জনপ্রিয় সিরিজ 'আউটল্যান্ডার' স্কটল্যান্ডের পর্যটন শিল্পে এক অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলেছে, যা দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিয়েছে। ২০১৪ সালে এর আত্মপ্রকাশের পর থেকে, এই সিরিজটি স্কটল্যান্ডকে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে, যেখানে ভক্তরা সিরিজের আইকনিক চিত্রগ্রহণের স্থানগুলো ঘুরে দেখতে ভিড় জমায়। আসন্ন প্রিক্যুয়েল 'আউটল্যান্ডার: ব্লাড অফ মাই ব্লাড', যা ৮ আগস্ট, ২০২৫-এ মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে। স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে, যেমন মিডহোপ ক্যাসেল এবং ডাউনি ক্যাসেল-এ চিত্রায়িত এই সিরিজটি পরিচিত পটভূমিতে নতুন কাহিনী উপস্থাপন করবে, যা দর্শকদের সিরিজের মূল চরিত্রদের উৎস সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।
মূল সিরিজটি তার সপ্তম মৌসুমের শেষ পর্বগুলো ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছে এবং অষ্টম মৌসুম চূড়ান্ত অধ্যায় হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। 'আউটল্যান্ডার'-এর প্রভাবে স্কটল্যান্ডের পর্যটন শিল্পে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যা 'আউটল্যান্ডার এফেক্ট' নামে পরিচিত। ভিজিটস্কটল্যান্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, 'আউটল্যান্ডার'-এর চিত্রগ্রহণের স্থানগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৯ সালে আউটল্যান্ডার-সম্পর্কিত আকর্ষণগুলোতে ৩২ লক্ষ দর্শক সমাগম হয়েছিল। মহামারীর কারণে কিছু বিধিনিষেধ এবং অস্থায়ী বন্ধ থাকা সত্ত্বেও, এই স্থানগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা অন্যান্য আকর্ষণের তুলনায় কম হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে, কলোডেন ভিজিটর সেন্টার ৪২.৮% বৃদ্ধি এবং স্টার্লিং ক্যাসেল ১৪.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সিরিজের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবকে তুলে ধরে। সিরিজের মূল চিত্রগ্রহণের স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মিডহোপ ক্যাসেল (ল্যালিব্রচ), ডাউনি ক্যাসেল (ক্যাসেল লিওচ), ফকল্যাণ্ড (ইনভারনেস), কুলরস (ক্রেনসমিয়ার), ব্ল্যাকনেস ক্যাসেল (ফোর্ট উইলিয়াম) এবং গ্লাসগোর পার্ক সার্কাস। এই স্থানগুলো দর্শকদের সিরিজের ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক পটভূমিতে নিজেদের নিমজ্জিত করার সুযোগ করে দেয়।