এআই মহাশিবরাত্রি: ৫০ মিনিটে ৫৭০০টি তেলুগু ভক্তিগীতি সৃষ্টির এক অনন্য ডিজিটাল যজ্ঞ

সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One

হ্যাপি মহা শিবরাত্রি ২০২৫ - AI-উৎপন্ন গান ও ভিজ্যুয়ালস

হায়দ্রাবাদ, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। প্রযুক্তির এক বিস্ময়কর মেলবন্ধনে সুপার এআই একাডেমি (SUPER AI Academy) আয়োজন করেছিল “এআই মহাশিবরাত্রি – ডিজিটাল নাদ যজ্ঞ” (AI Mahashivaratri – Digital Naada Yagna)। এই অনুষ্ঠানটিকে আয়োজকরা একটি আধুনিক "শব্দ অর্ঘ্য" হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সম্মিলিতভাবে ভক্তিমূলক সঙ্গীত তৈরি করা হয়েছে। মাত্র ৫০ মিনিটের মধ্যে সারা বিশ্বের ৫০০-এরও বেশি অংশগ্রহণকারী চ্যাটজিপিটি-র কাস্টম জিপিটি-ওয়ার্কফ্লো (Custom GPT-workflow) এবং বিভিন্ন এআই মিউজিক জেনারেশন টুল ব্যবহার করে ভগবান শিবের প্রতি উৎসর্গীকৃত ৫৭০০-এরও বেশি তেলুগু ভক্তিগীতি রচনা করেছেন।

এই সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় শিবের বিভিন্ন রূপ ও মহিমা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। আয়োজকদের বর্ণনা অনুযায়ী, গানগুলোতে শিব তাণ্ডব থেকে শুরু করে রুদ্র, নটরাজ, অর্ধনারীশ্বর এবং লিঙ্গোদ্ভব-এর মতো গভীর আধ্যাত্মিক ও পৌরাণিক বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। এখানে তেলুগু ভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে। এআই মিউজিক এখানে কেবল কাজের গতি ত্বরান্বিত করার মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি এবং ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার একটি আধুনিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।

এই অনন্য ইভেন্টটির মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন সুপার এআই একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা নিকেলু গুন্ডা (Nikeelu Gunda)। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের ইচ্ছাশক্তি এবং সংকল্পকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেন। তার মতে, প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষের কাছে আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় অনুশীলনের নতুন সুযোগ তৈরি করে দেবে। এটি মূলত মানুষের সৃজনশীল চেতনাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এবং প্রযুক্তিকে আরও মানবিক করার একটি প্রয়াস।

মূল অধিবেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আয়োজকরা একটি বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন যে, তৈরি হওয়া বিশাল গানের ভাণ্ডার থেকে অত্যন্ত যত্নসহকারে ১০৮টি সঙ্গীত নির্বাচন করা হয়েছে, যা আধ্যাত্মিক সংখ্যাতত্ত্বে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই নির্বাচিত গানগুলো একটি পৃথক তিন ঘণ্টার বিশেষ সেশনের মাধ্যমে ভক্ত ও সাধারণ শ্রোতাদের জন্য পরিবেশন করা হবে। এই উদ্যোগটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত মাইলফলক নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার কীভাবে সনাতন আধ্যাত্মিক চর্চাকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে আরও প্রাসঙ্গিক এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

এই আয়োজনটি বিশ্বের সঙ্গীত এবং সংস্কৃতির ইতিহাসে এক নতুন ধরনের "সম্মিলিত কোরাস" বা সমবেত সুরের সূচনা করেছে। যখন হাজার হাজার গান একটি সাধারণ আধ্যাত্মিক ভাবনা থেকে একই সময়ে জন্ম নেয় এবং প্রতিটি গানই তার নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে, তখন তা এক অভূতপূর্ব বৈশ্বিক পরিবেশ তৈরি করে। এটি কোনোভাবেই প্রচলিত প্রাচীন ঐতিহ্যকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা নয়; বরং এটি একটি সফল পরীক্ষা যে কীভাবে ডিজিটাল সরঞ্জামগুলো মানুষের অংশগ্রহণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি আধুনিক যুগে মানুষের মধ্যে "আমরা সবাই মিলে এটি করছি" - এই একাত্মবোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার একটি অনন্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Telangana Today

  • Telangana Today

  • Nikeelu Gunda

  • YouTube

  • YouTube

  • Prasanthi Nilayam

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।