বন্যা কবলিতদের জন্য প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত: ড্রোনে ত্রাণ বিতরণ
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সান্তো ডোমিঙ্গো নর্তে অঞ্চলে মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাবোন নদীর জল উপচে পড়ার কারণে লা সিয়েবা এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৪২টি পরিবারকে দ্রুত খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এই আকাশপথে বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে যে, স্থলপথে পৌঁছানো অসম্ভব এমন স্থানেও দ্রুত এবং নিরাপদে ত্রাণ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
এই অভিযানটি এই অঞ্চলের মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে রাস্তাঘাট ভেঙে গেলে বা এলাকা প্লাবিত হলে প্রচলিত ত্রাণ সরবরাহ পদ্ধতি প্রায়শই ব্যর্থ হয়, কিন্তু ড্রোন এই বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম। এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে, যেখানে সময় জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন, সেখানে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্থা মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে ড্রোনের সুবিধাগুলি উপলব্ধি করছে। উদাহরণস্বরূপ, নেপালে ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ত্রাণ সংস্থাগুলির সাড়াদান প্রচেষ্টাকে সুগম করেছিল। হারিকেন মারিয়ার পরে পুয়ের্তো রিকোতে এবং টেক্সাসে হারিকেন হার্ভির সময়ও ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থান নির্ণয় এবং ত্রাণ সরবরাহে ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছিল।
এই বিশেষ অভিযানে, বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলির কাছে সরাসরি খাদ্য পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, যা তাদের মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়তা করেছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকায় দ্রুত তথ্য সংগ্রহ এবং দুর্গম স্থানে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ড্রোনের অভিযোজন ক্ষমতা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। এই প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে যে, মানবজাতির সম্মিলিত উদ্ভাবনী শক্তি কীভাবে কঠিনতম পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পথ খুঁজে নিতে পারে। যখন সাধারণ পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন আকাশপথের এই সমাধান এক নতুন আশার সঞ্চার করে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান।
উৎসসমূহ
Hoy Digital
Diario Libre
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
