২০২৬ সালের 'গাউদি বর্ষ' উদযাপনে কাসা বাতলোর সম্মুখভাগে জমকালো অডিওভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী

সম্পাদনা করেছেন: Ek Soshnikova

২০২৬ সালে প্রখ্যাত স্থপতি আন্তোনিও গাউদির মৃত্যুশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত 'গাউদি বর্ষ' উদযাপনের এক রাজকীয় সূচনা হয়েছে বার্সেলোনার ঐতিহাসিক কাসা বাতলো (Casa Batlló) ভবনের সম্মুখভাগে। 'হিডেন অর্ডার' (Hidden Order) নামক একটি বিশাল অডিওভিজ্যুয়াল প্রজেকশনের মাধ্যমে এই উৎসবের পর্দা উন্মোচিত হয়। লন্ডনভিত্তিক প্রথিতযশা শিল্পী ম্যাট ক্লার্কের নির্দেশনায় ইউনাইটেড ভিজ্যুয়াল আর্টিস্টস (UVA) এই বিশেষ শিল্পকর্মটি তৈরি করেছে। এই প্রদর্শনীটি আলো, গতি এবং শব্দের এক নিবিড় মেলবন্ধনের মাধ্যমে গাউদির স্থাপত্যের সাথে একটি অনন্য সংলাপ তৈরি করেছে। মূলত সৃষ্টি, বিশৃঙ্খলা এবং রূপান্তরের চক্রগুলোকে কেন্দ্র করে এই প্রদর্শনীটি সাজানো হয়েছে, যা ২০২৬ সালের গাউদি বর্ষের মূল প্রতিপাদ্য 'L'ordre invisible' বা 'অদৃশ্য শৃঙ্খলা'-র সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই আয়োজনটি কেবল একটি আলোকসজ্জা ছিল না, বরং এটি ছিল গাউদির কালজয়ী সৃষ্টির প্রতি এক আধুনিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ইউভিএ (UVA)-এর প্রতিষ্ঠাতা ম্যাট ক্লার্ক এই প্রকল্পের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান যে, প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান যে নির্দিষ্ট জ্যামিতিক নিয়মে চলে, গাউদির সেই দর্শনেই তিনি মুগ্ধ ছিলেন। তিনি এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সৃষ্টির অন্তরালে থাকা সেই অদৃশ্য ব্যবস্থাগুলোকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন। এই অডিওভিজ্যুয়াল কম্পোজিশনটি মূলত জ্যামিতি এবং প্রাকৃতিক নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা মানুষের চিন্তাধারাকে সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিশৃঙ্খলা এবং সবশেষে রূপান্তরের দিকে ধাবিত করে। কাসা বাতলোর অনন্য স্থাপত্যশৈলী এখানে কেবল একটি স্থির কাঠামো হিসেবে নয়, বরং আলো ও গতির ছোঁয়ায় একটি জীবন্ত মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। শিল্পীর মূল লক্ষ্য ছিল স্থাপত্যের প্রতিটি কোণ এবং বক্ররেখাকে আলোর মাধ্যমে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা, যা দর্শকদের এক গভীর দার্শনিক অনুভূতির জগতে নিয়ে যায়।

এই প্রদর্শনীর একটি বিশেষ এবং উদ্ভাবনী দিক ছিল জাপানি নৃত্যশিল্পী ও পারফর্মার ফুকিকো তাকাসের একটি সরাসরি কোরিওগ্রাফিক পরিবেশনা। মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির অত্যন্ত নিপুণ ব্যবহারের মাধ্যমে তাকাসের প্রতিটি শারীরিক চলন ধারণ করা হয়েছিল এবং সেগুলোকে জেনারেটিভ ভিজ্যুয়াল এলিমেন্টে রূপান্তর করা হয়েছিল। দর্শকদের কাছে মনে হচ্ছিল যেন এই নড়াচড়াগুলো সরাসরি ভবনের সম্মুখভাগ থেকেই জন্ম নিচ্ছে এবং স্থাপত্যের সাথে মিশে যাচ্ছে। এই অসাধারণ ফিউশনটি মানবদেহ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের মধ্যে এক নতুন ধরনের অভিব্যক্তিমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এটি প্রমাণ করেছে যে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাচীন স্থাপত্যকেও কীভাবে সমসাময়িক শিল্পের সাথে একীভূত করা সম্ভব এবং কীভাবে একটি জড় কাঠামো মানুষের গতির সাথে তাল মিলিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে।

ড্যানিয়েল জে. থিবোর অসাধারণ শব্দ বিন্যাসে সমৃদ্ধ এই ইমার্সিভ ইনস্টলেশনটি ২০২৬ সালের ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) প্রযুক্তির সাহায্যে দর্শকরা আন্তোনিও গাউদির মডার্নিজম বা আধুনিকতাবাদী শৈলীর সূক্ষ্ম ও গভীর দিকগুলো উপলব্ধি করতে পেরেছেন। বার্সেলোনার বিখ্যাত পাসেও দে গ্রাসিয়া (Passeig de Gràcia) রাস্তায় কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছিল, যা এই আয়োজনের সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে। এই ইভেন্টটি কেবল একটি প্রদর্শনী ছিল না, বরং এটি ছিল কাসা বাতলোর ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বার্সেলোনার ঘোষিত 'গাউদি বর্ষ ২০২৬'-এর এক অবিস্মরণীয় সূচনা। এই আয়োজনটি বার্সেলোনার পর্যটন এবং শিল্পকলা ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Interempresas

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

  • Vertex AI Search

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।