১৪ বছরের পুরনো প্রাচীরের পতন: হেপ্টাথলনে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন সাইমন এহ্যামার
লেখক: Svetlana Velhush
এথলেটিক্সের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হলো বিশ্ব। পোল্যান্ডের তোরুন শহরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের বিশ্ব ইনডোর অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে সুইজারল্যান্ডের ২৬ বছর বয়সী তারকা সাইমন এহ্যামার ৬৬৭০ পয়েন্ট অর্জন করে এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন। এই অসাধারণ কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি কিংবদন্তি অ্যাশটন ইটন-এর ২০১২ সাল থেকে টিকে থাকা ৬৬৪৫ পয়েন্টের বিশ্ব রেকর্ডটি ভেঙে চুরমার করে দিলেন। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অক্ষত থাকা এই রেকর্ডটি ভাঙার মাধ্যমে এহ্যামার নিজেকে বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অ্যাথলেট হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
২১ মার্চ, ২০২৬ তারিখটি ক্রীড়া জগতের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। পোল্যান্ডের তোরুন-এ আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় এহ্যামার শুরু থেকেই ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। এই ইভেন্টে রূপা ও ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন দুই মার্কিন অ্যাথলেট। হিথ বল্ডউইন ৬৩৩৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান এবং কাইল গারল্যান্ড ৬২৪৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। তবে সবার নজর ছিল এহ্যামারের দিকে, যিনি প্রতিটি ধাপে নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিলেন।
এই বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পথে এহ্যামারের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল গাণিতিকভাবে নিখুঁত। তিনি প্রতিযোগিতার শুরুতেই ৬০ মিটার স্প্রিন্টে ৬.৬৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন। তবে আসল চমক দেখা যায় দ্বিতীয় দিনে, যখন তিনি ৬০ মিটার হার্ডলসে মাত্র ৭.৫২ সেকেন্ড সময় নেন। এটি হেপ্টাথলনের ইতিহাসে এই ইভেন্টে দ্রুততম সময়। উল্লেখ্য যে, এই টাইমিং গত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মূল হার্ডলস ইভেন্টের ফাইনালে তাকে দ্বিতীয় স্থান এনে দিতে পারত।
চূড়ান্ত ইভেন্ট অর্থাৎ ১০০০ মিটার দৌড়ের আগে সমীকরণটি ছিল বেশ কঠিন। বিশ্ব রেকর্ড স্পর্শ করতে এহ্যামারকে ২ মিনিট ৪৩.২০ সেকেন্ডের কম সময়ে দৌড় শেষ করতে হতো। দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় বরাবরই তার জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিন্তু গ্যালারির দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকারে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি তার জীবনের সেরা দৌড়টি দেন। ২ মিনিট ৪১.০৪ সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করার সাথে সাথেই নতুন বিশ্ব রেকর্ডের আনন্দে মেতে ওঠেন তিনি।
সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাইমন এহ্যামার। তিনি বলেন, "আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এটি আমার কাছে একটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। আমি অসংখ্যবার অ্যাশটন ইটন-এর পারফরম্যান্স দেখেছি এবং তার থেকে শেখার চেষ্টা করেছি। আজ রেকর্ড বুক থেকে তার নাম সরিয়ে নিজের নাম সেখানে বসাতে পেরে আমি গর্বিত।" তার এই বিনয়ী বক্তব্য ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা এহ্যামারকে এক নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেট হিসেবে অভিহিত করছেন। তিনি যেমন লং জাম্পে দক্ষ (যেখানে তিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছেন), তেমনি স্প্রিন্টেও তার গতি অসাধারণ। এই বহুমুখী প্রতিভাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। তোরুন-এর এই জয় তাকে আগামী গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের জন্য আত্মবিশ্বাস জোগাবে, যেখানে তার মূল লক্ষ্য হলো ডেকাথলনে ৯০০০ পয়েন্টের মাইলফলক স্পর্শ করা।
সাইমন এহ্যামারের এই জয় কেবল একটি পদক জয় নয়, বরং এটি অ্যাথলেটিক্সের সীমাবদ্ধতাকে জয় করার গল্প। ৬৬৭০ পয়েন্টের এই নতুন বিশ্ব রেকর্ড আগামী অনেক বছর অ্যাথলেটদের অনুপ্রাণিত করবে। ইনডোর অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে এহ্যামার এখন এক অবিসংবাদিত নাম, যিনি প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক কৌশলের মাধ্যমে যেকোনো 'অজেয়' রেকর্ড ভাঙা সম্ভব।
28 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Olympics.com: Репортаж о втором дне соревнований и двойном рекорде (Эхаммер и Моралес Уильямс).
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



