ইউএপি স্পেস টাইগার টিম: বায়ুমণ্ডলের বাইরের অসংগতি অনুসন্ধানে পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ

লেখক: Uliana S

২০২৬ সালের মে মাসের শুরুর দিকে, অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনা (ইউএপি) গবেষণায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন এক পদক্ষেপের কথা জানা গেছে। 'দ্য ব্ল্যাক ভল্ট' প্রকল্পের প্রধান গবেষক জন গ্রিনওয়াল্ড জুনিয়র তথ্য অধিকার আইনের অধীনে একটি নথি সংগ্রহ করে তা প্রকাশ করেছেন। ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বরের এই নথিতে দেখা যায় যে, অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস (AARO)-এর অধীনে 'স্পেস টাইগার টিম' নামে একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।

নথিটিতে মহাকাশ অভিযানের সাথে ইউএপি সংক্রান্ত তথ্য একীভূত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এতে মূলত 'মহাকাশ-ভিত্তিক এবং ট্রান্সমিডিয়াম' বস্তুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা মহাকাশে অবস্থান করে অথবা শূন্যস্থান, বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের মতো ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমের মাঝে যাতায়াত করতে সক্ষম। 'স্পেস টাইগার টিম'-এর কাজ হলো মহাকাশ প্রযুক্তির মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত করার কাঠামো তৈরি করা এবং নিজস্ব স্যাটেলাইট বা সরঞ্জাম থেকে এসব অসংগতিকে আলাদা করার জন্য রিপোর্টিং ও শনাক্তকরণ পদ্ধতি উন্নত করা।

এই উদ্যোগে প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রভাবশালী সংস্থাগুলো অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে মার্কিন স্পেস কমান্ড, নর্দান কমান্ড, নোর্যাড (NORAD), স্পেস ফোর্স, বিমান বাহিনীর অংশবিশেষ এবং ন্যাশনাল রিকনেসান্স অফিস ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির মতো গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জড়িত। 'স্পেস টাইগার টিম'-এর প্রথম সভা ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বরের জন্য নির্ধারিত ছিল, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এই 'স্পেস টাইগার টিম' গঠন সরাসরি ২০২৩ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের প্রয়োজনীয়তার সাথে সম্পর্কিত। নথিতে ইউএপি সম্পর্কে সঠিক সময়ে এবং ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংগ্রহের আবশ্যকতা তুলে ধরা হয়েছে। এই কার্যক্রমের ফলাফল মহাকাশ অভিযানে অসংগতির বিষয়টি পদ্ধতিগতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ভিত্তি তৈরি করবে এবং পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে থাকা ঘাটতিগুলো পূরণ করতে সহায়তা করবে।

এই মেমোরেন্ডামটি জনসমক্ষে আসায় ইউএপি সম্পর্কিত আলোচনার চিরাচরিত পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। আগে যেখানে মূলত পাইলটদের মুখোমুখি হওয়া বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো, এখন সামরিক বাহিনী ধারাবাহিকভাবে মহাকাশীয় অসংগতির দিকেও নজর দিচ্ছে। 'স্পেস টাইগার টিম' কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং এটি বিভিন্ন সামরিক শাখা ও পরিষেবাগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ঘটনার গবেষণাকে যুক্ত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

এখন পর্যন্ত এই নথিতে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনা বা কারিগরি গোপনীয়তা ফাঁস করা হয়নি। এটি কেবল উচ্চ পর্যায়ে সামরিক ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টার আনুষ্ঠানিক দলিল হিসেবে কাজ করছে। তথ্য অধিকার আইনের অধীনে পরবর্তী অনুসন্ধানগুলোর মাধ্যমে সম্ভবত এই দলের ব্যবহারিক কার্যক্রম এবং তাদের প্রাপ্ত ফলাফল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

'দ্য ব্ল্যাক ভল্ট'-এর এই প্রকাশনাটি সরকারি রিপোর্ট এবং অবমুক্ত করা নথিপত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ধারাবাহিকতায় নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। নিবিড় উপগ্রহ নজরদারি এবং সেন্সর প্রযুক্তির এই যুগে সামরিক বাহিনী স্পষ্টতই এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। এটি একটি নতুন সংকেত যে, বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটা অস্বাভাবিক ঘটনার রহস্য উন্মোচন প্রতিরক্ষা বিভাগের অগ্রাধিকার তালিকায় এখনো বেশ জোরালোভাবেই রয়েছে।

9 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।