Dream Chaser NASA-এর Kennedy Space Center-এ একটি সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-উড়ান পরীক্ষার সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যা তার প্রথম Free-Flyer মিশনের দিকে অব্যাহত অগ্রগতি চিহ্নিত করে।
সিয়েরা স্পেসের পুনঃব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান ‘টেনাসিটি’ তার প্রথম কক্ষপথ যাত্রার পূর্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যা মহাকাশ পরিবহণ ক্ষেত্রে এর সক্ষমতা যাচাই করে। এই পরীক্ষাগুলি নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে (KSC) অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে মহাকাশযানটির অপারেশনাল প্রস্তুতি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো। এই অগ্রগতি সিভিল এবং জাতীয় নিরাপত্তা উভয় ক্ষেত্রেই বহুমুখী মহাকাশযান তৈরির প্রতি সিয়েরা স্পেসের অঙ্গীকারকে সমর্থন করে।
পরীক্ষা কর্মসূচির একটি প্রধান অংশ ছিল ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফারেন্স এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক কম্প্যাটিবিলিটি (EMI/EMC) মূল্যায়ন, যা নাসার স্পেস সিস্টেমস প্রসেসিং ফ্যাসিলিটি (SSPF)-তে সম্পন্ন হয়। এই পরীক্ষা নিশ্চিত করে যে মহাকাশযানটির ইলেকট্রনিক্স মহাকাশের জটিল তড়িৎচৌম্বকীয় পরিবেশে একে অপরের সাথে বা অন্যান্য সিস্টেমের সাথে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। উপরন্তু, মহাকাশযানটি সফলভাবে রিয়েল-টাইম কমান্ড এবং টেলিমেট্রি স্থানান্তর প্রদর্শন করেছে, যা কলোরাডোর লুইসভিলের মিশন কন্ট্রোলের সাথে নাসার ট্র্যাকিং অ্যান্ড ডেটা রিলে স্যাটেলাইট সিস্টেম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে।
মহাকাশযানটির অবতরণ গতিবিদ্যা অনুকরণ করার জন্য কঠোর টাউ পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, যেখানে একটি ফ্রেইটলাইনার ক্যাসকেডিয়া ট্রাক ব্যবহার করে উচ্চ গতিতে মহাকাশযানটিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় রানওয়ে অবতরণের সময় মহাকাশযানের স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশনাল প্যারামিটারগুলি যাচাই করা হয়, যা এর পুনঃব্যবহারযোগ্যতার একটি মূল বৈশিষ্ট্য। এই টাউ পরীক্ষাগুলি ডাইমলার ট্রাক নর্থ আমেরিকার সহায়তায় সম্পন্ন হয়। এই পরীক্ষাগুলির পাশাপাশি, একটি পোস্ট ল্যান্ডিং রিকভারি মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়, যা অবতরণের পরে গাড়ির সিস্টেমগুলিকে সুরক্ষিত করা এবং সংবেদনশীল পেলোডগুলিতে দ্রুত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া প্রদর্শন করে।
সিয়েরা স্পেস, যা ২০১১ সালের এপ্রিলে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, এই মহাকাশযানটি তৈরি করেছে। ড্রিম চেজারকে মূলত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) কার্গো সরবরাহের জন্য নাসার কমার্শিয়াল রিসাপ্লাই সার্ভিসেস-২ (CRS-2) চুক্তির অধীনে তৈরি করা হয়েছিল। তবে, চুক্তির সংশোধনের ফলে বর্তমানে সংস্থাটি শুধুমাত্র একটি ফ্রি-ফ্লাইট প্রদর্শনীতে মনোনিবেশ করছে, যা আইএসএস-এ ডক করবে না। এই পরিবর্তনটি আইএসএস-এর ২০৩০ সালের ডি-অরবিট পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে নমনীয়তা প্রদান করে।
এই পরীক্ষা পর্বগুলি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, চূড়ান্ত অ্যাকোস্টিক পরীক্ষাটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত রয়েছে, যা উৎক্ষেপণের সময় সৃষ্ট তীব্র শব্দ এবং কম্পন সহ্য করার ক্ষমতা যাচাই করবে। এর পরপরই, মহাকাশযানটির বহুমুখিতা বাড়ানোর জন্য কলোরাডোতে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োগের জন্য পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হবে। ড্রিম চেজারের প্রথম কক্ষপথ যাত্রা, যা নিম্ন আর্থ অরবিটে (LEO) হবে, তা ২০২৬ সালের শেষ ভাগে লক্ষ্যমাত্রা করা হয়েছে। এই প্রথম ফ্লাইটের অবতরণ ফ্লোরিডার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেসে একটি রানওয়েতে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ড্রিম চেজার, যা একটি লিফটিং বডি স্পেসপ্লেন এবং নাসার HL-20 ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি, তা ইউনাইটেড লঞ্চ অ্যালায়েন্সের (ULA) ভালকান সেন্টর রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপিত হবে। এই মহাকাশযানটি প্রতিবার ১.৫g-এর কম বল প্রয়োগ করে সংবেদনশীল পেলোড পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।