পুষ্টিঘন সকালের নাস্তা: বিপাকীয় স্বাস্থ্যের স্থিতিশীলতার ভিত্তি

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

আধুনিক পুষ্টিবিদ্যায় দীর্ঘস্থায়ী শক্তি এবং পরিতৃপ্তি অর্জনের জন্য ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত তাজা খাদ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রবণতা খাদ্যের গুণমানের পাশাপাশি শরীরের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টিবিদরা বর্তমানে এমন প্রাতঃরাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং সামগ্রিক দীর্ঘায়ু বৃদ্ধিতে সহায়ক। এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস একটি সুচিন্তিত জীবনযাত্রার প্রতিফলন ঘটায়।

প্রোটিনের একটি শক্তিশালী উৎস হিসেবে কটেজ চিজ বিশেষভাবে আলোচিত, যা মূলত এর উচ্চ জৈবিক মানসম্পন্ন প্রোটিন, বিশেষত ক্যাসিন-এর উপস্থিতির কারণে। ক্যাসিন প্রোটিন ধীরে ধীরে হজম হয়, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদের পরামর্শ অনুযায়ী, কটেজ পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শরীরের সঠিক কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে। অধিকন্তু, কটেজ পনিরে থাকা ভিটামিন বি-১২ সুস্থ মস্তিষ্কের কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য এবং এটি হোমোসিস্টাইনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যা কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

সুস্থ খাবারের ভিত্তি হওয়া উচিত সম্পূর্ণ শস্যের রুটি, যা জটিল কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার সরবরাহ করে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, লাল গমের আটার রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) সাধারণত ৫৫-এর নিচে থাকে, যা নিম্ন জিআই খাবারের শ্রেণীতে পড়ে এবং এটি রক্তে শর্করার উত্থানকে ধীর করে। অন্যদিকে, সাদা ময়দার রুটির জিআই প্রায় ৭৫ থেকে ৭৭, যা উচ্চ প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের উদাহরণ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারে। ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় কন্টিনেন্টাল হসপিটালসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিগতকৃত খাবার পরিকল্পনায় কম জিআইযুক্ত হোল গ্রেইন টোস্ট অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেয়।

প্রাকৃতিক মিষ্টি এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস হিসেবে রাস্পবেরি ও ব্লুবেরির মতো ফল অপরিহার্য। এই বেরিগুলোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণত কম থাকে, যা রক্তে শর্করার উপর ন্যূনতম প্রভাব ফেলে। এই ফলগুলো ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক কোষীয় স্বাস্থ্য রক্ষা করে। সকালের নাস্তায় ফলমূল অন্তর্ভুক্ত করা খাদ্য বিপাক ক্রিয়া উন্নত করতে সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে দারুচিনির ভূমিকা অনস্বীকার্য। গবেষণায় দেখা গেছে যে দারুচিনির সক্রিয় যৌগ, সিনামালডিহাইড, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। দারুচিনি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য সংক্রমণ মোকাবেলায় সাহায্য করে। পুষ্টিবিদরা প্রায়শই চায়ের সাথে দারুচিনি যোগ করার পরামর্শ দেন যাতে এর রক্তে শর্করা হ্রাসকারী বৈশিষ্ট্যগুলি কাজে লাগানো যায়, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ১০ থেকে ২৯৮ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সহায়ক হতে পারে।

এই সুষম পদ্ধতিটি প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির একটি সমন্বয়, যা বিশেষজ্ঞ নির্দেশিকাগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা দীর্ঘায়ু ও গ্লুকোজ স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদরা প্রায়শই পরামর্শ দেন যে সকালের নাস্তায় ডিম, ওটস, এবং বাদাম ও বীজ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, কারণ এগুলো শক্তি, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস। নিয়মিত এবং সময়মতো সকালের খাবার গ্রহণ একটি স্বাস্থ্য সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়, যা এই ধরনের পুষ্টিকর টোস্টকে একটি আদর্শ প্রাতঃরাশের রুটিনে পরিণত করে। ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে উচ্চ গ্লাইসেমিক যুক্ত ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই ধরনের নিম্ন জিআই প্রাতঃরাশের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

8 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Diario de Navarra

  • HOLA

  • Food News Latam

  • Blog NuOCEV

  • SOCHOB

  • El Confidencial

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।