স্থান-কালের জ্যামিতি থেকে মৌলিক বল ও কণার উৎপত্তি অনুসন্ধান
সম্পাদনা করেছেন: Vera Mo
পদার্থবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক তাত্ত্বিক গবেষণাগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে স্থান-কালের জ্যামিতি কেবল একটি পটভূমি হিসেবে কাজ না করে মৌলিক বল এবং কণাগুলির উৎপত্তির মূল উৎস হতে পারে। এই ধারণাটি স্থান-কালের অন্তর্নিহিত কাঠামোর উপর ভিত্তি করে প্রকৃতির মৌলিক নিয়মগুলিকে একীভূত করার এক নতুন পথ উন্মোচন করছে। এই গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অতিরিক্ত, অদৃশ্য মাত্রাগুলির জ্যামিতিক বিবর্তন, যা আমাদের পরিচিত বাস্তবতার ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।
রিচার্ড পিঙ্কাক এবং তাঁর সহযোগীরা সাত-মাত্রিক স্থানে বিদ্যমান জটিল আকার, বিশেষত জি২-ম্যানিফোল্ড (G2-manifolds) থেকে W এবং Z বোসন কণাগুলির ভর উদ্ভূত হওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তাঁদের কাজ অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মহাকর্ষের জ্যামিতিক বর্ণনার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা কণার ভরের উৎস সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এই গবেষক দলটি জি২-রিচি ফ্লো (G2-Ricci flow) নামক গাণিতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বে স্থির বলে বিবেচিত জি২-ম্যানিফোল্ডগুলির সময়ের সাথে বিবর্তনের প্রভাব পরীক্ষা করেছে। এই গবেষণাটি 'নিউক্লিয়ার ফিজিক্স বি' জার্নালে প্রকাশিত হয়। [cite:4, cite:6]
এই তত্ত্বের একটি অপরিহার্য উপাদান হলো 'টর্শন' (torsion), যা অতিরিক্ত মাত্রার কাঠামোগুলির অভ্যন্তরীণ মোচড় বা ঘূর্ণন হিসেবে বর্ণিত এবং এটি ডিএনএ-এর প্যাঁচানোর সাথে তুলনীয়। পিঙ্কাক উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর মডেলে 'বস্তু জ্যামিতির নিজস্ব প্রতিরোধ থেকে উদ্ভূত হয়, কোনো বাহ্যিক ক্ষেত্র থেকে নয়'। এই অন্তর্নিহিত ঘূর্ণন জ্যামিতির মধ্যেই নিহিত এবং এটিই কণার ভর সৃষ্টির মূল কারণ হতে পারে, যা হিগস ক্ষেত্রের উপর নির্ভরতা হ্রাস করে।
যখন এই মোচড়ানো আকারগুলি জি২-রিচি ফ্লো-এর মাধ্যমে বিবর্তিত হয়, তখন তারা সলিটন (solitons) নামক স্থিতিশীল বিন্যাস গঠন করতে পারে। এই প্রক্রিয়া স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিসাম্য ভাঙার (spontaneous symmetry breaking) মতো ঘটনাগুলির একটি বিশুদ্ধ জ্যামিতিক ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারে। গবেষণাটি মহাজাগতিক স্কেলে স্থান-কালের বক্রতার সাথে এই জ্যামিতিক টর্শনের একটি সংযোগ স্থাপন করে, যা মহাবিশ্বের ত্বরণশীল প্রসারণের জন্য দায়ী ধনাত্মক মহাজাগতিক ধ্রুবক (positive cosmological constant) ব্যাখ্যা করতে পারে।
অতিরিক্তভাবে, দলটি টর্শনের সাথে যুক্ত একটি অনুমিত কণার অস্তিত্ব নিয়ে জল্পনা করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'টরস্টোন' (Torstone)। এই 'টরস্টোন' কণাটি ভবিষ্যতে স্থান-কাল প্রভাব অনুসন্ধানের পরীক্ষায় সনাক্ত করা যেতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন। এই গবেষণার বৃহত্তর লক্ষ্য হলো মহাকর্ষকে শক্তিশালী নিউক্লীয়, দুর্বল নিউক্লীয় এবং তড়িৎচুম্বকীয় বলের সাথে একটি একক জ্যামিতিক কাঠামোর অধীনে একীভূত করা। এই প্রচেষ্টা আইনস্টাইনের মহাকর্ষের জ্যামিতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও প্রসারিত করে, যেখানে স্থান-কাল কেবল বলের ক্রিয়া করার মঞ্চ নয়, বরং এটি নিজেই সমস্ত ভৌত মিথস্ক্রিয়ার মূল উৎস।
363 দৃশ্য
উৎসসমূহ
News Directory 3
ScienceDaily
SSBCrack News
SAV
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
