মাংসের বল পুনরায় গরম করার সঠিক কৌশল ও অভিনব আকার প্রদানের পদ্ধতি
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
ভাজা বা এয়ার-ফ্রাই করা খাদ্যদ্রব্য, যেমন মাংসের বল (মিটবল), পুনরায় গরম করার ক্ষেত্রে শুষ্ক তাপের (Dry Heat) ব্যবহার নিশ্চিত করা অপরিহার্য, যাতে এর বাইরের আবরণটি পুনরায় মচমচে ভাব ফিরে পায়। বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সর্বাধিক সুপারিশকৃত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি নন-স্টিক কড়াই বা প্যানে অল্প আঁচে সেঁকা, একটি এয়ারফ্রায়ার ব্যবহার করা অথবা সামান্য তেল মাখিয়ে ওভেনে গরম করা। এই শুষ্ক তাপ প্রয়োগের ফলে খাবারের আর্দ্রতা বাষ্পীভূত হয় এবং বাইরের অংশটি তার কাঙ্ক্ষিত মচমচে গঠন বজায় রাখে।
অন্যদিকে, মাইক্রোওয়েভ ওভেনে এই জাতীয় খাবার গরম করা কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। মাইক্রোওয়েভের ভেতরের আর্দ্রতা-ভিত্তিক উত্তাপ প্রক্রিয়া খাদ্যের বাইরের অংশকে নরম ও স্যাঁতসেঁতে করে তোলে এবং একই সাথে ভেতরের অংশকে শুষ্ক করে দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে পুষ্টিগুণ, যেমন ভিটামিন বি১২, নষ্ট হতে পারে এবং মাংসের মতো প্রোটিনযুক্ত খাবারে অসমভাবে তাপ পৌঁছানোর কারণে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকিও থেকে যায়। অনেক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন যে ভাজা খাবার পুনরায় গরম করার জন্য এয়ার ফ্রায়ার বা কনভেকশন ওভেন ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর, কারণ এই যন্ত্রগুলো গরম বাতাস সঞ্চালনের মাধ্যমে বাইরের অংশকে খাস্তা করে তোলে, যা তেলে ভাজার মতোই ফল দেয়, তবে তেল ব্যবহারের পরিমাণ অনেক কম থাকে।
খাবার তৈরির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অভিনব কৌশল বর্তমানে জনপ্রিয়তা লাভ করছে, যা সরাসরি হাত দিয়ে মাংসের মিশ্রণ স্পর্শ না করেই মাংসের বল তৈরি করতে সাহায্য করে। এই উদ্ভাবনী পদ্ধতিটি রান্নাঘরের সাধারণ একটি উপকরণ, একটি কাঁচের গ্লাস, ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হয়। এই কৌশলের মূল ভিত্তি হলো গ্লাসের ভেতরের অংশে সামান্য পরিমাণে ময়দা বা আটা ছিটিয়ে নেওয়া, যা মিশ্রণটিকে গ্লাসের গায়ে লেগে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এরপর প্রস্তুতকৃত মাংসের মিশ্রণটি সাবধানে গ্লাসের মধ্যে ঢোকানো হয়।
এই বিশেষ হ্যাকটি ব্যবহার করে গ্লাসের ভেতরের পৃষ্ঠের সাহায্যে মাংসের বলের আকৃতি প্রদান করা হয়। মিশ্রণটি গ্লাসের ভেতরে প্রবেশ করানোর পর, গ্লাসটিকে আলতোভাবে ঘুরিয়ে বা ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাংসের মিশ্রণটিকে একটি নিখুঁত গোলাকার আকৃতি দেওয়া সম্ভব হয়। এই পদ্ধতিটি কেবল পরিচ্ছন্নতাই নিশ্চিত করে না, বরং এটি একটি দ্রুত এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ আকার প্রদানের প্রক্রিয়া হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে, যা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে হাত দিয়ে মাখানোর চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক হতে পারে।
খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে, ভাজাপোড়া খাবার দীর্ঘ সময় মচমচে রাখতে রান্নার পরবর্তী ধাপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাজা খাবার কখনোই এয়ার টাইট বক্সে রাখা উচিত নয়, কারণ এর ফলে সৃষ্ট গরম ভাপ খাবারকে নরম করে দেয়; বরং টিস্যু বা নরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা শ্রেয়, যাতে বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, তৈরি করা ভাজাপোড়া খাবারকে মিডিয়াম আঁচে চুলার নিচে রেখে দিলে তা দীর্ঘ সময় ধরে মচমচে ও উষ্ণ থাকে। এছাড়াও, সিঙ্গাড়া বা সমুচার রুটি তৈরির ময়দায় সামান্য কর্নফ্লাওয়ার এবং চিনি মেশালে তা দীর্ঘস্থায়ী মচমচে ভাব বজায় রাখতে সহায়তা করে। এই কৌশলগুলো অবলম্বন করে খাদ্য প্রস্তুতকারক এবং সাধারণ ভোক্তা উভয়েই তাদের ভাজা খাবারের গুণগত মান এবং পরিবেশনের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে পারেন। শুষ্ক তাপের মাধ্যমে পুনরায় গরম করা এবং অভিনব আকার প্রদানের পদ্ধতি ব্যবহার করে খাদ্যের স্বাদ ও গঠন বজায় রাখা সম্ভব, যা আধুনিক ব্যস্ত জীবনে খাবারের অপচয় হ্রাস করতে সহায়ক।
15 দৃশ্য
উৎসসমূহ
HERALDO
El Periódico
UnoTV
Gastronomía & Cía.
Infobae
El Tiempo
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
