৪৫ বছর বয়সী বিশ্বখ্যাত সুপারমডেল জিসেল বুন্দচেন তার জীবনসঙ্গী এবং জিউ-জিৎসু প্রশিক্ষক জোয়াকিম ভ্যালেন্টের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। প্রাপ্ত বিবাহের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার সার্ফসাইডে একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এই বিশেষ দিনটি তাদের প্রথম সন্তানের জন্মের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে উদযাপিত হলো, যা তাদের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বুন্দচেন এবং ভ্যালেন্টের কোলজুড়ে আসে তাদের প্রথম পুত্রসন্তান। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী, শিশুটির মধ্যনাম রাখা হয়েছে 'রিভার', যা জিসেলের সন্তানদের নাম রাখার ক্ষেত্রে জল বা প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন। উল্লেখ্য যে, এনএফএল কিংবদন্তি টম ব্র্যাডির সাথে জিসেলের ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের সেই ঘরোয়া বিয়ের অনুষ্ঠানে জিসেলের আগের পক্ষের দুই সন্তান, বেঞ্জামিন রেইন এবং ভিভিয়ান লেকও উপস্থিত ছিল।
টম ব্র্যাডির সাথে দীর্ঘ ১৩ বছর সংসার করার পর, জিসেল ২০২৩ সালের জুন মাসে ব্রাজিলীয় জিউ-জিৎসু প্রশিক্ষক জোয়াকিম ভ্যালেন্টের সাথে ডেটিং শুরু করেন। মূলত জিউ-জিৎসু ক্লাসের মাধ্যমেই তাদের বন্ধুত্বের শুরু, যা পরবর্তীতে গভীর প্রণয়ে রূপ নেয়। জোয়াকিম ভ্যালেন্টে একজন সফল উদ্যোক্তা এবং মার্শাল আর্ট বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তিনি তার দুই ভাই পেড্রো এবং গুই-এর সাথে মিয়ামিতে 'ভ্যালেন্টে ব্রাদার্স' একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। জিসেল এবং তার সন্তানেরা ২০২১ সাল থেকেই এই একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেছিলেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের এই বিবাহ অনুষ্ঠানটিকে একটি "অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। জিসেল সবসময়ই তার ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন, আর এই ছোট ও নিভৃত আয়োজনটি ছিল তারই বহিঃপ্রকাশ। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, সন্তানের জন্মের পর এই বিবাহের সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বুন্দচেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে তিনি স্ত্রী এবং মা হিসেবে তার নতুন জীবনের প্রতি গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
জিসেল বুন্দচেনের এই নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্তটি ভক্তদের মাঝে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি এখন এক শান্ত ও স্থিতিশীল পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন। ভ্যালেন্টে পরিবারের সাথে তার এই আত্মিক বন্ধন এবং মিয়ামিতে তাদের যৌথ জীবন যাপন প্রমাণ করে যে, তিনি তার জীবনের এই দ্বিতীয় অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপভোগ করছেন।
সামগ্রিকভাবে, জিসেল এবং জোয়াকিমের এই মিলন কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ফসল। ২০২১ সালে শুরু হওয়া সেই জিউ-জিৎসু প্রশিক্ষণ থেকে আজকের এই বৈবাহিক জীবন পর্যন্ত তাদের যাত্রাটি ছিল অত্যন্ত সাবলীল। বর্তমানে ফ্লোরিডার শান্ত পরিবেশে তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে এক সুখী ও সমৃদ্ধ পারিবারিক জীবন অতিবাহিত করছেন।



