Cape Canaveral থেকে Blue Origin-এর New Glenn রকেটের প্রথম বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ NASA-এর জোড়া EscaPADE উপগ্রহকে মঙ্গলের দিকে পাঠিয়ে দিল।
২০২৫ সালের ১৩ই নভেম্বর, ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে ব্লু অরিজিনের নিউ গ্লেন রকেটে চেপে নাসার এস্কেপ অ্যান্ড প্লাজমা অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ডাইনামিক্স এক্সপ্লোরারস (ESCAPADE) মিশনটি সফলভাবে উৎক্ষেপিত হয়েছে। এই উৎক্ষেপণটি ছিল নিউ গ্লেন রকেটের দ্বিতীয় উড্ডয়ন এবং প্রথম প্রধান বৈজ্ঞানিক পেলোড সরবরাহ, যা বাণিজ্যিক মহাকাশযাত্রার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ চিহ্নিত করে। চরম সৌর ঝড়ের কারণে পূর্বের তারিখ, নভেম্বর ১২, থেকে পিছিয়ে ১৩ তারিখে এই উৎক্ষেপণটি নির্ধারিত হয়েছিল।
Blue Origin-এর New Glenn রকেটের একটি সফল উৎক্ষেপণের পরে, আমাদের ESCAPADE মিশন যাত্রা শুরু করেছে - শেষ পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহের জন্য নির্ধারিত
দুপুর ৩:৫৫:০১ মিনিটে (EST) নিউ গ্লেন বুস্টারের সাতটি BE-4 ইঞ্জিন গর্জন করে ওঠে। উৎক্ষেপণের পর, প্রথম পর্যায়ের বুস্টারটি সফলভাবে আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান 'জ্যাকলিন' প্ল্যাটফর্মে অবতরণ করে, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্যতার ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য। এই আকারের বুস্টারের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো নিখুঁত অবতরণ। নিউ গ্লেন রকেটটি ৯৮ মিটার বা ৩২২ ফুট লম্বা এবং এর প্রথম পর্যায়টি প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন পাউন্ড থ্রাস্ট উৎপন্ন করে।
ESCAPADE মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো সৌর বায়ু কীভাবে মঙ্গলের চৌম্বকীয় পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে এবং এই মিথস্ক্রিয়া কীভাবে গ্রহটির বায়ুমণ্ডলীয় ক্ষয়কে চালিত করে তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা। এই গবেষণা মঙ্গলের জলবায়ু ইতিহাসের রহস্য উন্মোচন করতে এবং ভবিষ্যতের মানব অভিযানের জন্য মহাকাশ আবহাওয়ার প্রভাব থেকে নভোচারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতে পারে। মিশনটির নেতৃত্ব দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-এর স্পেস সায়েন্সেস ল্যাবরেটরি, যেখানে রকেট ল্যাব মহাকাশযান দুটি নির্মাণ করেছে।
এই মিশনের জন্য 'ব্লু' এবং 'গোল্ড' নামে দুটি অভিন্ন মহাকাশযান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-এর প্রাতিষ্ঠানিক রঙের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এই দুটি প্রোব একে অপরের পিছনে একটি 'স্ট্রিং-অব-পার্লস' কক্ষপথে অবস্থান করবে, যা স্বল্প-সময়ের মহাকাশ আবহাওয়ার পরিবর্তনগুলি সমন্বিতভাবে অধ্যয়নের সুযোগ দেবে। মহাকাশযানগুলি প্রায় ১০ মাসের আন্তঃগ্রহীয় ভ্রমণের পর ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে মঙ্গলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যেখানে প্রাথমিক বিজ্ঞান অভিযানটি ২০২৮ সালের সালের জুনে শুরু হওয়ার কথা। এই মিশনটি মঙ্গলের কক্ষপথে দুটি সমন্বিত মহাকাশযানের প্রথম দ্বৈত অভিযান হতে চলেছে।
ESCAPADE মিশনটি নাসার স্মল ইনোভেটিভ মিশনস ফর প্ল্যানেটারি এক্সপ্লোরেশন (SIMPLEx) কর্মসূচির অংশ এবং এটি নাসার হেলিওফিজিক্স ডিভিশন দ্বারা অর্থায়নকৃত। রবার্ট লিলিস, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-এর মিশন লিড, উল্লেখ করেছেন যে এটি মঙ্গলের জন্য প্রথম সমন্বিত বহু-মহাকাশযান বিজ্ঞান মিশন। এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে অর্জিত তথ্য ভবিষ্যতের মানব ও রোবোটিক মিশনের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য হবে।