ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, প্রখ্যাত সেতার বাদক অনুষ্কা শঙ্কর এবং গায়ক অরিজিৎ সিং সম্প্রতি লন্ডনের টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে এক স্মরণীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। এই যুগান্তকারী আয়োজনটি ছিল যুক্তরাজ্যের কোনো স্টেডিয়ামে কোনো ভারতীয় শিল্পীর প্রথম একক পরিবেশনা। অরিজিৎ সিং প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তাঁর মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
পণ্ডিত রবি শঙ্করের কন্যা অনুষ্কা শঙ্কর এই বিশেষ সহযোগিতার জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সন্ধ্যার অসাধারণ শক্তির কথা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে শঙ্করের সেতারের সুর এবং সিং-এর স্বতন্ত্র কণ্ঠের এক অপূর্ব মিশ্রণ শ্রোতাদের এক অনন্য সঙ্গীত অভিজ্ঞতা প্রদান করে। অরিজিৎ সিং তাঁর পরিবেশনায় 'সাইয়ারা' গানটির একটি রেট্রো সংস্করণ পরিবেশন করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্কা শঙ্কর তাঁর সাম্প্রতিক গ্র্যামি মনোনয়নপ্রাপ্ত অ্যালবাম 'চ্যাপ্টার II: হাউ ডার্ক ইট ইজ বিফোর ডন' এবং 'এ রক সামহোয়্যার' সহ তাঁর আন্তর্জাতিক খ্যাতিকে আরও একবার প্রমাণ করেছেন। এই ঘটনাটি কেবল ভারতীয় সঙ্গীতকেই বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরেনি, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেও নির্দেশ করে।
অরিজিৎ সিং, যিনি বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইতে তাঁর বিশাল ফ্যানবেসের জন্য পরিচিত, তিনি টেইলর সুইফট এবং এড শিরানের মতো তারকাদেরও ছাড়িয়ে গেছেন। তাঁর এই অর্জন প্রমাণ করে যে, ভাষার বাধা অতিক্রম করে সঙ্গীত কীভাবে মানুষের হৃদয় জয় করতে পারে। অনুষ্কা শঙ্করের সঙ্গীতযাত্রা গ্র্যামি পুরস্কারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ২০০২ সালে সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে গ্র্যামি মনোনয়ন লাভ করেন। এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলি বিশ্বজুড়ে ভারতীয় সঙ্গীতের প্রসার এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


