রাফালো ও হেমসওয়ার্থ অভিনীত ক্রাইম থ্রিলার 'ক্রাইম ১০১' ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাচ্ছে
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বজুড়ে রূপালী পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে রোমাঞ্চকর ক্রাইম থ্রিলার 'ক্রাইম ১০১' (Crime 101)। এই চলচ্চিত্রটি মূলত প্রখ্যাত লেখক ডন উইনস্লোর ২০২০ সালে প্রকাশিত একই নামের একটি জনপ্রিয় ছোটগল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে। অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওসের (Amazon MGM Studios) এই বিশাল আয়োজনে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় জুটি বাঁধছেন হলিউডের দুই মহাতারকা—মার্ক রাফালো এবং ক্রিস হেমসওয়ার্থ। রাফালো এখানে তার পরিচিত ঘরানার একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করছেন, অন্যদিকে হেমসওয়ার্থকে দেখা যাবে একজন অত্যন্ত চতুর এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা রত্ন চোরের ভূমিকায়। ছবিটির পরিচালনার গুরুভার সামলেছেন বার্ট লেটন, যিনি এর আগে 'আমেরিকান অ্যানিম্যালস' এবং 'দ্য ইমপোস্টার'-এর মতো মাস্টারপিস তৈরি করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মাইক ডেভিসকে (ক্রিস হেমসওয়ার্থ) কেন্দ্র করে, যিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ এবং পেশাদার চোর। লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত হাইওয়ে ১০১ বরাবর একের পর এক দুঃসাহসিক রত্ন চুরির ঘটনা ঘটিয়ে তিনি পুলিশকে নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছেন। তবে ডেভিস সাধারণ কোনো অপরাধী নন; তিনি একটি কঠোর ব্যক্তিগত নৈতিক কোড বা নিয়ম মেনে চলেন। তিনি কখনোই মাদকাসক্তদের সাথে কাজ করেন না, অপ্রয়োজনীয় লোভ দেখান না এবং কাউকে শারীরিক আঘাত করা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি একবার তিনি গাড়ির ডিকিতে আটকে রাখা এক নিরাপত্তা রক্ষীর জন্য পানির ব্যবস্থা করে তার মানবিক দিকটিও ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তার এই নিখুঁত এবং সুশৃঙ্খল অপরাধের ধারা বছরের পর বছর ধরে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন অভিজ্ঞ ডিটেকটিভ লু লুবসনিক (মার্ক রাফালো)। এই ধুরন্ধর চোর এবং জেদি গোয়েন্দার ইঁদুর-বেড়াল লড়াইয়ের মাঝে প্রবেশ করেন বীমা ব্রোকার শ্যারন কুম্বস (হলি বেরি), যিনি নিজের জীবনের এক কঠিন পরিস্থিতির কারণে অপরাধীর সাথে হাত মেলাতে বাধ্য হন।
'ক্রাইম ১০১' চলচ্চিত্রটি মার্ক রাফালোর সাম্প্রতিক সমালোচক-নন্দিত সিরিজ 'টাস্ক' (Task)-এর সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই দর্শকদের সামনে আসছে। পরিচালক বার্ট লেটন, যিনি ২০১২ সালে তার অসাধারণ তথ্যচিত্র 'দ্য ইমপোস্টার'-এর জন্য শ্রেষ্ঠ নবাগত পরিচালক হিসেবে বাফটা (BAFTA) পুরস্কার অর্জন করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে 'আমেরিকান অ্যানিম্যালস' দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, এই প্রথম একটি সম্পূর্ণ ফিকশনধর্মী বা আখ্যানমূলক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করছেন। লেটন মূলত অপরাধীদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা এবং নৈতিকভাবে অস্পষ্ট বা ধূসর চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে পছন্দ করেন। এই ছবিতে হেমসওয়ার্থ, রাফালো এবং বেরি ছাড়াও একঝাঁক তারকা অভিনয় করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যারি কেওগান, মনিকা বারবারো, কোরি হকিন্স, জেনিফার জেসন লেই এবং কিংবদন্তি অভিনেতা নিক নোল্টি।
২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি লন্ডনে এই চলচ্চিত্রটির রাজকীয় ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সনি পিকচার্স রিলিজিং ইন্টারন্যাশনালের পরিবেশনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে এটি বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস এই প্রজেক্টটির গুরুত্ব বিবেচনা করে একে সরাসরি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি না দিয়ে প্রেক্ষাগৃহে বড় পরিসরে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় ১৪০ মিনিটের এই দীর্ঘ চলচ্চিত্রটি দর্শকদের একটি টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন লস অ্যাঞ্জেলেসের রহস্যময় জগতে নিয়ে যাবে। সমালোচকদের মতে, এটি একটি নিখুঁতভাবে নির্মিত এবং শক্তিশালী চিত্রনাট্যের থ্রিলার হতে যাচ্ছে, যা দর্শকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোমাঞ্চিত রাখবে।
পরিশেষে বলা যায়, 'ক্রাইম ১০১' কেবল একটি সাধারণ অ্যাকশন সিনেমা নয়, বরং এটি মানুষের নৈতিকতা এবং পেশাদারিত্বের এক অনন্য লড়াইয়ের গল্প। ডন উইনস্লোর শক্তিশালী কাহিনী এবং বার্ট লেটনের শৈল্পিক পরিচালনার সংমিশ্রণে এটি ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা সিনেমা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। হাইওয়ে ১০১-এর প্রেক্ষাপটে মাইক ডেভিসের নিখুঁত পরিকল্পনা এবং ডিটেকটিভ লু লুবসনিকের নিরলস ধাওয়া দর্শকদের এক অবিস্মরণীয় সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা উপহার দেবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ধূসর অপরাধ জগতের এই চিত্রায়ন বড় পর্দায় দেখার জন্য চলচ্চিত্র প্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
5 দৃশ্য
উৎসসমূহ
British GQ
Cinema Express
Wikipedia
The Guardian
HELLO! Magazine
98 Rock
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।