উত্তর কাজাখস্তান অঞ্চলের আরিকবালিক গ্রামের কাছে সম্প্রতি একটি ম্যামথের উপরের চোয়ালের অংশ আবিষ্কৃত হয়েছে, যার বয়স কয়েক হাজার বছর বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। স্থানীয় একজন বাসিন্দা এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে এটি প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে হস্তান্তর করেন পরবর্তী গবেষণার জন্য।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে হাড়টি একটি প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীর ছিল, যার বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। প্রায় দুই মিটার গভীরতায় এই অংশটি খুঁজে পাওয়ায় এর সংরক্ষণ অবস্থা বেশ ভালো রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করছেন যে এই অঞ্চলের আশেপাশে আরও অন্যান্য দেহাবশেষ, এমনকি একটি সম্পূর্ণ কঙ্কালও পাওয়া যেতে পারে, যা এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
কোজিবায়েভ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক আনাতোলি প্লেশাকভ উল্লেখ করেছেন যে আবিষ্কৃত হাড়টি একটি বিশাল ম্যামথের ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই এলাকায় প্যালিওলিথিক যুগের অন্যান্য নিদর্শন বা দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে ইশিল নদীর তীর বরাবর এমন আবিষ্কার প্রায়শই দেখা যায়, তবে এত বড় আকারের নমুনা খুবই বিরল। প্লেশাকভ ১৯৬০ সালে ইয়াসনোভকা গ্রামের কাছে পাওয়া “ইয়াসনোভস্কি হাতি” নামে পরিচিত একটি পূর্ববর্তী আবিষ্কারের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
আবিষ্কৃত এই মূল্যবান হাড়গুলো বর্তমানে কাজাখস্তান প্রজাতন্ত্রের জাতীয় জাদুঘরের বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারে রাখা হয়েছে। সেগুলোর সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পরবর্তী ফিল্ড সিজন, যা ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে শুরু হবে, সেখানে এই আবিষ্কারের স্থানে পদ্ধতিগত প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন যে তারা ম্যামথের অতিরিক্ত হাড় বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাবেন। এর মাধ্যমে বরফ যুগের প্রাণীজগত এবং প্যালিওলিথিক যুগে এই অঞ্চলে মানুষের সম্ভাব্য উপস্থিতি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
ম্যামথ, যারা আধুনিক হাতির দূরবর্তী আত্মীয়, তারা প্লাইস্টোসিন যুগে পৃথিবীতে বিচরণ করত এবং এদের ওজন আট টন পর্যন্ত হতে পারত। তারা তাদের জীবনকালে বারবার তাদের বিশাল মাড়ির দাঁত পরিবর্তন করত। এর আগেও কাজাখস্তানে কারাগান্ডা, পাভলোদার, পূর্ব কাজাখস্তান এবং উত্তর কাজাখস্তান অঞ্চলে ম্যামথের দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে যে এই প্রাণীগুলো এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিল।
যদি বিজ্ঞানীরা একটি সম্পূর্ণ কঙ্কাল আবিষ্কার করতে সফল হন, তবে তা উত্তর কাজাখস্তানের জীবাশ্মবিদ্যা এবং বরফ যুগের প্রাণিকুল অধ্যয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। উপরন্তু, এই আবিষ্কারটি প্যালিওলিথিক যুগের আঞ্চলিক জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিস্থিতি এবং সেই সময়ে বৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সাথে মানুষের মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য সরবরাহ করতে পারে।



