Archaeologists in Croatia uncovered a mass grave from 260 CE containing 7 Roman soldiers killed in battle. DNA analysis reveals they came from across Europe, showing the diverse recruitment of Roman armies during the Crisis of the Third Century. tinyurl.com/2xs6wcsd
ক্রোয়েশিয়ার ওসিজেক (মুরসা)-এ তৃতীয় শতকের রোমান সৈন্যদের গণকবর আবিষ্কার
সম্পাদনা করেছেন: Iryna Balihorodska
প্রাচীন রোমান নগরী মুরসা, যা বর্তমানে পূর্ব ক্রোয়েশিয়ার ওসিজেক নামে পরিচিত, সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য তৃতীয় শতকের সংকটের (Crisis of the III Century) ঘটনাপ্রবাহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দ্রাভা নদীর কাছে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত কুয়োর ভেতর থেকে সাতটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মৃত্যু খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঘটেছিল বলে অনুমান করা হয়। এই আবিষ্কারটি আবারও প্রমাণ করে যে, রোমান সাম্রাজ্য যখন গভীর পদ্ধতিগত অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময়ে মুরসার কৌশলগত গুরুত্ব ছিল অসাধারণ।
গবেষকরা মনে করছেন যে এই দেহাবশেষগুলি রোমান সৈন্যদলের (লেজিওনারি) সদস্যদের, যারা ২৬০ খ্রিস্টাব্দে মুরসার ভয়াবহ যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে মৃতদেহগুলিকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কুয়োর মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, কোনো প্রকার শেষকৃত্যের আচার পালন ছাড়াই। এটি ইঙ্গিত দেয় যে তাদের উপর নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল বা দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। কঙ্কালগুলিতে গুরুতর যুদ্ধের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে: যেমন কপালে ভোঁতা আঘাত, পাঁজর ভেঙে যাওয়া এবং ছুরিকাঘাত বা কাটা ক্ষতের প্রমাণ। এছাড়াও, মৃতদের সকলের মধ্যেই শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের লক্ষণ ছিল, যা মৃত্যুর আগে তাদের কঠিন সামরিক জীবনযাত্রার দিকে ইঙ্গিত করে।
বহুমাত্রিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে এই দেহাবশেষগুলি থেকে অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য আহরণ করা সম্ভব হয়েছে। খাদ্যাভ্যাসের আইসোটোপ বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, তাদের খাদ্যতালিকা ছিল সেই সময়ের সামরিক বাহিনীর জন্য বরাদ্দ সাধারণ রেশনের অনুরূপ। বংশাণুগত (জেনেটিক) গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে এই যোদ্ধাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাতিগত বৈচিত্র্য ছিল। এই তথ্যটি ঐতিহাসিক নথির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দেখা যায় যে শেষদিকের রোমান সেনাবাহিনীতে সারমাতিয়ান, স্যাক্সন এবং গলদের মতো বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিল। বংশাণুগত চিত্র স্থানীয় জনসংখ্যার সঙ্গে কোনো ধারাবাহিকতা দেখায়নি, যা প্রমাণ করে যে তারা সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বহিরাগত যোদ্ধা ছিলেন।
২৬০ খ্রিস্টাব্দের ঘটনাপ্রবাহ সম্রাট গ্যালিয়েনাস এবং ক্ষমতা দখলকারী ইনজেনুয়াসের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি সুপ্রতিষ্ঠিত অনুমান রয়েছে যে নিহত ব্যক্তিরা ইনজেনুয়াসের সমর্থক ছিলেন এবং গ্যালিয়েনাসের আদেশে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, গ্যালিয়েনাস পরাজিত শত্রুদের প্রতি কোনো প্রকার দয়া দেখাতেন না। ২৫১ খ্রিস্টাব্দে তৈরি একটি মুদ্রা এবং রেডিওকার্বন বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে এই আবিষ্কারের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্যানোনিয়ার সামরিক ইতিহাসের স্বল্প-আলোচিত অধ্যায়গুলির উপর আলোকপাত করে।
এই দেহাবশেষগুলির অধ্যয়ন কেবল মৃত্যুর ঘটনা লিপিবদ্ধ করা নয়, বরং এটি বোঝার একটি সুযোগ যে কীভাবে ব্যক্তিগত পছন্দ এবং শাসকগোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘাত ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণ করে। এই সাতটি জীবনের ভিন্ন ভিন্ন উৎস, যা যুদ্ধের ময়দানে এক সাধারণ মর্মান্তিক পরিণতির মাধ্যমে একত্রিত হয়েছিল, তা সাম্রাজ্যের পদ্ধতিগত ব্যর্থতার মানবিক মূল্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
উৎসসমূহ
Novi list
PLOS One



