৭৬তম বার্লিনালেতে মার্সেলো মার্টিনেসির চলচ্চিত্র 'নার্সিসো'র বিশ্ব প্রিমিয়ার

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

মার্সেলো মার্টিনেসির পরিচালিত অত্যন্ত প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র 'নার্সিসো' ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ৭৬তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (বার্লিনালে) তার বিশ্ব প্রিমিয়ার সম্পন্ন করেছে। উৎসবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'প্যানোরামা' বিভাগে এই সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়, যা বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র সমালোচক এবং দর্শকদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এটি একটি বহুজাতিক কো-প্রোডাকশন বা যৌথ উদ্যোগের ফসল, যেখানে প্যারাগুয়ে, ব্রাজিল, পর্তুগাল, জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স এবং উরুগুয়ের মতো দেশগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। গুইডো রদ্রিগেজ আলকালার বিখ্যাত একই নামের সাহিত্যকর্মের ওপর ভিত্তি করে এই চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে, যা এর কাহিনীকে এক গভীর ও মননশীল ভিত্তি প্রদান করেছে।

চলচ্চিত্রটির পটভূমি সাজানো হয়েছে ১৯৫৮ থেকে ১৯৫৯ সালের প্যারাগুয়ের প্রেক্ষাপটে, যা ছিল দেশটিতে সামরিক শাসনের এক চরম উত্তাল ও ক্রান্তিকাল। গল্পের মূল আবর্ত তৈরি হয়েছে একজন অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং প্রভাবশালী রেডিও উপস্থাপক নার্সিসোকে ঘিরে। সেই সময়ে আমেরিকান রক-অ্যান্ড-রোল সংগীতের আমদানির মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং তার এই পরিচিতি তাকে অজান্তেই স্বাধীনতার এক জীবন্ত প্রতীকে পরিণত করে। তবে তার এই উত্থান এবং রহস্যময় মৃত্যু কাহিনীটিকে একটি রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক থ্রিলারে রূপান্তর করেছে। সিনেমাটি মূলত আত্মপরিচয়ের সংকট, সামাজিক টানাপোড়েন এবং স্বৈরাচারী ক্ষমতার সাথে আধুনিক সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যে সংঘাত, তা অত্যন্ত নিপুণভাবে পর্দায় তুলে ধরেছে।

পরিচালক মার্সেলো মার্টিনেসি, যিনি ১৯৭৩ সালে আসুন্সিয়ন শহরে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি বার্লিনালের মঞ্চে নতুন কোনো নাম নন। এর আগে ২০১৮ সালে তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'দ্য এয়ারেসেস' (The Heiresses) বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছিল এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ 'সিলভার বিয়ার' সহ আলফ্রেড বাউয়ার পুরস্কার জয় করেছিল। 'নার্সিসো' চলচ্চিত্রে মার্টিনেসি তার পরিচালনার শৈলীতে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। যেখানে তার আগের কাজে নারী মনস্তত্ত্বের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ প্রাধান্য পেয়েছিল, সেখানে এই নতুন চলচ্চিত্রে তিনি পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক পরিবেশ এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের প্রকাশ্য রূপকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চিত্রায়িত করেছেন। এটি পরিচালকের শৈল্পিক বিবর্তনের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চলচ্চিত্রটিতে নাম ভূমিকায় অর্থাৎ নার্সিসোর চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন ডিরো রোমেরো। তার চারপাশের চরিত্রগুলোর মধ্যে রেডিও স্টেশনের পরিচালক লুলু হিসেবে ম্যানুয়েল কুয়েঙ্কাকে দেখা যায়, যিনি স্থানীয় লোকজ ঐতিহ্যের পরিবর্তে আধুনিক রক-অ্যান্ড-রোল সংস্কৃতি প্রবর্তনের মাধ্যমে এক নতুন পরিবর্তনের সূচনা করতে চান। এছাড়াও মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিস্টার ওয়েসনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রখ্যাত অভিনেতা নাহুয়েল পেরেজ বিস্কায়ার্ট। ১০১ মিনিট দীর্ঘ এই সিনেমাটি মূলত স্প্যানিশ এবং গুয়ারানি ভাষায় সংলাপের মাধ্যমে এগিয়ে চলে, যা এর ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে আরও জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। ভাষার এই বৈচিত্র্য চলচ্চিত্রটিকে এক আন্তর্জাতিক মান প্রদান করেছে।

৭৬তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবটি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এবারের উৎসবের আন্তর্জাতিক জুরির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কিংবদন্তি জার্মান চলচ্চিত্র নির্মাতা উইম ওয়েন্ডার্স, যার উপস্থিতি উৎসবের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 'নার্সিসো' চলচ্চিত্রটি উৎসবের শুরুতেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং প্যারাগুয়েসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর বাণিজ্যিক মুক্তির তারিখগুলো বর্তমানে চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশক এবং প্রযোজনা সংস্থাগুলো এই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের প্রেক্ষাগৃহের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ABC Digital

  • ABC Color

  • Wikipedia

  • ABC Color

  • Programa Ibermedia

  • ABC Color

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।