কোপেনহেগেন ফ্যাশন উইকের ২০ বছর: ডেনিশ ফ্যাশন শিল্পের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি ও টেকসই ভবিষ্যতের পথে যাত্রা

সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.

২০২৬ সালে কোপেনহেগেন ফ্যাশন উইক (CPHFW) তার প্রতিষ্ঠার গৌরবময় ২০ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। ২০০৬ সালে একটি ক্ষুদ্র প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর থেকে এটি ডেনমার্কের ফ্যাশন জগতে এক অভাবনীয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ডেনমার্কস স্ট্যাটিস্টিক (Danmarks Statistik)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই দুই দশকের ব্যবধানে স্থানীয় ফ্যাশন শিল্পের সামগ্রিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি ডেনিশ ফ্যাশনকে দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য হিসেবে এক শক্তিশালী অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে ডেনিশ ডিজাইনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে রপ্তানি আয় ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমানে এই খাতের মোট আয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে আছে।

বিশ্বের ফ্যাশন মানচিত্রে কোপেনহেগেন ফ্যাশন উইক এখন একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম, যাকে বিশেষজ্ঞরা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের "পঞ্চম ফ্যাশন রাজধানী" হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ২০তম বার্ষিকী উদযাপনের এই বিশেষ বছরে সংস্থাটি তাদের কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে টেকসই উন্নয়ন বা সাসটেইনেবিলিটি। এই কৌশলের প্রধান স্তম্ভ হলো "সাসটেইনেবিলিটি রিকোয়ারমেন্টস" বা টেকসই উন্নয়নের জন্য বাধ্যতামূলক শর্তাবলি। এই ফ্রেমওয়ার্কটি অংশগ্রহণকারী ব্র্যান্ডগুলোর জন্য ১৮টি সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে এই তালিকায় ১৯টি শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই নিয়মগুলো বর্তমানে পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অবিক্রিত পণ্য ধ্বংস করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নৈতিক ফ্যাশনের এক নতুন বৈশ্বিক মানদণ্ড স্থাপন করেছে। সিইও সিসিল থরসমার্ক (Cecilie Thorsmark) এই উদ্যোগ সম্পর্কে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো এই ফ্যাশন উইককে কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, বরং দায়িত্বশীল এবং সম্মিলিত শিল্প উন্নয়নের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা।

বর্তমান সময়ে গানি (Ganni) এবং সিসিল বাহনসেন (Cecilie Bahnsen)-এর মতো কিছু প্রথিতযশা ডেনিশ ব্র্যান্ড তাদের নতুন সংগ্রহগুলো প্রদর্শনের জন্য প্যারিসের মতো বৈশ্বিক মঞ্চকে বেছে নিয়েছে। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কোপেনহেগেন ফ্যাশন উইক ২০২৬ সালে "হোমকামিং" (Homecoming) নামে একটি বিশেষ বার্ষিক ক্যাটাগরি বা বিভাগ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নতুন উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো সেই সব সফল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ব্র্যান্ডগুলোকে সম্মানিত করা এবং তাদের পুনরায় নিজেদের মূল আঙিনায় ফিরিয়ে আনা যারা আন্তর্জাতিক স্তরে ডেনিশ ফ্যাশনের নাম উজ্জ্বল করছে। এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত হওয়া প্রথম ব্র্যান্ডটি হলো নরওয়ের জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস হোলজউইলার (Holzweiler)।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জোটের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কোপেনহেগেন ফ্যাশন উইক এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ ফ্যাশন উইক মাদ্রিদ (Mercedes-Benz Fashion Week Madrid) একে অপরের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো ইউরোপীয় ফ্যাশন অঙ্গনে সৃজনশীল সংলাপকে আরও গভীর করা এবং ডিজাইনারদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন পথ উন্মোচন করা। এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা কোপেনহেগেন ফ্যাশন উইককে আগামী দিনগুলোতে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Notiulti

  • CHNews

  • SAPO

  • nextgazetapl

  • Copenhagen Fashion Week to Celebrate 20 Years Across 2026

  • About CPHFW - Copenhagen Fashion Week

  • Copenhagen Fashion Week Announces SS26 Brand Line Up

  • Berlin Fashion Week adopts Copenhagen Fashion Week's Sustainability Requirements

  • Copenhagen Fashion Week Is Celebrating Its 20th Anniversary | Marie Claire UK

  • Agência Pública

  • TST

  • ABVTEX

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Money.pl

  • Fashion Biznes

  • Spider's Web

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।