ক্রিস্টোফার নোলানের চলচ্চিত্র নির্মাণ সব সময়ই বাস্তবধর্মী ও স্পর্শযোগ্য অনুভূতির এক লড়াই। সিনেমাকন ২০২৬-এ ‘ওডিসি’র প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই পরিচালক আবারও বড় পর্দার প্রধান রক্ষক হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন; এটি এমন এক প্রকল্প যা প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনী এবং অতি-বাস্তবতার মধ্যকার পার্থক্যকে ঘুচিয়ে দিয়েছে।
মূল খবর হলো—প্রযুক্তির চরম শিখরে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ‘ওডিসি’ হলো শতভাগ ৭০ মিমি আইম্যাক্স ফিল্মে চিত্রায়িত প্রথম চলচ্চিত্র। আগে এটি অসম্ভব ছিল: ক্যামেরার গগনবিদারী শব্দের কারণে অভিনেতাদের সংলাপ শোনা যেত না এবং ক্যামেরার ওজনের কারণে গতিশীল শ্যুটিং করা সম্ভব হতো না। নতুন ওজনে হালকা এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, শব্দহীন ক্যামেরাগুলো নোলানকে আইম্যাক্সের বিশাল প্রযুক্তি এমন সব জায়গায় ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছে, যেখানে আগে কেবল হাতে ধরা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা যেত।
দর্শকদের সামনে ট্রোজান হর্সের একটি দৃশ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে কোনো কম্পিউটার গ্রাফিক্স ছিল না। বাস্তব আকারে তৈরি বিশাল এক কাঠের কাঠামো যেন তার ভার দিয়ে দর্শকদের আক্ষরিক অর্থেই হলের আসনে জেঁকে বসতে বাধ্য করছিল। এটি কেবল একটি দৃশ্যগত প্রভাব নয়, এটি সশরীরে উপস্থিত থাকার এক অনুভূতি তৈরি করে। ওডিসিউস চরিত্রে ম্যাট ডেমন যখন ট্রয়ের দেওয়ালের দিকে তাকান, তখন আমরা কোনো গ্রিন স্ক্রিন নয়, বরং বাস্তবের দিগন্তের ধুলো আর আলো দেখতে পাই।
কাস্টিংয়ের দিক থেকেও এটি বিশাল: ডেমনের সাথে যোগ দিয়েছেন টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে, জেনডায়া এবং রবার্ট প্যাটিনসন। এমন তারকা সমাবেশ ‘ওডিসি’কে এই দশকের প্রধান ব্লকবাস্টারে পরিণত করেছে। পরিচালক ডেমনের এক ক্লান্ত ও কঠোর অবয়বকে প্রাধান্য দিয়েছেন, যা এটিই ফুটিয়ে তোলে যে তার নায়ক কোনো সুপারম্যান নয়, বরং এক সাধারণ মানুষ যার প্রধান শত্রু হলো সময় এবং তার নিজের স্মৃতি।
আপনার কি মনে হয়, কয়েক সেকেন্ডের কন্টেন্টে অভ্যস্ত আধুনিক দর্শকরা ৩০০০ বছরের পুরনো এক মহাকাব্যিক গল্পের গতি ও গভীরতা গ্রহণ করতে পারবে?
ভবিষ্যতে ‘ওডিসি’ গতানুগতিক সিনেমা হলগুলোর অবস্থান আরও দৃঢ় করতে পারে, যা সেগুলোকে আবারও এমন এক জায়গায় পরিণত করবে যেখানে এমন কিছু উপভোগ করা যায় যা বাড়িতে বসে দেখা শারীরিকভাবে অসম্ভব। নোলান কেবল হোমরের কাহিনীকে পর্দায় রূপ দিচ্ছেন না—তিনি একটি মহিমান্বিত শিল্প হিসেবে চলচ্চিত্রের আভিজাত্য পুনরুদ্ধার করছেন। এটি অ্যানালগ প্রযুক্তির এক নবজাগরণ ঘটাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে ফিল্মের মধ্য দিয়ে আসা আলো আজও যেকোনো অ্যালগরিদমের চেয়ে বেশি জাদু ধারণ করে।
২০২৬ সালের ১৭ জুলাইয়ের প্রিমিয়ার হবে চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। স্মার্টফোনের স্ক্রিনে যা কখনও আঁটানো সম্ভব নয়, এমন এক বিশালত্বের ওপর আমরা কি আবার আস্থা রাখতে প্রস্তুত?



