বর্তমানে বৃহৎ ট্রান্স-একুয়াটোরিয়াল করোনাল হোলটি পৃথিবীর দিকেই ঠিক সেই দিকেই অবস্থিত।
আজ, ১৩ মার্চ ২০২৬, মহাকাশ বিজ্ঞানীরা সূর্যের একটি বিশাল করোনাল হোল বা ছিদ্র থেকে উদ্ভূত দীর্ঘস্থায়ী ভূ-চৌম্বকীয় অস্থিরতার সূচনা লক্ষ্য করছেন। সূর্যের পৃষ্ঠে দৃশ্যমান এই কাঠামোটি তার অস্বাভাবিক আকৃতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিতি পেয়েছে। সাধারণত এই ধরনের ছিদ্রগুলো প্রজাপতি বা বৃত্তাকার হলেও, বর্তমানের এই কাঠামোটি সূর্যের উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বিশাল ফাটলের মতো দেখাচ্ছে।
আগামী কয়েক দিনের NOAA SWPC ডেটা.
করোনাল হোল হলো সূর্যের এমন একটি অঞ্চল যেখানে চৌম্বক ক্ষেত্র উন্মুক্ত থাকে, যার ফলে সৌর বায়ু অত্যন্ত দ্রুত গতিতে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা এই সৌর বায়ুর গতিবেগ বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। এর ফলে ভূ-চৌম্বকীয় সূচকগুলোও ঊর্ধ্বমুখী হবে। উল্লেখ্য যে, এই কাঠামোটি বেশ পুরনো; এক মাস আগে সূর্যের ঘূর্ণনের সময় এটি একটি 'ড্রাগন'-এর মতো আকৃতিতে দেখা গিয়েছিল, যদিও বর্তমানে এর আকার এবং আয়তন খুব একটা পরিবর্তিত হয়নি।
NOAA SWPC থেকে আসন্ন কয়েক দিনের জন্য মহাকাশ আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিডিও।
গত মাসে এই ছিদ্রটি অতিক্রম করার সময় NOAA-এর পাঁচ-পয়েন্ট স্কেলে G1–G2 মাত্রার মাঝারি ধরনের ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের সৃষ্টি করেছিল। বর্তমান গাণিতিক মডেলগুলোও এখন একই ধরনের পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৩ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যরাত (ইউটিসি সময় অনুযায়ী ১৩ ও ১৪ মার্চের মধ্যবর্তী রাত) থেকে প্রথম অস্থিরতা শুরু হতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত সৌর বায়ুর গতি বৃদ্ধির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি, তবে পূর্বাভাস সঠিক হলে উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চলে উজ্জ্বল মেরুজ্যোতি বা অরোরা দেখার সম্ভাবনা প্রবল থাকবে।
এই ভূ-চৌম্বকীয় অস্থিরতা স্বল্পস্থায়ী হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ এই করোনাল হোলটি দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতির। সৌর বায়ু পৃথিবীকে অতিক্রম করার সময় আগামী কয়েক দিন ধরে এই অস্থিরতা চলতে পারে। সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রধান আকর্ষণ হলো অনুকূল আবহাওয়ায় মধ্য অক্ষাংশ থেকেও উত্তর মেরুর আলো বা নর্দার্ন লাইটস দেখার সুযোগ। প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে G1–G2 মাত্রার ঝড়ে সাধারণত রেডিও যোগাযোগ এবং স্যাটেলাইট নেভিগেশনে সামান্য বিঘ্ন ঘটতে পারে, তবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বর্তমানে রিয়েল-টাইমে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। যদিও বর্তমানে সৌর বায়ু শান্ত রয়েছে, তবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর গতিশীলতা বদলে যেতে পারে। মহাকাশ আবহাওয়া কেন্দ্রগুলোর অফিসিয়াল তথ্য থেকে সর্বশেষ আপডেট পাওয়া সম্ভব, যা সবচেয়ে নির্ভুল তথ্য প্রদান করে। বিশাল আকৃতির এই সৌর ফাটলটি বর্তমান সৌর চক্রের একটি স্বাভাবিক অংশ হলেও, পৃথিবী এখন সূর্যের এই বিশেষ 'উপহার' মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।