নোমফুন্ডো মোহ: 'আউট দ্য বক্স' – দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন সঙ্গীতের সুর

লেখক: Inna Horoshkina One

Nomfundo Moh - Soze

দক্ষিণ আফ্রিকার গায়িকা ও গীতিকার নোমফুন্ডো মোহ, যিনি তাঁর গভীর কণ্ঠস্বর এবং আফ্রো-কেন্দ্রিক সঙ্গীত শৈলীর জন্য সুপরিচিত, নতুন গান প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সৃজনশীল যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তাঁর আসল নাম নোমফুন্ডো এনগকোবো। ২০০০ সালের ১৮ জুলাই কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের ন্দওয়েনধওয়েতে তাঁর জন্ম। মাত্র ২৫ বছর বয়সের মধ্যে তিনি শিল্প জগতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্ল্যাটিনাম এবং গোল্ড সার্টিফিকেশন। তাঁর সঙ্গীত জীবনের সূচনা হয়েছিল ২০২১ সালে, যখন তাঁর একক গান ‘লিলিজ়েলা’ প্ল্যাটিনাম মর্যাদা লাভ করে। এরপর ২০২২ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘আমগামা’ও প্ল্যাটিনাম স্বীকৃতি অর্জন করে।

নোমফুন্ডো মোহ-এর নতুন ইপি (এক্সটেন্ডেড প্লে) সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেছে শান্ত অথচ দৃঢ়তার সাথে—ঠিক যেন সকালের আলোর মতো, যা মনোযোগ আকর্ষণের জন্য কোনো উচ্চ চিৎকারের প্রয়োজন রাখে না। এটি যেন এক নীরব ঘোষণা, যা শ্রোতাদের মন কেড়ে নিতে সক্ষম।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই জনপ্রিয় গায়িকা নোমফুন্ডো মোহ ২০২২ সালের শেষ দিকে তাঁর ইপি ‘আউট দ্য বক্স’ প্রকাশ করেন। এই সংকলনে এমন সব গান স্থান পেয়েছে যেখানে অ্যাফ্রো-পপ, থ্রি-স্টেপ এবং মাস্কান্ডি ঘরানার উপাদানগুলি এমনভাবে মিশেছে যা একটি আধুনিক ও স্বতন্ত্র দক্ষিণ আফ্রিকান সঙ্গীতের ধারা তৈরি করেছে। এই কাজে তাঁর সাথে সহযোগিতা করেছেন ডিজে জিনহলে এবং সান-এল মিউজিশিয়ান—এই দুই শিল্পী বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গীত জগতের গতিপথ নির্ধারণ করছেন।

এই প্রকল্পটি কেবল একটি সাধারণ সঙ্গীত প্রকাশনা হিসেবে বিবেচিত নয়; বরং এটিকে একটি সাংস্কৃতিক বক্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে—যা স্থানীয় শৈলীকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। এটি প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক সুরগুলি কীভাবে বৈশ্বিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে পারে।

সঙ্গীতের এই নতুন সুর—যা পৃথিবীর ছন্দে কী যোগ করছে

দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে সঙ্গীত জগতে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে, এবং ‘আউট দ্য বক্স’ ইপি সেই প্রভাবের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। এই ইপি প্রদর্শন করে যে কীভাবে আঞ্চলিক নান্দনিকতা আন্তর্জাতিক ভাষা হয়ে উঠতে পারে। নোমফুন্ডো মোহ-এর সঙ্গীতের বিশেষত্ব হলো এর ছন্দময় পরিচিতি এবং উপস্থাপনার কোমলতা। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি সহজেই ঐতিহ্যবাহী ঘরানার সীমা অতিক্রম করে এমন শ্রোতাদেরও আকর্ষণ করে যারা দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত নন।

যে সঙ্গীত তার সাংস্কৃতিক শিকড়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, তার স্থায়িত্ব অনেক বেশি হয়: এটি তার নিজস্বতা না হারিয়েই বিকশিত হতে পারে। ঠিক এই কারণেই ‘আউট দ্য বক্স’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে—কারণ এটি দেখায় যে কীভাবে স্থানীয় সুর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিলীন না হয়ে বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

এই ইপি-এর আন্তরিকতা এটিকে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; এর সুর এত সহজে বোধগম্য যে মহাদেশের বাইরেও বহু দূরে এর অনুরণন শোনা যায় এবং উপলব্ধি করা যায়। এটি প্রমাণ করে যে খাঁটি শিল্পকলা ভাষা বা ভৌগোলিক সীমানা মানে না।

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।