্ষাগুলির মধ্যে ছিল বিভিন্ন উচ্চতায় বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক ক্ষেত্র পরিমাপ করা এবং বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানের বিশ্লেষণ করা। এই গবেষণাগুলি মেসোস্ফিয়ার এবং নিম্ন থার্মোস্ফিয়ারে সংঘটিত প্রক্রিয়াগুলি সম্পর্কে জ্ঞানকে গভীর করার লক্ষ্যে পরিচালিত, যা পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন এবং আবহাওয়ার অবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জিএইচওএসটি মিশনটি আন্তর্জাতিক জি.সি.আই. II (গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ II) কর্মসূচির অংশ। এই কর্মসূচিটি আটটি দেশকে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াগুলির যৌথ অধ্যয়নের জন্য একত্রিত করেছে। জি.সি.আই. II মহাকাশ ও পৃথিবীর বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট মৌলিক সমস্যাগুলির অগ্রগতি লক্ষ্য করে একটি বৃহৎ আকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। জিএইচওএসটি মিশনটি পূর্ববর্তী সফল ছাত্র-ভিত্তিক মিশন জি-চেসার (G-CHASER)-এর ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ২০১৯ সালের ১৩ই জানুয়ারি আন্দোইয়া থেকে উৎক্ষেপিত হয়েছিল এবং এতে নরওয়ে, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা জড়িত ছিল।
আন্দোইয়া স্পেসের ভিপি কোলবজর্ন ব্লিক্সের মতে, জিএইচওএসটি হলো নাসা এবং আন্দোইয়া স্পেসের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক ছাত্র মিশন, যা বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের সীমানা প্রসারিত করতে সহায়ক। এই ধরনের উদ্যোগগুলি তরুণ প্রজন্মকে মহাকাশ শিল্পে ভবিষ্যতের পেশাদার হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে, যারা ভবিষ্যতে পৃথিবীর পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ এবং আন্তঃগ্রহীয় প্রোব নির্মাণে ভূমিকা রাখবে। এই সফল উৎক্ষেপণটি জটিল বৈজ্ঞানিক কাজ সমাধানে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা এবং ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গবেষণার গুরুত্বকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে।