২০২৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, ভিয়েনার ঐতিহাসিক রাথাউসে (Wiener Rathaus) সেমিফাইনালের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ৭০তম বার্ষিক ইউরোভিশন প্রতিযোগিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কাউন্টডাউন শুরু করে দিয়েছে। এই মর্যাদাপূর্ণ সঙ্গীত প্রতিযোগিতাটি ভিয়েনার উইনার স্টাডথাল্লে (Wiener Stadthalle)-তে আয়োজিত হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১২ই এবং ১৪ই মে, আর চূড়ান্ত পর্বটি হবে ১৬ই মে, ২০২৬ তারিখে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মঞ্চ হিসেবে ইউরোভিশন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা তার নিজস্ব কাঠামো তৈরি করে নেয় এই ড্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। কে কোন সেমিফাইনালে অংশ নেবে, কারা ভোট দেবে এবং কীভাবে দুটি সেমিফাইনালের নাটকীয়তা সাজানো হবে—এই সবকিছুই এই ড্র নির্ধারণ করে দেয়। এটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং ইউরোপীয় সঙ্গীত সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক মিলনক্ষেত্র।
২০২৬ সালের মূল সুরটি হলো রাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে সঙ্গীত পরিবেশন। আয়োজক এবং প্রধান সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুসারে, এবার মোট ৩৫টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। এটি সেমিফাইনাল প্রবর্তনের আগের সময়কালের, অর্থাৎ ২০০৩ সালের পর থেকে সবচেয়ে কম সংখ্যক অংশগ্রহণকারী। এই হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণ হলো গাজায় চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলি সম্প্রচারকারী KAN-এর অংশগ্রহণের প্রতিবাদে বেশ কয়েকটি দেশের বয়কট।
ইউরোভিশন ডট কম (Eurovision.com)-এর মতো আনুষ্ঠানিক সূত্রগুলো ড্রয়ের তারিখ, স্থান এবং প্রতিযোগিতার বিন্যাস নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) বয়কটের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বর্তমান তালিকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেছে। এই বছর প্রতিযোগিতাটি তার юбилей বর্ষে প্রবেশ করছে এমন এক সময়ে, যখন ‘রাজনীতিমুক্ত সীমানা’ নিয়ে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি সামনে এসেছে।
- এই юбилей বছরে প্রতিযোগিতাটি ‘রাজনীতি বহির্ভূত’ থাকার প্রশ্নে এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন।
- কিছু দেশের প্রত্যাবর্তন, যেমন রোমানিয়ার মতো রাষ্ট্রের ফিরে আসা ইঙ্গিত দেয় যে সংকটের মধ্যেও কিছু সম্প্রচারকারী সংস্থা ইউরোভিশনকে নতুন সূচনা এবং সংলাপের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে।
- ‘বিগ ফাইভ’ এবং আয়োজক দেশগুলোকে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেমিফাইনালগুলোতে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের পারফরম্যান্সের ক্রম প্রযোজকরা পরবর্তীতে চূড়ান্ত করবেন।
২০২৬ সালের থিম সং—‘United by Music’—এই বছর এক গভীর অর্থ বহন করছে। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি পরীক্ষা। সঙ্গীত জগৎ এই মুহূর্তে সংঘাত এবং বয়কটের চাপ সামলে নিতে পারবে কিনা, এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের স্থান হিসেবে নিজেকে ধরে রাখতে পারবে কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।
কখনও কখনও সঙ্গীত পৃথিবীর ফাটলগুলোকে আড়াল করে না, বরং সেগুলোকে দৃশ্যমান করে তোলে, যাতে আমরা বুঝতে পারি কোথায় নতুন করে শোনার নীতি প্রয়োজন। ইউরোভিশন ২০২৬ কেবল গানের প্রতিযোগিতা নয়; এটি একটি আয়না, যা দেখায় আমরা কীভাবে একসঙ্গে থাকতে শিখছি, এমনকি যখন মতপার্থক্য সুরের চেয়েও উচ্চকিত হয়। যেমনটি হেনরিখ হাইনে বলেছিলেন, ‘যেখানে শব্দের সমাপ্তি ঘটে, সেখান থেকেই সঙ্গীতের শুরু।’ আশা করা যায়, ইউরোভিশন ২০২৬ ঐক্যের সম্ভাবনাকে মূর্ত করে তোলার একটি ক্ষেত্র হবে।



