Perplexity Computer
পারপ্লেক্সিটি এআই নিয়ে এলো পারপ্লেক্সিটি কম্পিউটার: স্বায়ত্তশাসিত এআই এজেন্ট সিস্টেমের নতুন দিগন্ত
সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Pin
সান ফ্রান্সিসকো ভিত্তিক মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পারপ্লেক্সিটি এআই (Perplexity AI, Inc.), যা ২০২২ সালের আগস্ট মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে তাদের নতুন উদ্ভাবন 'পারপ্লেক্সিটি কম্পিউটার' (Perplexity Computer) বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। এটি মূলত একটি স্বায়ত্তশাসিত এআই এজেন্ট সিস্টেম যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এর আগে পারপ্লেক্সিটি মূলত একটি উন্নত সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে পরিচিত ছিল যা তথ্যের উৎসহ সঠিক উত্তর প্রদান করত। তবে এই নতুন উদ্বোধনের মাধ্যমে কোম্পানিটি এখন সাধারণ ডিজিটাল কর্মী বা 'ডিজিটাল ওয়ার্কার' সরবরাহের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল।
পারপ্লেক্সিটি কম্পিউটারের প্রধান বিশেষত্ব হলো এটি অত্যন্ত জটিল এবং বহুমুখী কর্মপ্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে। ব্যবহারকারী যদি সাধারণ প্রাকৃতিক ভাষায় কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেন, যেমন— "একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরি করুন" অথবা "একটি গভীর বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন প্রস্তুত করুন", তবে এই সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই কাজগুলো করে দেয়। এই সিস্টেমের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে ওপাস ৪.৬ (Opus 4.6), জেমিনি (Gemini), চ্যাটজিপিটি ৫.২ (ChatGPT 5.2) এবং গ্রোক (Grok)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় মডেলগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। পারপ্লেক্সিটি মনে করে যে, আগামী দিনে বিভিন্ন এআই মডেলের মধ্যে কেবল অদলবদল নয়, বরং নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট মডেলের বিশেষায়িত দক্ষতাই হবে সাফল্যের চাবিকাঠি।
এই সিস্টেমের কার্যপদ্ধতি সাধারণ চ্যাটবটগুলোর তুলনায় অনেক বেশি উন্নত এবং নিরাপদ। এটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন পরিবেশে (isolated environments) কাজ করে, যেখানে এটি নিজস্ব পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় ওয়েব গবেষণা, ফাইল তৈরি ও সম্পাদনা এবং বিভিন্ন এপিআই (API) কল করতে সক্ষম। অরবিন্দ শ্রীনিবাসের (Aravind Srinivas) নেতৃত্বে পরিচালিত এই কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, বর্তমানে তাদের 'পারপ্লেক্সিটি ম্যাক্স' (Perplexity Max) সাবস্ক্রিপশন গ্রহণকারীরা এই সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন, যার মাসিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ ডলার। ভবিষ্যতে 'এন্টারপ্রাইজ ম্যাক্স' ব্যবহারকারীদের জন্যও এই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপটি জেনারেটিভ ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্টের বাজারে প্রতিযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বর্তমানে এই খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হচ্ছে ওপেন-সোর্স প্রকল্প 'ওপেনক্ল' (OpenClaw)-কে। প্রকৌশলী পিটার স্টেইনবার্জার (Peter Steinberger) কর্তৃক তৈরি এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই গিটহাবে (GitHub) ১,৯০,০০০-এর বেশি স্টার অর্জন করে ভাইরাল হয়ে যায়। ওপেনক্ল, যা আগে ক্লড (Clawd) এবং পরবর্তীতে মল্টবট (Moltbot) নামে পরিচিত ছিল, ব্যবহারকারীদের নিজস্ব ডিভাইসে স্থানীয়ভাবে এআই এজেন্ট চালানোর সুবিধা দেয়। এটি পারপ্লেক্সিটি কম্পিউটারের মতো ক্লাউড-ভিত্তিক সমাধানের বিপরীতে ব্যবহারকারীর তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করে। তবে পারপ্লেক্সিটি তাদের এই নতুন পণ্যটিকে একটি বিশাল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরছে, যা সাধারণ চ্যাট টুলের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সম্পূর্ণ কর্মচক্র সম্পন্ন করতে সক্ষম।
বর্তমান বৈশ্বিক বাজারের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, এআই এজেন্ট সিস্টেমের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। ক্রুএআই (CrewAI) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৫০০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে যে, ২০২৬ সালের মধ্যে ১০০% প্রতিষ্ঠানই তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এআই এজেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে ৭৪% উত্তরদাতা একে তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা 'ক্রিটিক্যাল' অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একই সময়ে, অরাসেল (Aurasell)-এর মতো কোম্পানিগুলো সিআরএম (CRM) সিস্টেমের স্বয়ংক্রিয়করণের জন্য এআই অপারেটিং সিস্টেম প্রবর্তন করেছে। এই সব কিছুই প্রমাণ করে যে, বর্তমান কর্পোরেট বিশ্বে এআই এজেন্টের সক্ষমতাকে সরাসরি মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার একটি ব্যাপক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
উৎসসমূহ
Webrazzi
SitePoint
ZDNET
PYMNTS.com
Product with Attitude
Business Today

