একটি নতুন স্বচ্ছ নেইল পলিশ দীর্ঘ নখ वाले মানুষেরা টাচস্ক্রিনগুলো কোন সমস্যা ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবে।
স্টাইলাস হিসেবে কাজ করবে স্বচ্ছ নেলপলিশ: টাচস্ক্রিন ব্যবহারের নতুন দিগন্ত
সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Pin
লম্বা নখ নিয়ে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের টাচস্ক্রিন ব্যবহার করা অনেকের জন্যই বেশ বিড়ম্বনার বিষয়। সাধারণত স্ক্রিনে ট্যাপ করার পরিবর্তে ব্যবহারকারীকে আঙুলের ডগার সাহায্যে একটি নির্দিষ্ট কোণে ডিভাইসটি পরিচালনা করতে হয়। এই সমস্যার একটি অভিনব সমাধান নিয়ে এসেছেন লুইজিয়ানার সেন্টেনারি কলেজের একদল গবেষক। তারা এমন একটি স্বচ্ছ নেলপলিশ উদ্ভাবন করেছেন, যা নখকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টাইলাসে রূপান্তরিত করতে সক্ষম। ২০২৬ সালের ২৩ মার্চ আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির বসন্তকালীন সভায় এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনটি প্রদর্শন করা হয়।
এই উদ্ভাবনের নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী মানসী দেশাইয়ের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। তিনি লক্ষ্য করেন যে, যাদের নখ লম্বা কিংবা যাদের আঙুলের ডগায় কড়া বা ক্যালসাস রয়েছে, তাদের জন্য ডিজিটাল গ্যাজেট ব্যবহার করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই সমস্যা দূর করতে তিনি তার সুপারভাইজার এবং রসায়নবিদ জশুয়া লরেন্সের সাথে মিলে একটি বিশেষ লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি স্বচ্ছ এবং নিরাপদ নেলপলিশ তৈরি করা, যা যেকোনো সাধারণ নেইল পলিশের ওপর প্রলেপ হিসেবে লাগানো যাবে এবং স্মার্টফোনের স্ক্রিন নখটিকে আঙুলের ডগার মতোই সংবেদনশীল হিসেবে শনাক্ত করতে পারবে।
অতীতে এই ধরনের পরীক্ষার জন্য নেলপলিশে ধাতব কণা বা কার্বন ন্যানোটিউব ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই উপাদানগুলো বিষাক্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল এবং নখের ওপর একটি অনুজ্জ্বল ধূসর আভা তৈরি করত, যা দেখতে মোটেও আকর্ষণীয় ছিল না। গবেষক দলটি কয়েক ডজন স্বচ্ছ নেলপলিশ এবং প্রায় ৫০টিরও বেশি রাসায়নিক উপাদান নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। দীর্ঘ গবেষণার পর তারা মডিফাইড টাউরিন এবং ইথানোলামাইনের একটি বিশেষ সংমিশ্রণ বেছে নেন। এখানে কোনো সাধারণ পরিবাহী ফিলার কাজ করে না, বরং স্ক্রিনের সংস্পর্শে এলে প্রলেপটির ভেতরে প্রোটন চলাচল শুরু হয়। এর ফলে পৃষ্ঠের ক্যাপাসিট্যান্স বা ধারকত্বে সামান্য পরিবর্তন আসে, যা টাচস্ক্রিন সেন্সরকে স্পর্শটি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
উদ্ভাবনটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও এটি এখনই সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজারে আসছে না। বর্তমানে এই প্রলেপটি কিছুটা অস্থির আচরণ করছে, বিশেষ করে ইথানোলামাইনের উদ্বায়ী প্রকৃতির কারণে এর কার্যকারিতা মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। গবেষকরা এখন এই ফর্মুলাটিকে আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং সম্পূর্ণ বিষমুক্ত করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তারা ইতিমধ্যে একটি অস্থায়ী পেটেন্ট আবেদন জমা দিয়েছেন এবং পণ্যটির মানোন্নয়নে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদি এই পণ্যটি সফলভাবে বাণিজ্যিক রূপ পায়, তবে এটি কেবল দীর্ঘ নখধারীদের জন্যই নয়, বরং যাদের আঙুলের চামড়া শক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে টাচস্ক্রিন ব্যবহারে সমস্যা হয়, তাদের জন্যও একটি বৈপ্লবিক সমাধান হিসেবে গণ্য হবে।
আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে পরিধানযোগ্য বা অ্যাপ্লাইড টেকনোলজির গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেন্টেনারি কলেজের এই গবেষণাটি প্রমাণ করে যে, দৈনন্দিন প্রসাধনী সামগ্রীকেও কীভাবে উন্নত প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা সম্ভব। এই নেলপলিশটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে এটি স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে যারা ফ্যাশন এবং প্রযুক্তিকে একসাথে মেলাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ উদ্ভাবন হতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির আরও উন্নত সংস্করণ আমাদের দৈনন্দিন ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎসসমূহ
KTBS
Science News
Atlanta Today - National Today
SciTechDaily
RMF 24



