২০২৬ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পার্ক যুগের’ সূচনা করতে যাচ্ছে। ৭৯তম আসরের জুরি প্রধান হিসেবে দক্ষিণ কোরীয় এই স্বপ্নদ্রষ্টা নির্মাতার মনোনয়ন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিশ্ব চলচ্চিত্রের কেন্দ্রবিন্দু যে চিরতরে বদলে গেছে, এটি তারই স্বীকৃতি। একসময় ‘ওল্ডবয়’ চলচ্চিত্রে হাতুড়ির আঘাতে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরাকে চমকে দেওয়া পার্ক চ্যান-উক এবার নির্ধারণ করবেন বর্তমান সময়ে ‘উচ্চমার্গীয় শিল্প’ বলতে ঠিক কী বোঝায়।
তাঁর নেতৃত্বে জুরি বোর্ড থেকে ঠিক কী প্রত্যাশা করা যায়? পার্ক তাঁর দৃশ্যায়নের নিখুঁত সৌন্দর্য এবং যান্ত্রিক সূক্ষ্মতার প্রতি গভীর অনুরাগের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। প্রতিযোগীদের জন্য এর সোজাসাপ্টা মানে হলো: নিজস্ব শৈলীহীন সাধারণ কোনো নাট্যধর্মী সিনেমা এ বছর হালে পানি পাবে না। ২০২৬ সালের আয়োজনে এশিয়ার আধিপত্য স্পষ্ট: হামাগুচির বিষণ্ণ রূপকথা থেকে শুরু করে না হং-জিনের অন্ধকারাচ্ছন্ন থ্রিলার—সবই আছে এখানে। এই ধরনের সিনেমা নান্দনিক ধাক্কার মধ্য দিয়ে দর্শকের কাছ থেকে গভীর সহমর্মিতা দাবি করে।
এই মৌসুমে হলিউডকে অস্বাভাবিকভাবে নিস্প্রভ দেখাচ্ছে। স্টুডিওর কর্তাব্যক্তিরা যখন বাজেট কমানো আর এআই-নির্ভর সিক্যুয়েল তৈরিতে ব্যস্ত, কান তখন ‘নিজস্ব ঘরানার শিল্পকর্মের’ এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হচ্ছে। উৎসবের তালিকায় থাকা একমাত্র বড় বাজেটের সিনেমা আন্তোনিন বড্রির ঐতিহাসিক মহাকাব্য ‘ব্যাটল অব গল’—এটি মূলত বিশাল ক্যানভাসে শৈল্পিক মতপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষাকেই জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলে।
মনোনয়ন তালিকায় নিজ দেশের নির্মাতাদের রেকর্ডসংখ্যক উপস্থিতির মুখে পার্ক চ্যান-উক কি পারবেন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে? সম্ভবত, সহকর্মীদের প্রতি তাঁর প্রত্যাশার মানদণ্ড এবার আরও উঁচুতে থাকবে। আমরা এমন এক উৎসবের সাক্ষী হতে যাচ্ছি যেখানে নিষ্ঠুরতা মিশে যাবে কোমলতায়, আর বাহ্যিক রূপান্তর খুঁজে পাবে গভীর দার্শনিক অর্থ।
দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিতে, জুরি বোর্ডের এই ধরনের নেতৃত্ব মানসম্পন্ন চলচ্চিত্রের নতুন মানদণ্ড হিসেবে ‘চরম শৈল্পিক স্বকীয়তা’কে স্বীকৃতি দিচ্ছে। ২০২৬ সালের কান উৎসব এমন এক মুহূর্তের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যেখানে সিনেমা নিছক বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে ফিরে যাবে তার শেকড়ে—হয়ে উঠবে আমাদের সবচেয়ে গোপন ভয় আর আশার এক প্রতিফলন।
আমরা কি প্রস্তুত এমন একটি চলচ্চিত্রের হাতে ‘পাম ডি’অর’ উঠতে দেখতে, যা হয়তো আমাদের অস্বস্তিতে ফেলবে, কিন্তু তার অপার্থিব সৌন্দর্যে আমাদের বাকরুদ্ধ করে দেবে?



