মর্গান ফ্রিম্যানের বর্ণনায় নেটফ্লিক্সে আসছে চার পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ‘ডাইনোসরস’: স্টিভেন স্পিলবার্গের নতুন চমক

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স তাদের আসন্ন চার পর্বের প্রামাণ্যচিত্র সিরিজ ‘ডাইনোসরস’ (Dinosaurs)-এর প্রিমিয়ারের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। ২০২৬ সালের ৬ মার্চ এই বিশেষ প্রকল্পটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সামনে উন্মোচিত হবে। এই সিরিজের মাধ্যমে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ এবং তার বিশ্বস্ত প্রযোজনা সংস্থা ‘অ্যাম্বলিন এন্টারটেইনমেন্ট’ (Amblin Entertainment) আবারও বিজ্ঞানভিত্তিক ও তথ্যচিত্রের জগতে তাদের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লাইফ অন আওয়ার প্ল্যানেট’ প্রকল্পের পর এটি নেটফ্লিক্সের সাথে স্পিলবার্গের নতুন একটি বড় মাপের সৃজনশীল কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রাগৈতিহাসিক এই বিশ্বকে পর্দায় নিখুঁতভাবে জীবন্ত করে তোলার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত স্টুডিও ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইট অ্যান্ড ম্যাজিক’ (ILM)-কে। এই স্টুডিওটি ইতিপূর্বে ‘জুরাসিক পার্ক’ চলচ্চিত্রে তাদের অসাধারণ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বা ভিএফএক্স কাজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিল। সিরিজের প্রতিটি পর্বে ধারাভাষ্যকার হিসেবে থাকছেন কিংবদন্তি অভিনেতা মর্গান ফ্রিম্যান। নেটফ্লিক্সের সাথে এটি তার তৃতীয়বারের মতো কাজ, এর আগে তিনি ‘আওয়ার ইউনিভার্স’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে তার গম্ভীর ও আকর্ষণীয় কণ্ঠ দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। এই প্রামাণ্যচিত্রটি ট্রায়াসিক যুগ থেকে শুরু করে ডাইনোসরদের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময়ের বিবর্তনীয় পথ পরিক্রমা অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরবে।

সিরিজটির ট্রেইলারে এই মহাকাব্যিক কাহিনীর বিশালতা ফুটে উঠেছে, যেখানে টি-রেক্সের (Tyrannosaurus Rex) মতো ভয়ংকর শিকারি থেকে শুরু করে প্লাটিওসরাস (Plateosaurus) এবং ম্যামেনচিসরাসের (Mamenchisaurus) মতো বিশালাকার তৃণভোজী প্রাণীদেরও দেখা গেছে। ডাইনোসরদের উত্থান, তাদের আধিপত্য বিস্তার, বিবর্তনীয় পরিবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত তাদের পতনের প্রতিটি ধাপ এখানে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এছাড়া ট্রেইলারে মারাসুচাস, প্লিওসরাস, আনচিওরনিস এবং লংজিপ্টেরিক্সের মতো বৈচিত্র্যময় প্রজাতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা দর্শকদের এই চার পর্বের সিরিজে এক অনন্য এবং বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই প্রকল্পটি মূলত নেটফ্লিক্সের প্রকৃতি বিষয়ক তথ্যচিত্রের ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

স্টিভেন স্পিলবার্গ ১৯৮০ সালে অ্যাম্বলিন এন্টারটেইনমেন্ট প্রতিষ্ঠা করার পর থেকেই বিশ্ব চলচ্চিত্রে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করে চলেছেন এবং তার সেই উত্তরাধিকার এই সিরিজের মাধ্যমেও অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, জর্জ লুকাস প্রতিষ্ঠিত আইএলএম (ILM) কম্পিউটার গ্রাফিক্সের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘জুরাসিক পার্ক’-এ ডাইনোসরদের বাস্তবসম্মত রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। আশা করা হচ্ছে যে, ‘ডাইনোসরস’ সিরিজটি কেবল একটি দৃশ্যমান পুনর্নির্মাণই হবে না, বরং এটি আধুনিক প্যালিওন্টোলজিক্যাল বা জীবাশ্ম বিজ্ঞানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে। ‘প্ল্যানেট আর্থ’-এর পেছনের দক্ষ টিমের সাথে স্পিলবার্গের এই সমন্বয় সাধারণ দর্শকদের কাছে জটিল বৈজ্ঞানিক তথ্যকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও উন্নত মানের সিনেমাটিক শৈলীতে পৌঁছে দেবে।

সামগ্রিকভাবে, এই প্রামাণ্যচিত্রটি দর্শকদের কোটি কোটি বছর আগের পৃথিবীর রহস্য উন্মোচনের এক রোমাঞ্চকর সুযোগ করে দেবে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মর্গান ফ্রিম্যানের জাদুকরী কণ্ঠস্বরের মিশেলে ২০২৬ সালের এই মুক্তিটি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান ও ইতিহাস প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে সিনেমা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এটি কেবল একটি টেলিভিশন প্রোগ্রাম নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • B92

  • Animation World Network

  • Discover Wildlife

  • Vital Thrills

  • Index.hr

  • The Hollywood Reporter

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।