ইলোন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি যার সম্পদ ৮০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে: "অর্থ সুখ কিনতে পারে না"

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

ইলোন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে যা আগে কল্পনা করাও কঠিন ছিল। ফোর্বসের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক স্টার্টআপ এক্সএআই (xAI)-এর কৌশলগত একত্রীকরণের পর তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ৮৫২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। তবে এই অবিশ্বাস্য আর্থিক সাফল্যের মাঝেও মাস্ক জনসম্মুখে এক ভিন্নধর্মী দার্শনিক বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, অঢেল অর্থ আসলে মানুষের মনের গভীর সন্তুষ্টি বা প্রকৃত সুখ নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়। তার এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন তিনি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নিজের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছেন।

২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মাস্ক তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি লিখেন, "যিনি প্রথমবার বলেছিলেন যে 'অর্থ সুখ কিনতে পারে না', তিনি আসলে জানতেন তিনি কী বিষয়ে কথা বলছেন।" এই বার্তার সাথে তিনি একটি বিষণ্ণ চেহারার ইমোজিও যুক্ত করেছিলেন, যা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করে। মজার বিষয় হলো, এই আধ্যাত্মিক বার্তার ঠিক পাশেই ছিল তার বিশাল আর্থিক লাভের খতিয়ান। ফোর্বসের তথ্যমতে, স্পেসএক্স এবং এক্সএআই-এর একীভূতকরণের ফলে মাস্কের সম্পদ এক লাফে ৮৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নতুন একীভূত প্রতিষ্ঠানের মোট বাজারমূল্য এখন প্রায় ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এই বিশাল সাম্রাজ্যের ৪৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক স্বয়ং মাস্ক, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫৪২ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে তার ব্যবসায়িক পোর্টফোলিওতে টেসলার চেয়ে স্পেসএক্সের গুরুত্ব এখন অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বরে টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা তার জন্য যে বিশাল ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ অনুমোদন করেছেন, তা থেকে তিনি ভবিষ্যতে আরও ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার পাওয়ার সম্ভাবনা রাখেন।

তবে এই অভূতপূর্ব আর্থিক সাফল্যের মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। মাস্ক এবং তার প্ল্যাটফর্ম 'এক্স' বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে প্রচণ্ড চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে এক্সএআই দ্বারা উদ্ভাবিত চ্যাটবট 'গ্রোক' (Grok) নিয়ে চলমান তদন্তের কারণে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের সাথে মাস্কের একটি তিক্ত প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। এই দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ এবং তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের বিষয়টি। মাদ্রিদ সরকার যখন ৫ লক্ষ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন মাস্কের প্ল্যাটফর্মে সেই সংক্রান্ত ভুল তথ্য বা 'ডিসইনফরমেশন' ছড়ানোর অভিযোগ আনেন সানচেজ। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাস্ক স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীকে "একনায়ক" এবং "স্পেনের জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা নেতা" হিসেবে অভিহিত করেন, যা দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি এবং নতুন আইন প্রণয়নের ফলে 'এক্স'-এর ওপর আইনি চাপ আরও ঘনীভূত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত এক্স-এর প্রধান কার্যালয়ে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হয়। গ্রোক চ্যাটবট ব্যবহার করে অননুমোদিত যৌন চিত্র তৈরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ছবি বা ডিপফেক, শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আপত্তিকর কন্টেন্ট এবং হলোকাস্ট অস্বীকার করার মতো গুরুতর সাইবার অপরাধের তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ফরাসি বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল মাস্ককে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সমন জারি করেছে। একই সাথে ২০ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদেরও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই জটিল আইনি পরিস্থিতির মধ্যেও মাস্ক অবিচল রয়েছেন এবং তার মতে, তার সমস্ত সম্পদ ও প্রচেষ্টা মঙ্গল গ্রহ উপনিবেশ স্থাপনের মতো মানবজাতির বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে নিয়োজিত।

8 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • TUOI TRE ONLINE

  • FMT

  • RestProperty

  • The Star

  • Wikipedia

  • Radio New Zealand

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।