২০২৬ সালের জানুয়ারির তুষারঝড়ে কামচাটকা উপদ্বীপে রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাত: বিপর্যস্ত জনজীবন ও জরুরি অবস্থা

সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Martynovska 17

Kamchatka-এ 130 বছর পরে প্রথমবার রেকর্ড-বরফপাত ঘটেছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যের কামচাটকা উপদ্বীপে এক নজিরবিহীন তুষারঝড় আঘাত হানে, যার ফলে পুরো অঞ্চলের অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র পেট্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কিতে অবস্থিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, সেখানে তুষারের গভীরতা দুই মিটার অতিক্রম করেছে, যা এই এলাকার আবহাওয়ার ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, তুষারস্তূপের উচ্চতা আড়াই থেকে তিন মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার ফলে অনেক ভবনের নিচতলায় যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

রাশিয়ার প্রান্তিক পূর্বে অবস্থিত কামচাটকা উপদ্বীপটি বর্তমানে একটি বিশাল সাদা চাদরে ঢেকে রয়েছে।

পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায় স্থানীয় পৌর সরকার ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে পুরো শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়, যা অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে তোলে। তুষারের প্রচণ্ড ভার সইতে না পেরে ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এই তুষারপাতের ফলে বাসিন্দারা চরম বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়েছেন, বিশেষ করে নিচতলার অ্যাপার্টমেন্টগুলোর প্রবেশপথ তুষারের প্রাচীরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে জীবন বাঁচাতে কিছু নাগরিক ওপরতলার জানালাগুলোকে জরুরি বহির্গমন পথ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং জমাটবদ্ধ তুষারের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন।

এটা মনে হচ্ছে বিশ্বের সমস্ত তুষার Kamchatka-র ওপর পড়ে গেছে

আবহাওয়া সংক্রান্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, ওখোটস্ক সাগরের ওপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী নিম্নচাপ বলয় এবং আর্কটিক অঞ্চলের স্থবির ও তীব্র শীতল বায়ুপ্রবাহের সংমিশ্রণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বায়ুমণ্ডলের এই জটিল বিন্যাসের পেছনে জেট স্ট্রিমের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। যদিও কামচাটকা উপদ্বীপ সাধারণত কঠোর শীতকালীন আবহাওয়ার জন্য পরিচিত, তবুও ২০২৬ সালের জানুয়ারির এই তুষারপাতের তীব্রতা এবং পরিমাণ অতীতের সমস্ত রেকর্ড এবং প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক মানদণ্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

বর্তমানে সেখানে ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে বেসামরিক জনগণকে সহায়তা করার জন্য রাশিয়ান সামরিক বাহিনীর বিশেষ দলসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা সংস্থাকে মোতায়েন করা হয়েছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রধান লক্ষ্য হলো তুষারে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করা এবং শহরের প্রধান সড়কগুলো থেকে তুষার সরিয়ে জরুরি লজিস্টিক সংযোগ পুনঃস্থাপন করা। তবে তুষারের বিশাল আয়তনের কারণে এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পুরো অঞ্চল জুড়ে অবকাঠামোগত ক্ষতির মূল্যায়ন করছে, যদিও দূরবর্তী এলাকাগুলোতে হালকা তুষারপাত অব্যাহত থাকায় এই কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ওখোটস্ক সাগর থেকে শীতকালে প্রায়ই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় যা আর্দ্র বাতাসকে মহাদেশীয় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে নিয়ে আসে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জেট স্ট্রিমের বিশেষ অবস্থানের কারণে উপদ্বীপটির ওপর অস্বাভাবিক পরিমাণে আর্দ্রতা প্রবাহিত হয়েছে, যা জলবায়ু বিজ্ঞানীদের দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনের প্যাটার্ন নিয়ে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এই অঞ্চলের অবকাঠামো সাধারণত ভারী তুষারপাত সহ্য করার উপযোগী করে তৈরি করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি সেই সক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে গেছে। এর ফলে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের পৌরসভাগুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

135 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • detikedu

  • World's Amazing Things

  • Portal NADMA

  • en.Liputan6.com

  • Astro Awani

  • detikcom

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।