আস্থার স্থাপত্য: কেন ৪৩ বছর ধরে বিয়ে এড়িয়ে চলেছেন কার্ট রাসেল ও গোল্ডি হন

লেখক: Svetlana Velhush

ক্যাপশন: Overboard (Overboard), 1987

হলিউডের পরিবেশে যেখানে দাম্পত্য জীবন প্রায়ই সিনেমার প্রচারণার চেয়েও কম স্থায়ী হয়, সেখানে কার্ট রাসেল এবং গোল্ডি হনের বন্ধনটি এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। তাঁরা ১৯৮৩ সাল থেকে একসঙ্গে আছেন। চার দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে কোনো আনুষ্ঠানিক বিয়ের সনদ বা সম্পদের আইনি ভাগাভাগি ছাড়াই। একটি অখণ্ড পরিবার হয়েও তাঁরা কীভাবে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে সক্ষম হলেন?

এর গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে তাঁদের সচেতন পছন্দের মধ্যে। গোল্ডি হন বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, ‘যেকোনো মুহূর্তে চলে যাওয়ার’ মানসিক স্বাধীনতা আশ্চর্যজনকভাবে তাঁদের দুজনকে প্রতিদিন একে অপরকে নতুন করে বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি প্রতিশ্রুতির অভাব নয়, বরং আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়াই অঙ্গীকারের এক সর্বোচ্চ রূপ।

কার্ট রাসেলও চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য বিরল এক ‘নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্বের’ প্রতিচ্ছবি। ডিজনির শিশু শিল্পী থেকে শুরু করে জন কার্পেন্টারের অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা কিংবা কোয়েন্টিন টারান্টিনোর আধুনিক মাস্টারপিস—সবক্ষেত্রেই তাঁর ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর ভিত্তি করে। এই একই শৃঙ্খলা তিনি তাঁর পারিবারিক জীবনেও প্রয়োগ করেছেন, যেখানে তিনি শুধু তাঁদের সাধারণ পুত্র ওয়ায়াটের জন্যই নন, বরং গোল্ডির আগের সংসারের সন্তানদের জন্যও একজন আদর্শ পিতা হয়ে উঠেছেন।

দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে এটি আমাদের তথাকথিত ‘সনাতন মূল্যবোধ’ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়। দেখা যাচ্ছে যে, একটি মজবুত গৃহের ভিত্তি আইনি নথিপত্র নয়, বরং অভিন্ন নৈতিক আদর্শ এবং একে অপরের পেশাগত উন্নতির প্রতি সমর্থনও হতে পারে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে, যখন বিয়ের সামাজিক কাঠামো বিশ্বজুড়ে এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন তাঁদের এই অভিজ্ঞতা সমাজবিজ্ঞানীদের জন্য একটি জীবন্ত পাঠে পরিণত হয়েছে।

একটি ‘মুক্ত বন্ধন’ কি আনুষ্ঠানিকভাবে করা বিয়ের চেয়েও বেশি টেকসই হতে পারে?

সমাজের কাছে তাঁদের গল্পটি ব্যক্তিগত আগ্রহের সুস্থ বৈচিত্র্যকরণের একটি চমৎকার উদাহরণ। কার্ট মদ্য উৎপাদন এবং বিমান চালনা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, আর গোল্ডি পরিচালনা করছেন ‘MindUP’ (মাইন্ড-আপ) ফাউন্ডেশন, যা শিশুদের মানসিক দৃঢ়তা শেখায়। তাঁরা একে অপরের মাঝে বিলীন হয়ে যাননি, বরং একটি যৌথ ইকোসিস্টেম তৈরি করেছেন যেখানে প্রত্যেকেই একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব হিসেবে টিকে আছেন।

বর্তমানে এই দুই অভিনয়শিল্পীই আশির কোঠা পেরিয়ে গেছেন এবং জনসমক্ষে তাঁদের বিরল উপস্থিতি করুণা নয়, বরং জীবনের গুণগত মানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলে। এটাই তাঁদের ‘বিয়েহীন সম্পর্কের’ মূল প্রাপ্তি—প্রায় অর্ধশতাব্দী পরেও সঙ্গীর প্রতি গভীর আগ্রহ বজায় রাখার ক্ষমতা।

44 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।