第38回アムステルダム国際ドキュメンタリー映画祭(International Documentary Film Festival Amsterdam)で上映される、2021年12月に起きたアルゼンチンでの暴動を題材にしたLucas Gallo監督"Diciembre"(December)の国際販売権をブエノスアイレスを拠点とするCompañía de Cineが獲得した模様(Deadline)
আর্জেন্টিনার নতুন আর্থিক সহায়তার আবহে ২০০১ সালের সংকট নিয়ে তথ্যচিত্র ‘ডিসেম্বর’ মুক্তি
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
পরিচালক লুকাস গ্যালো নির্মিত তথ্যচিত্র ‘ডিসেম্বর’ (Diciembre) আন্তর্জাতিক ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আমস্টারডাম (IDFA)-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এই উৎসবটি ২০২৫ সালের ১৩ থেকে ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সম্পূর্ণ আর্কাইভ ফুটেজ ব্যবহার করে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি ২০০১ সালের শেষ থেকে ২০০২ সালের শুরুর দিকে আর্জেন্টিনায় ঘটে যাওয়া তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেছে। এই ঐতিহাসিক আখ্যানটির প্রিমিয়ার এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন আর্জেন্টিনা নতুন করে আর্থিক অস্থিরতার সম্মুখীন, যা এর প্রাসঙ্গিকতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আর্জেন্টিনার বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রাস্ফীতির কারণে চিহ্নিত, যা ২০২৩ সালে ২১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই চরম আর্থিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন পদক্ষেপ নিয়েছে। অক্টোবর ২০২৫-এ, স্কট বেসেন্টের নেতৃত্বাধীন মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আর্জেন্টিনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এই আর্থিক সহায়তাটি কারেন্সি সোয়াপ চুক্তির আকারে দেওয়া হয়েছে এবং এর মূল লক্ষ্য হলো ২৬ অক্টোবর নির্ধারিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পেসোর বিনিময় হার স্থিতিশীল করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় তার আদর্শগত মিত্রের প্রতি এই সমর্থনকে একটি বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক সমাধান হিসেবে দেখছেন।
‘ডিসেম্বর’ তথ্যচিত্রটি ২০০১ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০০২ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহের উপর আলোকপাত করে, যখন সংকটের তীব্রতায় দেশটিতে পাঁচজন প্রেসিডেন্ট পরিবর্তিত হয়েছিলেন। সেই সময়ে, ১৯৯১ সালে চালু হওয়া ডলারের সাথে পেসোর কঠোর সংযোগ (কারেন্সি পেগ) আর্জেন্টিনার পণ্যের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করেছিল। এর পাশাপাশি, ১৯৯৯ সালে ব্রাজিলিয়ান রিয়ালের অবমূল্যায়ন পুঁজি প্রবাহের বহির্গমনকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
চলচ্চিত্রটি ব্যাপক গণ-প্রতিবাদকে প্রতিফলিত করে, যার স্লোগান ছিল “¡Que se vayan todos!” (“তাদের সবাইকে চলে যেতে হবে!”)। ব্যাংক আমানত জব্দ করা এবং বেতন পরিশোধ না করার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিবাদ শুরু হয়, যার ফলস্বরূপ ২০০১ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো দে লা রুয়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ঘটনাগুলি সেই সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরে।
২০০১-২০০২ সালের ঘটনাগুলি, যখন দেশের প্রকৃত জিডিপি ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল এবং শিল্প উৎপাদন ৮০ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল, তা এক ভয়াবহ ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে কাজ করে। সেই সময় বিশ্ব ইতিহাসে ৮০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সার্বভৌম ঋণের সবচেয়ে বড় খেলাপি হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তা সেই ধরনের পদ্ধতিগত অর্থনৈতিক পতন রোধ করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, যার মধ্যে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানো অন্তর্ভুক্ত, ইতিমধ্যে বাজেট ভারসাম্য এনেছে। তবে কংগ্রেসের কাছ থেকে তিনি প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে, বর্তমান অর্থনৈতিক গতিপথ বজায় রাখার জন্য বাহ্যিক আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সুতরাং, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আমস্টারডামে ‘ডিসেম্বর’ তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ার আর্জেন্টিনার বর্তমান অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াগুলির উপর একটি সময়োপযোগী মন্তব্য হিসেবে কাজ করছে। প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক পালাবদলের দৃশ্য দেখানো এই চলচ্চিত্রটি অর্থনৈতিক কষ্টের চক্রাকার প্রকৃতি এবং বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের গুরুত্ব তুলে ধরে। একই সাথে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্ত বাহ্যিক আর্থিক সহায়তা এই অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।
উৎসসমূহ
Deadline
IMF, World Bank approve new bailouts for Argentina
U.S. finalizes $20B Argentina bailout despite opposition
Argentina launches $2 billion repurchase agreement to boost reserves



