আগামী ১০ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে ৭৮তম লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্ব মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে রোমানিয়ার খ্যাতিমান পরিচালক রাদুক জুডের নতুন চলচ্চিত্র 'ড্রাকুলা'। এই প্রতীক্ষিত ছবিটি উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। 'ড্রাকুলা' চলচ্চিত্রটি ভ্যাম্পায়ার কিংবদন্তি এবং ঐতিহাসিক চরিত্র ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার (Vlad Țepeș)-এর জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত। পরিচালক রাদুক জুড এই ছবিতে বিভিন্ন ধরনের বর্ণনামূলক শৈলী ব্যবহার করেছেন, যেখানে পাল্প থেকে অ্যাভান্ট-গার্ড, গ্রোটস্ক থেকে হাইপার-রিয়ালিস্টিক – নানা উপাদানের মিশ্রণ দেখা যাবে। ছবিটি ১৭০ মিনিটের দীর্ঘ এবং এতে অ্যাডোনিস ট্যানটা (Adonis Tanța) ও গ্যাব্রিয়েল স্পাহিউ (Gabriel Spahiu)-এর মতো অভিনেতারা অভিনয় করেছেন।
ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার, যিনি ভ্লাদ ড্রাকুলা নামেও পরিচিত, ছিলেন পঞ্চদশ শতাব্দীর একজন রোমানিয়ার শাসক। তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং তাঁর নিষ্ঠুর শাসনের জন্য পরিচিত। তাঁর এই ঐতিহাসিক চরিত্রটিই পরবর্তীতে ব্রাম স্টোকারের বিখ্যাত 'ড্রাকুলা' উপন্যাসের মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। রাদুক জুডের এই নতুন চলচ্চিত্রটি কেবল ভ্লাদের কিংবদন্তিই নয়, বরং রোমানিয়ার নিজস্ব প্রেক্ষাপটে এই চরিত্রের এক নতুন ব্যাখ্যা তুলে ধরবে। লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসব, যা ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিল্পকলার স্বাধীনতার পুনর্জন্মের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে সাহসী, অ্যাভান্ট-গার্ড এবং উদ্ভাবনী চলচ্চিত্র নির্মাণকে সম্মানিত করে। সুইজারল্যান্ডের লেক ম্যাজিওরের তীরে অবস্থিত লোকার্নো শহর প্রতি বছর ১১ দিন ধরে চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করে, যেখানে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার দর্শক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং শিল্পীরা একত্রিত হন। এই উৎসবটি নতুন ধারণা, চিত্র এবং প্রকল্পের বিকাশের একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। 'ড্রাকুলা' চলচ্চিত্রটি রোমানিয়া, অস্ট্রিয়া, লুক্সেমবার্গ এবং ব্রাজিলের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত। এর বাজেট প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ইউরো। রোমানিয়ার জাতীয় চলচ্চিত্র কেন্দ্র প্রায় ৫০০,০০০ ইউরো অনুদান দিয়েছে। ছবিটি চিত্রগ্রহণের জন্য সিঘিসোরা (Sighișoara) এবং বুখারেস্টের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলি ব্যবহার করা হয়েছে। লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্ব প্রিমিয়ারের পর, 'ড্রাকুলা' ছবিটি আগামী ১০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে রোমানিয়ার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। এই চলচ্চিত্রটি রোমানিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির সিনেমার ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করবে।