জার্মান যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'টাইগার' সীমিত মুক্তির পর প্রাইম ভিডিওতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

জার্মান যুদ্ধভিত্তিক ড্রামা 'টাইগার' (আসল নাম 'Der Tiger') ২ জানুয়ারি ২০২৬-এ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিওতে আত্মপ্রকাশ করার পর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। অ্যামাজন অরিজিনালসের প্রথম জার্মান চলচ্চিত্র হিসেবে এটি প্রেক্ষাগৃহে সীমিত পরিসরে মুক্তির পর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির মতো প্রধান বৈশ্বিক বাজারগুলোতে এটি দর্শকপ্রিয়তার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। যদিও প্ল্যাটফর্মটি সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, তবে সাত দিনের দর্শক সংখ্যার ভিত্তিতে এটি অ্যামাজনের জার্মান অরিজিনাল চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ভিউয়ারশিপের এক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন ডেনিস গানসেল, যিনি 'দ্য ওয়েভ' (Die Welle) এবং 'বিফোর দ্য ফল' (NaPolA)-এর মতো প্রশংসিত কাজের জন্য সুপরিচিত। তিনি আইরিশ লেখক কলিন টিভানের সাথে যৌথভাবে এর চিত্রনাট্যও লিখেছেন। সিনেমার কাহিনী ১৯৪৩ সালের পূর্ব রণাঙ্গনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত, যখন স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধের পর জার্মান বাহিনী পিছু হটছিল। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি 'টাইগার' ট্যাংকের পাঁচজন ক্রু সদস্য, যাদের শত্রুপক্ষের সীমানার গভীরে একটি অত্যন্ত গোপন মিশনে পাঠানো হয়। চলচ্চিত্রটি কেবল তাদের শারীরিক যাত্রাই নয়, বরং তাদের নৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাও ফুটিয়ে তুলেছে, যা নাৎসি বাহিনীর সরবরাহকৃত মেথামফেটামিন ব্যবহারের ফলে আরও জটিল আকার ধারণ করে।

এই চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন ডেভিড শুটার, যিনি কমান্ডার ফিলিপ গারকেনসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও লরেন্স রুপ, লিওনার্ড কুনজ, সেবাস্টিয়ান উরজেন্ডোস্কি এবং ইয়োরান লাইখার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ক্রু সদস্যদের মূল লক্ষ্য ছিল কর্নেল পল ফন হার্ডেনবার্গকে রেড আর্মির হাত থেকে উদ্ধার করা, যিনি গারকেনসের একজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন। মিশন চলাকালীন তারা সোভিয়েত এসইউ-১০০ (SU-100) ট্যাংক ধ্বংসকারীর মুখোমুখি হয়। তবে ঐতিহাসিকভাবে এটি একটি অসঙ্গতি হিসেবে বিবেচিত, কারণ এই যুদ্ধযানগুলো ১৯৪৫ সালের জানুয়ারির আগে রণাঙ্গনে দেখা যায়নি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, 'টাইগার' ট্যাংক (Panzerkampfwagen VI Ausf.H) হেনশেল কোম্পানি এবং এরউইন আডারসের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৪২ সালের আগস্টে প্রথমবার যুদ্ধে ব্যবহৃত এই ট্যাংকটি তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বর্ম এবং অস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধযান ছিল। প্রায় ৫৭ টন ওজনের এই ট্যাংকে পাঁচজন ক্রু সদস্য থাকতেন এবং এতে একটি ৮৮ মিমি প্রধান গান ছিল। তবে সোভিয়েত টি-৩৪ (T-34) ট্যাংকের তুলনায় এটি কিছুটা মন্থর ও অগোছালো ছিল। চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ ২০২৩ সালের শেষের দিকে চেক প্রজাতন্ত্রে সম্পন্ন হয় এবং এটি অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস জার্মানি ও প্যান্টালিয়ন ফিল্মসের একটি উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

স্ট্রিমিং বাজারে এই ছবির অভাবনীয় সাফল্য বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্মগুলোর বর্তমান কৌশলগত প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে। বর্তমানে স্ট্রিমিং সাইটগুলো কেবল গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে মুনাফা বৃদ্ধির দিকে বেশি নজর দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক কন্টেন্টের বৈশ্বিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সক্রিয়ভাবে বিদেশি চলচ্চিত্র সংগ্রহ ও নির্মাণ করছে। দর্শকরা 'টাইগার' চলচ্চিত্রে যুদ্ধের চরম পরিস্থিতির মধ্যে ক্রু সদস্যদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের প্রশংসা করেছেন। এই চলচ্চিত্রটি প্রমাণ করে যে, আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত গল্পও সঠিক নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মন জয় করতে পারে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Deadline

  • Screen Rant

  • ComingSoon.net

  • Screen Rant

  • CBR

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।