দীর্ঘদিন ধরে মনোরোগবিদ্যা ছিল কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ওষুধের ‘অন্ধ’ নির্বাচনের এক ক্ষেত্র। আমরা সঠিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার আশায় পুরো মস্তিষ্কের চিকিৎসা করতাম। কিন্তু ডিপ্রেশন যদি সামগ্রিক কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ না হয়ে নির্দিষ্ট কিছু কোষের ‘অচল’ হয়ে পড়া হয়, তবে কেমন হবে?

হার্ভার্ডের গবেষকরা ব্রড ইনস্টিটিউটের সাথে মিলে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন: তারা ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের জন্য দায়ী নিউরনগুলোর একটি আণবিক মানচিত্র তৈরি করেছেন। সিঙ্গেল-সেল অ্যানালাইসিস প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা অ্যান্টিরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্সে দুই ধরনের ইন্টারনিউরনকে শনাক্ত করেছেন। গুরুতর বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই কোষগুলো প্রায় পুরোপুরি ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়ে থাকে।
এই বিষয়টি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এই নিউরনগুলো সাধারণত ‘ফিউজের’ মতো কাজ করে: এগুলো ভয় এবং উদ্বেগের কেন্দ্রে অতিরিক্ত উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এই ‘ফিউজগুলো’ অকেজো হয়ে যায়, তখন মানুষ নেতিবাচক চিন্তার এক অন্তহীন চক্রে আটকা পড়ে। মস্তিষ্ক তখন চাইলেও ইতিবাচক বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়ার জৈবিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
এই আবিষ্কার সবকিছু বদলে দিচ্ছে। পুরো মস্তিষ্ককে সেরোটোনিনে ডুবিয়ে দিয়ে ঘুম বা ক্ষুধামন্দার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরির বদলে ভবিষ্যতের ফার্মাকোলজি সরাসরি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে কাজ করতে পারবে। ভাবুন এমন একটি ওষুধের কথা, যা কোটি কোটি কোষের মধ্যে থেকে কেবল ওই বিশেষ দুই ধরনের কোষের ওপর কাজ করে সেগুলোর প্রাকৃতিক সক্রিয়তা ফিরিয়ে আনবে।
আমরা কি এখন ডায়াবেটিসের মতো ডিপ্রেশনকেও ‘কোষীয় ঘাটতি’ বলতে পারি? দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রত্যেকের জন্য আলাদা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসার পথ প্রশস্ত করবে। ইতোমধ্যে এই তথ্যের ভিত্তিতে ‘ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন’ (DBS) পদ্ধতিগুলো তৈরি করা হচ্ছে, যা ‘ডিপ্রেশন ম্যাপ’-এর সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্কগুলোকে লক্ষ্য করে কাজ করে।
আমরা কেবল বিষণ্নতার কারণই খুঁজে পাইনি — বরং এমন একটি নির্দিষ্ট জৈবিক যান্ত্রিক ব্যবস্থা খুঁজে পেয়েছি যা মেরামত করা সম্ভব। এটি এমন এক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পথ দেখাচ্ছে যেখানে রোগ নির্ণয় হবে কোনো প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে নয়, বরং স্নায়ু সংযোগের সক্রিয়তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে।




