কোয়ান্টাম পারস্পরিক সম্পর্ক দ্বারা সময়ের তীর তত্ত্বের নতুন ব্যাখ্যা: হাইনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা
সম্পাদনা করেছেন: Irena I
পদার্থবিজ্ঞানের একটি গভীরতম রহস্য হলো সময়ের তীর, যা নির্দেশ করে কেন সময়ের অগ্রগতি কেবল ভবিষ্যতের দিকেই ঘটে এবং অতীতের দিকে ফেরা অসম্ভব। এই অপরিবর্তনীয়তার ধারণাটি দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে ক্লাসিক্যাল বলবিদ্যা ও আপেক্ষিকতার মৌলিক সমীকরণগুলির বিপরীত, কারণ এই সূত্রগুলি তাত্ত্বিকভাবে সময়কে বিপরীত দিকে চলার অনুমতি দেয়। এই বৈপরীত্য নিরসনে চীনের হাইনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা, যার নেতৃত্বে ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানী কাই কিংইউ, একটি নতুন তত্ত্ব প্রস্তাব করেছেন যা কোয়ান্টাম পারস্পরিক সম্পর্কের (quantum correlations) উপর ভিত্তি করে সময়ের এই একমুখী প্রবাহকে ব্যাখ্যা করে। এই গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি তাপগতিবিদ্যার এনট্রপি-ভিত্তিক প্রচলিত ব্যাখ্যার পরিপূরক হিসেবে সময়ের দিকনির্দেশের জন্য একটি বাহ্যিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।
কাই কিংইউ এবং তার দল এই সমস্যাটিকে কোয়ান্টাম দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে তারা বিশেষত কোয়ান্টাম পারস্পরিক সম্পর্কের বৃদ্ধির হারের উপর জোর দিয়েছেন। তাদের প্রস্তাবনা অনুসারে, যখন দুটি কোয়ান্টাম কণা মিথস্ক্রিয়া করে, তখন তারা একটি কোয়ান্টাম সংযোগ তৈরি করে, যা এক প্রকার তথ্যের 'হ্যান্ডশেক'-এর মতো কাজ করে। এই নতুন তত্ত্বটি পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাগুলি থেকে ভিন্ন, কারণ এটি বাহ্যিক পর্যবেক্ষণ বা পরিমাপের উপর নির্ভর করে না; বরং এটি কোয়ান্টাম সিস্টেমগুলির অভ্যন্তরীণ গতিবিদ্যা থেকে সরাসরি উদ্ভূত হয়। গবেষকরা গাণিতিকভাবে একটি 'নো-গো থিওরেম' (no-go theorem) ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে একবার এই পারস্পরিক সম্পর্কগুলি প্রতিষ্ঠিত হলে, তাদের পরিবেশের অবস্থা নির্বিশেষে কণাগুলির প্রাথমিক তথ্য মুছে ফেলা বা পুনরুদ্ধার করার কোনো ভৌত প্রক্রিয়া নেই। এই অ-পুনরুদ্ধারযোগ্য তথ্য স্থানান্তর প্রক্রিয়াটিই সময়ের স্বয়ংক্রিয়, একমুখী যাত্রার সৃষ্টি করে বলে তত্ত্বটি দাবি করে।
যদিও অন্যান্য গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে পরিবেশের সাথে কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট বৃদ্ধি 'ডিকোহেরেন্স' (decoherence) এবং সময়ের তীর সৃষ্টি করে, কাই-এর তত্ত্বটি জোর দেয় যে এই পারস্পরিক সম্পর্কের অপরিবর্তনীয় রেকর্ডিংই সময়ের তীরের মৌলিক ভিত্তি। এই দৃষ্টিভঙ্গি এনট্রপি বৃদ্ধির মতো চিরায়ত ঘটনাগুলিকেও ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে, কারণ কোয়ান্টাম জগতে পারস্পরিক সম্পর্কের বৃদ্ধি ঘটে, যা এনট্রপির বৃদ্ধির মতোই অপরিবর্তনীয়। এই আবিষ্কারের তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী: অতীতে সময়ের উপর আরোপিত 'কর' বা সীমাবদ্ধতা বাস্তবতার মৌলিক নিয়মগুলির লঙ্ঘন দাবি করত, কারণ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতীতের তথ্য বর্তমানের মধ্যে অন্তর্নিহিতভাবে এনকোড করা থাকে।
প্রখ্যাত সিনিয়র তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী সান চাংপু, যিনি এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তিনি এই কাজটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি কোয়ান্টাম এবং চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের মধ্যেকার মৌলিক সংযোগের উপর গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে, যা বিজ্ঞানের অন্যতম গভীরতম প্রশ্নকে স্পর্শ করে। এই তত্ত্বটি বিজ্ঞানীদের কোয়ান্টাম বলবিদ্যা এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্যেকার ব্যবধান দূর করতে সাহায্য করে, যা আমাদের সময়ের অনন্য গতিপথকে আমাদের অস্তিত্বের একক গতিপথ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। তবে, গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে তাদের ফলাফলগুলি বর্তমানে তাত্ত্বিক মডেলের উপর নির্ভরশীল এবং ভবিষ্যতে আরও পরীক্ষামূলক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, যেমন উন্মুক্ত কোয়ান্টাম সিস্টেমে অপরিবর্তনীয় কোয়ান্টাম পারস্পরিক সম্পর্কের প্রমাণ। এই নতুন কাঠামোটি সময়ের দিকনির্দেশকে বাহ্যিক প্রভাবের পরিবর্তে মাইক্রো-জগতের অভ্যন্তরীণ কাঠামো থেকে প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভূত বলে যুক্তি দেয়, যা পদার্থবিজ্ঞানের এক শতাব্দীর পুরোনো ধাঁধার সমাধান দিতে পারে।
19 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Techgear.gr
vertexaisearch.cloud.google.com
vertexaisearch.cloud.google.com
New Scientist
University of Surrey
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
