মঙ্গলে রহস্যময় উজ্জ্বল শঙ্কু: নাসাকে পুনরায় তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী

লেখক: Uliana Soloveva

মঙ্গলে পাওয়া 'চমকদার' জ্যামিতিক বস্তুর খোঁজ NASA প্রোব লঞ্চের আহ্বান জাগিয়ে তুলেছে

১৪ মার্চ, ২০২৬ তারিখে নিউ ইয়র্ক পোস্ট একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যা মহাকাশ প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই প্রতিবেদনে মঙ্গলের পুরনো কিছু আর্কাইভাল ছবির দিকে পুনরায় দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, যা লাল গ্রহের রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি অদ্ভুত জ্যামিতিক বস্তু, যা নাসার কিউরিওসিটি রোভার ২০২২ সালে মঙ্গলের বিষুবরেখার নিকটবর্তী গেইল ক্রেটারে ক্যামেরাবন্দি করেছিল। নাসার সরবরাহকৃত তথ্য এবং খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞদের মন্তব্যের ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর সংবাদটি পরিবেশন করা হয়েছে।

এই রহস্যময় বস্তুটি দেখতে প্রায় ২০ সেন্টিমিটার লম্বা একটি উজ্জ্বল শঙ্কুর মতো, যার নিচের অংশটি একেবারে সমতল। এর অদ্ভুত আকৃতির কারণে অনেকেই একে 'পার্টি হ্যাট' বা উৎসবের টুপির সাথে তুলনা করেছেন। মঙ্গলের রুক্ষ, ধূলিময় এবং পাথুরে ভূখণ্ডের পটভূমিতে এই মসৃণ ও উজ্জ্বল বস্তুটি বেশ নাটকীয়ভাবে আলাদা হয়ে ফুটে উঠেছে। বর্তমানে কিউরিওসিটি রোভারটি মাউন্ট শার্পের ঢালে যে অবস্থানে কাজ করছে, সেখান থেকে প্রায় পাঁচ মাইল দূরে এই বস্তুটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। উল্লেখ্য যে, ২০১২ সাল থেকে কিউরিওসিটি এই অঞ্চলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং একটি সাধারণ রুটিন চিত্রগ্রহণের সময় এই বস্তুটি দুর্ঘটনাক্রমে লেন্সবন্দি হয়েছিল।

নাসার বিশাল তথ্যভাণ্ডার বা আর্কাইভে এই বস্তুটি প্রথম খুঁজে পান অপেশাদার মঙ্গল গবেষক রামি বার ইলান। পরবর্তীতে এই আবিষ্কারটি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত জ্যোতির্পদার্থবিদ আভি লোয়েবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফ্লোরিডার ফাউন্ডেশন ফর অ্যাপ্লাইড মলিকুলার ইভোলিউশন-এর ডক্টর ইয়ান স্পেস তাকে এই বিশেষ ছবিটির বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। এরপর ৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে আভি লোয়েব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মিডিয়ামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন: এই বস্তুটিকে কি কেবল পৃথিবী থেকে যাওয়া আবর্জনা হিসেবে অবহেলা করা উচিত, নাকি বিস্তারিত তদন্তের জন্য রোভারটিকে সেখানে পুনরায় পাঠানো প্রয়োজন? নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী লোয়েব বলেন, "নাসা যেহেতু সাধারণ করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়, তাই আমার মতে এই রহস্যময় সিলিন্ডার আকৃতির বস্তুটির উৎস খুঁজে বের করা কিউরিওসিটি মিশনের জন্য একটি অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।"

আভি লোয়েব ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন যে, এর সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা হতে পারে এটি রোভারেরই কোনো যন্ত্রাংশের একটি অংশ, যা দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার সময় কোনোভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত নাসা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি সরাসরি পরীক্ষা করে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বর্তমানে রোভারটি ওই স্থান থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে, ফলে সেখানে ফিরে গিয়ে পুনরায় পর্যবেক্ষণ করতে খুব বেশি সময় বা জ্বালানির প্রয়োজন হবে না বলেই তিনি মনে করেন।

এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে নাসার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা উত্তর পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যে, যদিও বস্তুটি দেখতে কৃত্রিম বা মানুষের তৈরি বলে মনে হয়, তবুও এর মধ্যে ভিনগ্রহের কোনো প্রাণের সরাসরি অস্তিত্বের প্রমাণ মেলেনি। এটি বিজ্ঞানের জগতের একটি চিরাচরিত উদাহরণ যে কীভাবে নাসার পুরনো তথ্যগুলো বছরের পর বছর ধরে নতুন নতুন কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দেয়। একই সাথে এটি বিজ্ঞানীদের সেই আহ্বানকেও সমর্থন করে যেখানে তারা কোনো অস্বাভাবিক তথ্যকে বিনা তদন্তে ফেলে না রাখার পরামর্শ দেন।

এই ধরনের ছোটখাটো কিন্তু রহস্যময় আবিষ্কারগুলো আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, প্রথম রোভার অবতরণের কয়েক দশক পার হয়ে গেলেও মঙ্গল গ্রহ আজও আমাদের জন্য অসংখ্য বিস্ময় লুকিয়ে রেখেছে। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক সময় সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্ন— "আসলে এটি কী?"—এর উত্তর পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গভীর এবং সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়। কিউরিওসিটি রোভারের এই সামান্য একটি ছবি হয়তো মঙ্গলের বুকে মানুষের উপস্থিতির ইতিহাস বা অন্য কোনো অজানা দিক উন্মোচনে সহায়ক হতে পারে।

18 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • NYP

  • NYP

  • NYP

  • NYP

  • NYP

  • NYP

  • NYP

  • NYP

  • NYP

  • NYP

  • NYP

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।