শেনঝৌ-২০-এ স্বাগতম! পৃথিবীর কক্ষে ২০৪ দিন বিতেছে, এবং শেনঝৌ-২১ ক্রু Tiangong স্পেস স্টেশনে পৌঁছার কয়েক দিনের পরে, তাইকোনটস Chen Dong, Chen Zhongrui ও Wang Ji নিরাপদে অবতরণ করেছে।
চীনের মহাকাশ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে শেনঝৌ-২০ মিশনের তিন নভোচারীর পৃথিবীতে সফল প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে। নভোচারী চেন ডং, চেন ঝংরুই এবং ওয়াং জিয়ে এপ্রিল ২০২৫-এ টিয়ংগং মহাকাশ স্টেশনে ছয় মাসের একটি কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। তবে, মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের সম্ভাব্য আঘাতের কারণে তাদের মূল প্রত্যাবর্তন তারিখ নভেম্বরের ৫ তারিখ থেকে পিছিয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে, নভোচারীরা নতুন বাহন হিসেবে শেনঝৌ-২১ মহাকাশযান ব্যবহার করে পৃথিবীতে ফিরে আসেন, যা নভেম্বরের ১৪ তারিখে সংঘটিত হয়।
Shenzhou-21 ক্রু স্পেসশিপের প্রত্যাবর্তন ক্যাপসুল
প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হওয়ার কারণ ছিল শেনঝৌ-২০ প্রত্যাবর্তন ক্যাপসুলে ক্ষুদ্র ফাটল শনাক্ত হওয়া, যা সম্ভবত মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সৃষ্ট। এই আঘাতের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ, যা বুলেট গতির চেয়েও দ্রুত গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, একটি সেন্টিমিটার আকারের কণা হলেও তা একটি মহাকাশযান ধ্বংস করার মতো শক্তি সরবরাহ করতে পারে। এই প্রথম কোনো মানববাহী মিশনের প্রত্যাবর্তন সম্ভাব্য মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের আঘাতের কারণে স্থগিত করা হলো। চীন ম্যানড স্পেস এজেন্সি (সিএমএসএ) নিরাপত্তার স্বার্থে মহাকাশযান পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নেয়।
মহাকাশযান পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের ফলে জটিলতা সৃষ্টি হয়: শেনঝৌ-২১, যা নতুন ক্রুদের নিয়ে এসেছিল, এখন তার নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই পৃথিবীতে ফিরে আসছে। এর ফলস্বরূপ, মহাকাশ স্টেশনে নতুন ক্রুদের জন্য জরুরি অবস্থায় কোনো প্রত্যাবর্তন যান অবশিষ্ট থাকল না। সিএমএসএ জানিয়েছে যে ভবিষ্যতে উপযুক্ত সময়ে শেনঝৌ-২২ উৎক্ষেপণ করা হবে। বর্তমানে টিয়ংগং মহাকাশ স্টেশনে ছয়জন নভোচারী একসাথে বৈজ্ঞানিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মিশনের নভোচারীরা এপ্রিল মাসে উৎক্ষেপণের পর থেকে টিয়ংগংয়ে জীবন বিজ্ঞান, মাইক্রোগ্র্যাভিটি পদার্থবিদ্যা এবং মহাকাশ জ্যোতির্বিদ্যার মতো ক্ষেত্রে প্রায় ৯০টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
এই মিশনের প্রেক্ষাপটে চীনের বৃহত্তর মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যার মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা। এই চন্দ্রাভিযানের জন্য চীন লং মার্চ ১০ রকেট এবং মেংঝৌ ও লানইউ নামে নতুন মহাকাশযান তৈরি করছে, যেখানে মেংঝৌ শেনঝৌ ক্যাপসুলের দ্বিগুণ অর্থাৎ ছয়জন নভোচারী বহনে সক্ষম। মস্কোর রাশিয়ান একাডেমি অফ কসমোনটিক্সের সদস্য ইগর মারিনিন উল্লেখ করেছেন যে কক্ষপথের ধ্বংসাবশেষের তীব্র বৃদ্ধির কারণে সকল দেশের মহাকাশযান ও স্টেশনের ক্ষতির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নভোচারীরা পৃথিবীতে অবতরণ করেন তাদের যাত্রা শুরুর প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর, যেখানে একটি লাল ও সাদা ডোরাকাটা প্যারাসুট ব্যবহার করা হয়। তারা চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার ডংফেং অবতরণস্থলে অবতরণ করেন। এই মিশনের সাথে, শেনঝৌ-২১ মিশনে চারটি ইঁদুরও পাঠানো হয়েছিল মাইক্রোগ্র্যাভিটি এবং সীমাবদ্ধতার প্রভাব অধ্যয়ন করার জন্য। ক্ষতিগ্রস্ত শেনঝৌ-২০ মহাকাশযানটি কক্ষপথে রেখে দেওয়া হয়েছে, যেখানে চীন মহাকাশ ধ্বংসাবশেষের আঘাতের প্রভাব বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করবে।