Chandrayaan-3 Propulsion Module Moon’s Orbit-এ ফিরে যায়, Two Flybys সম্পন্ন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি শেয়ার করে
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-এর চন্দ্রযান-৩ মিশনের প্রোপালশন মডিউল (PM) নভেম্বর ২০২৫-এ চাঁদের প্রভাব বলয়ে (Sphere of Influence - SOI) সফলভাবে প্রবেশ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক মাইলফলক অর্জন করেছে। এই সাফল্য মহাকাশযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসরোর ক্রমবর্ধমান দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা সঞ্চয়কে নির্দেশ করে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ইসরোর টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কমান্ড নেটওয়ার্ক (ISTRAC), বেঙ্গালুরু থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল, যা মহাকাশযানের স্বাস্থ্য এবং গতিপথ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে।
সার্ভিস মডিউল November‑র শুরুতে Moon-এর সাথে দুবার দেখা করবে
মহাকাশযানটি ৪ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে চাঁদের SOI-তে প্রবেশ করে, যার অর্থ হলো চাঁদের মহাকর্ষীয় টান পৃথিবীর টানকে অতিক্রম করে এর গতিপথের প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। এর পরপরই দুটি চন্দ্র প্রদক্ষিণ (Lunar Flyby) সম্পন্ন হয়। প্রথমটি ঘটে ৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে, যখন এটি চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৭৪০ কিলোমিটার উপর দিয়ে অতিক্রম করে, যা ভারতীয় ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক (IDSN)-এর দৃশ্যমানতার সীমার বাইরে ছিল। এই দুটি ফ্লাইবাই মহাকাশযানটির কক্ষপথকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রদক্ষিণটি ১১ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ২৩:১৮ ইউটি-তে সংঘটিত হয়, যেখানে এটি চাঁদের সবচেয়ে কাছে আসে ৪,৫৩৭ কিলোমিটার দূরত্বে, যা IDSN-এর পর্যবেক্ষণ সীমার মধ্যে ছিল।
এই কৌশলগত মহাকাশযান পরিচালনার ফলে প্রোপালশন মডিউলের প্রাথমিক কক্ষপথ, যা ছিল ১০০,০০০ x ৩০০,০০০ কিলোমিটার, তা প্রসারিত হয়ে একটি বিশাল ৪,০৯,০০০ x ৭,২৭,০০০ কিলোমিটারে পরিণত হয়। উপরন্তু, কক্ষপথের নতি বা ইনক্লিনেশন ৩৪ ডিগ্রি থেকে ২২ ডিগ্রিতে হ্রাস পেয়েছে, যা চন্দ্র মহাকর্ষের সূক্ষ্ম প্রভাবকে কাজে লাগানোর প্রমাণ দেয়। চন্দ্রযান-৩ মহাকাশযানটি মূলত ১৪ জুলাই, ২০২৩ তারিখে শ্রীহরিকোটা থেকে এলভিএম৩-এম৪ যানে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল চন্দ্রপৃষ্ঠে নিরাপদ অবতরণ এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা।
ল্যান্ডার এবং রোভার তাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য পূরণের পর, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ট্রান্স-আর্থ ইনজেকশন (TEI) কৌশলের মাধ্যমে প্রোপালশন মডিউলটিকে একটি উচ্চ-উচ্চতার পৃথিবী-কেন্দ্রিক কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছিল। এই নতুন কক্ষপথে, পৃথিবী ও চাঁদের সম্মিলিত মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রগুলির প্রভাবে, মহাকাশযানটি প্রায় দুই বছর ধরে ভ্রমণ করার পর পুনরায় চাঁদের কাছাকাছি আসে। এই বিরল চন্দ্র প্রদক্ষিণগুলি মহাকাশ বিজ্ঞানীদের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ভবিষ্যতের আন্তঃগ্রহীয় মিশনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করছে।
ইসরো জানিয়েছে যে এই প্রক্রিয়াটি মিশন পরিকল্পনা, অপারেশন, ফ্লাইট ডাইনামিক্স এবং বিশেষত ডিস্টার্বেন্স টর্ক (যেমন সৌর বিকিরণ বা অসম মহাকর্ষীয় টান)-এর প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে। মহাকাশযানটির স্বাস্থ্য বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো সংঘর্ষ বা হুমকির সম্মুখীন হয়নি বলে মিশন কন্ট্রোলাররা নিশ্চিত করেছেন। প্রোপালশন মডিউলটি সম্ভবত ১৪ নভেম্বর, ২০২৫-এ চাঁদের SOI ত্যাগ করে পুনরায় পৃথিবীর বিস্তৃত কক্ষপথে ফিরে যাবে, যা এই মহাজাগতিক যাত্রার একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করবে।