মঙ্গল গ্রহের মাটির সিমুলেটরে দ্রবণীয় যৌগের বিষাক্ততা: উপনিবেশ স্থাপনের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

-1

২০২৬ সালের শুরুর দিকে 'ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ অ্যাস্ট্রোবায়োলজি'-তে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণা মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে পৃথিবীর জীবন্ত প্রাণীর টিকে থাকা নিয়ে একটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরেছে। পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সাথে যুক্ত ইউনিভার্সিটি পার্কের একদল গবেষক ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি মঙ্গল গ্রহের মাটিতে পুনর্জলযুক্ত বা রিহাইড্রেটেড টার্ডিগ্রেড (tardigrades) নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। এই গবেষণার ফলাফলগুলো ভবিষ্যতে লাল গ্রহে মানব মিশন পরিচালনা এবং সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে, কারণ এটি জটিল বহুকোষী প্রাণীর জন্য একটি বড় ধরনের পরিবেশগত হুমকির সংকেত দিচ্ছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে মঙ্গলের মাটির দুটি বিশেষ সিমুলেটর বা কৃত্রিম নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে: প্রথমটি হলো MGS-1, যা মঙ্গলের পৃষ্ঠের সাধারণ ভূতাত্ত্বিক অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে এবং দ্বিতীয়টি হলো OUCM-1, যা নাসা-র কিউরিওসিটি রোভারের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী গেইল ক্রেটারের রকনেস্ট অঞ্চলের মাটির রাসায়নিক গঠন অনুসরণ করে তৈরি। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, MGS-1 মাটির সংস্পর্শে আসার মাত্র দুই দিনের মধ্যে টার্ডিগ্রেডগুলোর সক্রিয়তা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায় অথবা তারা মারা যায়। অন্যদিকে, OUCM-1 মাটির প্রভাব পৃথিবীর সাধারণ বালুর তুলনায় কিছুটা কম ক্ষতিকর হলেও তা উল্লেখযোগ্যভাবে নেতিবাচক ছিল। তবে এই গবেষণার একটি আশাব্যঞ্জক আবিষ্কার হলো, MGS-1 দ্বারা সৃষ্ট এই বিষাক্ততা পরিবর্তনযোগ্য; অর্থাৎ নমুনাটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার পর টার্ডিগ্রেডগুলোর সক্রিয়তা পুনরায় পৃথিবীর স্বাভাবিক মাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসে।

পেন স্টেট আল্টুনা-র মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক কোরিয়েন বাকেরম্যানস ধারণা করছেন যে, MGS-1-এ থাকা ক্ষতিকারক উপাদানটি সম্ভবত একটি পানিতে দ্রবণীয় যৌগ, যা মূলত বিভিন্ন ধরনের লবণ হতে পারে। এই আবিষ্কারটি 'প্ল্যানেটারি প্রোটেকশন' বা গ্রহ সুরক্ষা ধারণার ক্ষেত্রে দ্বিমুখী গুরুত্ব বহন করে, যা মূলত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। একদিকে, এই বিষাক্ত দ্রবণীয় উপাদানগুলো একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রাচীর হিসেবে কাজ করতে পারে, যা পৃথিবীর অণুজীব দ্বারা মঙ্গল গ্রহের সম্ভাব্য দূষণ রোধে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, এই বিষাক্ততা মঙ্গলের রেগোলিথ বা মাটিকে কৃষি কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়, যা ভবিষ্যতে সেখানে উপনিবেশ স্থাপনকারীদের জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

অধ্যাপক বাকেরম্যানস আরও উল্লেখ করেছেন যে, যদিও উদ্ভিদের বৃদ্ধির উপযোগী করার জন্য মঙ্গলের মাটি ধুয়ে পরিষ্কার করা তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব, তবে এটি একটি বিশাল লজিস্টিক বা কৌশলগত সমস্যা তৈরি করবে। কারণ মঙ্গল গ্রহে পানির সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত এবং সেখানে পানির প্রতিটি ফোঁটা অত্যন্ত মূল্যবান। গবেষণায় ব্যবহৃত MGS-1 এবং OUCM-1 সিমুলেটরগুলো মূলত গেইল ক্রেটারের রকনেস্ট ফরমেশনের নমুনার বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এখানে MGS-1 মূলত একটি 'গ্লোবাল' বা বিশ্বজনীন রেগোলিথকে উপস্থাপন করে, যেখানে OUCM-1 একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের রাসায়নিক গঠনকে আরও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে। টার্ডিগ্রেডগুলো তাদের ক্রিপ্টোবায়োসিস অবস্থায় চরম প্রতিকূলতা সহ্য করতে পারলেও, সক্রিয় বা সক্রিয় অবস্থায় তারা এই রাসায়নিক যৌগগুলোর প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

যদিও নির্দিষ্ট বিষাক্ত উপাদানটি এখনও পুরোপুরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তবে এই গবেষণাটি নিশ্চিত করে যে মঙ্গলের রেগোলিথে এমন কিছু উচ্চ দ্রবণীয় উপাদান রয়েছে যা তরলের সংস্পর্শে এলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই উপাদানগুলো যেমন প্রাণের বিকাশে বাধার সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে এগুলো পুষ্টির উৎস হিসেবেও কাজ করার সম্ভাবনা রাখে। মঙ্গলের ভবিষ্যৎ অন্বেষণে কেবল রাসায়নিক গঠন নয়, বরং বায়ুমণ্ডলীয় চাপ এবং তাপমাত্রার তীব্র পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোকেও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, এই গবেষণাটি স্থানীয় মাটি প্রক্রিয়াকরণের নতুন প্রোটোকল তৈরির জন্য অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করেছে, যা অন্য গ্রহে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই উপস্থিতির কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • УНІАН

  • unian

  • op-online.de

  • The Debrief

  • ScienceAlert

  • Discover Magazine

  • Nautilus

  • Penn State University

  • Gizmodo

  • Discover Magazine

  • ScienceAlert

  • Tech Explorist

  • Penn State University

  • Tech Explorist

  • VICE

  • ScienceAlert

  • Penn State University - PSU

  • Astrobiology

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

Our ESA/Hubble Picture of the Month features one cosmic eye 👁️ spied by two observatories! The Cat’s Eye Nebula (NGC 6543) is one of the most visually intricate remnants of a dying star. In 1995, Hubble revealed structures in it that helped us understand how planetary nebulae

Two images of a planetary nebula in space. The image to the left, labelled “Euclid & Hubble”, shows the whole nebula and its surroundings. A star in the very centre is surrounded by white bubbles and loops of gas, all shining with a powerful blue light. Farther away a broken ring of red and blue gas clouds surrounds the nebula. The background shows many stars and distant galaxies. A white box indicates the centre of the nebula and this region is the image to the right, labelled “Hubble”. It shows the multi-layered bubbles, pointed jets and circular shells of gas that make up the nebula, as well as the central star, in greater detail.
376
Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।