নিউ ইয়র্কের আকাশে তিনটি রহস্যময় বস্তু: ইউএপি (UAP) নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক

সম্পাদনা করেছেন: Uliana Soloveva

২০২৬ সালের মার্চের শুরুর দিকে নিউ ইয়র্ক শহরে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজকে কেন্দ্র করে অজ্ঞাত আকাশযান বা ইউএপি (UAP) সংক্রান্ত আলোচনা আবারো তুঙ্গে উঠেছে। ৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখের রাত আনুমানিক ৮:৩০ মিনিটে কুইন্সের করোনা এলাকার বাসিন্দা চার্লি কোরেয়া আকাশে তিনটি উজ্জ্বল বস্তু দেখতে পান। বস্তুগুলো একটি শিথিল ত্রিভুজাকার বিন্যাসে চলাচল করছিল। কোরেয়া প্রথমে একটি উজ্জ্বল আলোকে উল্কা মনে করলেও শীঘ্রই আরও দুটি বস্তু সেখানে উপস্থিত হয় এবং তার বর্ণনা অনুযায়ী সেগুলো একে অপরকে ধাওয়া করছিল। ১৮ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে বস্তুগুলোর এমন সমন্বিত গতিবিধি দেখা গেছে যা সাধারণ কোনো বিমানের ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না।

এই ঘটনার পরপরই ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং আতঙ্কিত নাগরিকরা নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (NYPD) অসংখ্য ৯১১ কল করতে থাকেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে কোনো সন্দেহভাজন বস্তু বা অপারেটরের সন্ধান পায়নি। চার্লি কোরেয়া, যার অবস্থান লা-গার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকে মাত্র এক মাইল উত্তরে, বিস্ময় প্রকাশ করে জানান যে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) থেকে ওই এলাকার ট্রাফিক সম্পর্কে কোনো বিশেষ তথ্য না থাকাটা অস্বাভাবিক। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই নিউ ইয়র্কের আকাশে ৬৬টি ইউএপি দেখার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা এই মেগাসিটির আকাশসীমায় অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।

সরকারি পর্যায়ে পেন্টাগনের 'অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস' (AARO), যা ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এই ধরনের রহস্যময় বস্তু শনাক্তকরণ ও তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এএআরও (AARO) কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, এই ব্যাখ্যাতীত ঘটনাগুলো মানেই ভিনগ্রহের প্রাণীদের উপস্থিতি নয়। তাদের মতে, এখন পর্যন্ত ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী, প্রযুক্তি বা কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা একটি প্রেসিডেন্টীয় আদেশ অনুযায়ী, সরকারি সংস্থাগুলোকে ইউএপি এবং মহাজাগতিক জীবন সংক্রান্ত ফাইলগুলো তালিকাভুক্ত করে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা এই ইস্যুতে একটি নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।

বিমান চলাচল ক্ষেত্রেও রিপোর্টিং পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। FAA, তাদের নোটিশ 'N JO 7210.970' অনুযায়ী যা ২০২৪ সালের শেষের দিকে কার্যকর হয়েছে, এখন থেকে পাইলট এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কর্মীদের জন্য ইউএপি সংক্রান্ত তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক করেছে। আগে একে ইউএফও (UFO) বলা হলেও এখন সরকারিভাবে ইউএপি (UAP) শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২২ ডিসেম্বর, ২০২২-এ কংগ্রেস কর্তৃক পাস করা আইন (50 U.S.C. § 3373) এই বাধ্যবাধকতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে, যা এএআরও (AARO) প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল। যদি রাডার ডেটা পাইলটের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে, তবে FAA নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী সেই তথ্য ইউএপি টাস্ক ফোর্সের কাছে হস্তান্তর করে।

ইন্টারনেটে এই ঘটনা নিয়ে নানা মতবাদ প্রচলিত রয়েছে; কেউ বলছেন এগুলো পাখির গায়ে প্রতিফলিত আলো, আবার কেউ বলছেন এগুলো লা-গার্ডিয়া থেকে আসা দূরবর্তী কোনো বিমান। তবে রাডার বা অতিরিক্ত তথ্য ছাড়া বিশেষজ্ঞরা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছেন না। ১৯৪৫ সাল থেকে এএআরও-র কাছে ২,০০০-এরও বেশি অমীমাংসিত মামলা জমা রয়েছে, যা সরকারি তদন্তে স্বচ্ছতার দাবিকে আরও জোরালো করছে। কুইন্সের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে এই ধরনের ঘটনা বিশ্লেষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট বৈশ্বিক প্রোটোকল প্রয়োজন। বর্তমানে জাপান, ফ্রান্স, ব্রাজিল এবং কানাডার মতো দেশগুলোর নিজস্ব ইউএপি তদন্ত কর্মসূচি রয়েছে, যা এই রহস্যের বিশ্বজনীন গুরুত্বকে তুলে ধরে।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • International Business Times UK

  • IBTimes UK

  • New York Post

  • National Today

  • Reddit

  • LatestLY

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।