A man hunting for fishing worms near his summer house in the Stockholm area in Sweden 🇸🇪 made an amazing discovery: a large hoard of silver coins and jewelry from the early Middle Ages. The hoard, weighing around 6kg, consists of thousands of silver coins mixed with rings,
দ্বাদশ শতাব্দীর বিশাল রৌপ্য ভান্ডার স্টকহোমের কাছে আবিষ্কৃত
লেখক: Iryna Balihorodska
স্টকহোমের অদূরে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা একটি বিরল মধ্যযুগীয় গুপ্তধন আবিষ্কার করেছেন, যার প্রধান অংশ জুড়ে রয়েছে রৌপ্য মুদ্রা, অলঙ্কার এবং মুক্তা। এই বিশাল ভান্ডারটি একটি তামার পাত্রের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রায় ৮০০ বছর ধরে মাটির নিচে থাকার কারণে পাত্রটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে জারিত (oxidized) হয়ে গেলেও, এর ভেতরের জিনিসপত্র আশ্চর্যজনকভাবে অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল।
এই আবিষ্কারের মোট ওজন প্রায় ৬ কেজি রৌপ্য। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এতে প্রায় ২০,০০০ মুদ্রা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ রৌপ্যের কারণে এটি গত কয়েক দশকে স্টকহোম অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া মধ্যযুগীয় রৌপ্য ভান্ডারগুলির মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গুপ্তধনটি ঘটনাক্রমে আবিষ্কৃত হয়। জমির মালিক ধাতব বস্তু দেখতে পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে খবর দেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর বিশেষজ্ঞরা এর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব নিশ্চিত করেন। বর্তমানে এটি জাতীয় গুরুত্বের একটি প্রত্নবস্তু হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।
মুদ্রাগুলি দ্বাদশ শতাব্দীর, যে সময়ে সুইডেন তার রাষ্ট্রীয় ভিত্তি স্থাপন করছিল। এটি ভাইকিং যুগ এবং একটি কেন্দ্রীভূত রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্যবর্তী একটি পরিবর্তনকালীন সময়। ক্ষমতা তখন আঞ্চলিক গোত্রীয় শাসকদের হাত থেকে ধীরে ধীরে রাজার হাতে স্থানান্তরিত হচ্ছিল।
এই সময়কালে ক্নুট এরিকসন (Knut Eriksson) (১১৬৭–১১৯৫) শাসন করতেন। তিনি দেশের ঐক্য সুসংহত করতে এবং একটি স্থিতিশীল মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করতে সচেষ্ট ছিলেন। ভান্ডার থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু মুদ্রায় 'KANUTUS' খোদাই করা রয়েছে, যা স্পষ্টভাবে এই গুপ্তধনকে তাঁর শাসনকালের সাথে যুক্ত করে।
দ্বাদশ শতাব্দীতে সুইডেনে খ্রিস্টধর্মের সক্রিয় প্রচারও চলছিল। সেই সময়ে পাথরের মন্দির নির্মাণ, মঠের সাথে স্কুল প্রতিষ্ঠা, এবং কর সংগ্রহ ও বাণিজ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ভান্ডারের মধ্যে “বিশপের মুদ্রা” (епископские монеты) পাওয়া গেছে, যা চার্চ কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে জারি করা হতো এবং এগুলি কেবল বিনিময়ের মাধ্যম ছিল না, আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রতীকও ছিল।
ভৌগোলিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ: দ্বাদশ শতাব্দীতে বর্তমান স্টকহোম শহরের অস্তিত্ব ছিল না। এটি ছিল ম্যালারেন হ্রদের (Lake Mälaren) দিকে যাওয়া বাণিজ্য পথগুলির ধারে ছোট ছোট বসতি এবং এস্টেটগুলির এলাকা। এই ভান্ডারটি রাজধানী প্রতিষ্ঠার পূর্ববর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক জীবনকে তুলে ধরে, যা প্রমাণ করে যে সে সময়েও ধনী ব্যক্তি এবং সক্রিয় রৌপ্য বাণিজ্য বিদ্যমান ছিল, যা সম্ভবত বাল্টিক এবং গোটল্যান্ডের (Gotland) বাজারের সাথে যুক্ত ছিল।
কী কারণে রৌপ্যগুলি মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তা এখনও অজানা। তবে সম্ভবত কোনো অস্থির সময়ে—যেমন যুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের সময়—এটি লুকানো হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক মুদ্রা এবং মহিলাদের অলঙ্কার থেকে অনুমান করা যায় যে এটি কোনো ধনী পরিবারের সম্পত্তি ছিল, যারা হয়তো চার্চ বা বাণিজ্যের সাথে সম্পর্কিত ছিল।
কিছু গবেষক মনে করেন যে এই ভান্ডারটি চার্চের সম্পত্তির অংশ হতে পারে। আবার অন্যদের ধারণা, এটি কোনো বণিকের সংরক্ষিত পুঁজি ছিল, যিনি হয়তো আর তা তুলে নিতে পারেননি।
মুদ্রা পরিষ্কার করা, ধাতুর সংরক্ষণ এবং রৌপ্যের উপাদান বিশ্লেষণ করার মতো বৈজ্ঞানিক কাজগুলি স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউমিসম্যাটিকস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা পরিচালনা করছেন, যেখানে মধ্যযুগীয় মুদ্রা প্রচলন নিয়ে গবেষণা করা হয়। পাশাপাশি, স্টকহোমের মধ্যযুগীয় জাদুঘর (Medeltidsmuseet) সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটি নথিভুক্ত করছে এবং একটি অস্থায়ী প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করছে, যেখানে পরিষ্কার করা মুদ্রা ও অলঙ্কারের কিছু অংশ দেখানো হবে।
এই গুপ্তধনটি কেবল রৌপ্যের সংগ্রহ নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল, যা দ্বাদশ শতাব্দীর বাণিজ্য সংযোগ, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং সামাজিক কাঠামোর তথ্য সংরক্ষণ করেছে। রৌপ্যের রাসায়নিক বিশ্লেষণ সেই সময়ের ধাতুর উৎস নির্ধারণ করতে এবং বাণিজ্য পথগুলি পুনর্গঠন করতে সহায়তা করবে।
আগামী মাসগুলিতে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা সমস্ত আবিষ্কারের একটি ক্যাটালগ তৈরি করবেন এবং বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশনার জন্য প্রস্তুত করবেন, যাতে এই ভান্ডারটি সুইডেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস এবং স্টকহোমের প্রাথমিক পর্যায়কে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে।



