সুপার টাইফুন Fung-wong ফিলিপাইনসের উত্তর অংশে উপকূলে আঘাত করেছে, স্থায়ী বাতাস প্রায় ১৮৫ কিমি/ঘণ্টা এবং গাস্টস পর্যন্ত 230 কিমি/ঘণ্টা।
গত রবিবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে, সুপার টাইফুন ফুং-ওং, যা ফিলিপাইনে স্থানীয়ভাবে 'উয়ান' নামে পরিচিত, দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূল ধরে আছড়ে পড়ে। এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি সর্বোচ্চ ১৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বাতাস এবং ২৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়া নিয়ে আসে, যার ফলে তাৎক্ষণিক প্রাণহানি ঘটে এবং ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়। লুজন দ্বীপের অরোরা প্রদেশে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১০ মিনিটে ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানে। এই ঘটনাটি ফিলিপাইনের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, কারণ এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ঘূর্ণিঝড় কালমাগি মধ্য ফিলিপাইনে আঘাত হেনে কমপক্ষে ২২৪ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়। পরপর দুটি শক্তিশালী ঝড়ের মোকাবিলা করার কারণে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করতে বাধ্য হন। প্রতিরক্ষা সচিব গিলবার্তো তেওডোরো জুনিয়র জনগণকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানান।
সুপার টাইফুন Fung-wong ফিলিপাইনে ল্যান্ডফল করেছে।
ফুং-ওং তার সর্বোচ্চ তীব্রতায় ১,৮০০ কিলোমিটার ব্যাস পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং লুজনের ডিনালুঙ্গান শহরে আঘাত হানার সময় এর বাতাসের গতিবেগ ২১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত উঠেছিল। এই বিশাল আকারের কারণে দেশের বিস্তৃত অংশ প্রভাবিত হয়। ঝড়ের প্রভাবে ফিলিপাইনের ১২টি অঞ্চলে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে আগেভাগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঝড়ের প্রভাবে লুজনের ১৪৯টি এলাকায় বন্যা দেখা দেয় এবং ১৭০টি পৌরসভায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ১৪টি পৌরসভায়, বিশেষত বিকোল অঞ্চলে।
কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সাথে প্রতিক্রিয়া জানায়। ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড ৮৬টি বন্দরে আটকে পড়া ৬,৬০০ যাত্রী ও কর্মীদের জন্য ব্যবস্থা নেয় এবং ৮৯৪টি অনুসন্ধান, উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার দল মোতায়েন করে। ফুং-ওং ছিল ফিলিপাইনের এই বছরে আঘাত হানা একুশতম ঝড়, যা দেশটির স্থিতিস্থাপকতাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে। ঝড়ের প্রভাবে ক্যাটানডুয়ানেস দ্বীপে আকস্মিক বন্যায় ডুবে যাওয়া আরও একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকে ঝড়টি উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবারের মধ্যে তাইওয়ান প্রণালির দিকে এগোবে এবং বৃহস্পতিবার পশ্চিম তাইওয়ানে পৌঁছে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনাগুলো স্মরণ করিয়ে দেয় যে সম্মিলিত মনোযোগ এবং দায়িত্ববোধের সাথে কাজ করা হলে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিও মোকাবিলা করার পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে মানব-সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়গুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।