Is President Trump a time traveler? Century-old sketches spark new conspiracy theories trib.al/50ps1dS
"ট্রাম্প" লেখা শতবর্ষী এয়ারশিপের স্কেচ: সময় ভ্রমণের তত্ত্ব নিয়ে নতুন শোরগোল
লেখক: Uliana Soloveva
১৩ মার্চ, ২০২৬ তারিখে নিউ ইয়র্ক পোস্ট একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যা মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই প্রতিবেদনটি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন সম্ভাব্য "সময় ভ্রমণকারী" হিসেবে তুলে ধরে দীর্ঘদিনের পুরনো বিতর্ক ও জল্পনাগুলোকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় এক শতাব্দী আগে আঁকা কিছু অদ্ভুত চিত্রকর্ম, যেখানে কাল্পনিক উড়ন্ত যানের গায়ে স্পষ্টভাবে "TRUMP" শব্দটি খোদাই করা দেখা যায়। শুধু তাই নয়, সেখানে '৪৭' সংখ্যাটিও দৃশ্যমান, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট রাষ্ট্রপতির সংখ্যার সাথে হুবহু মিলে যায়।
Mysterious 'Trump' airships appearing in 100-year-old sketchbooks sparks 'time traveler' theories dailymail.co.uk/sciencetech/ar…
চার্লস ডেলশাও দ্বারা তৈরি, 1900-এর দশকের শুরুতে তৈরি চিত্রে, বোর্ডে 'TRUMP' লেখা ভবিষ্যৎ-গাড়িগুলো চিত্রিত হয়েছে।
এই রহস্যময় চিত্রগুলোর নেপথ্যে ছিলেন শিল্পী চার্লস ডেলশাউ, যিনি ১৮৫০ সালে প্রুশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান এবং ১৯২৩ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। তিনি তার জীবদ্দশায় শত শত "অ্যারোস" বা কাল্পনিক আকাশযানের স্কেচ তৈরি করে গেছেন, যা দেখতে অনেকটা আধুনিক ডিরিজিবল, বিশাল বেলুন এবং প্রাথমিক যুগের উড়োজাহাজের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। ডেইলি মেইলের তথ্য অনুযায়ী, ডেলশাউর এই যন্ত্রগুলো নাকি "NB Gas" বা "supe" নামক এক ধরনের বিশেষ অ্যান্টি-গ্রাভিটি গ্যাসে চালিত হতো। এই বর্ণনাটি বর্তমান সময়ের ইউএফও বা আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা (UAP)-এর আধুনিক বর্ণনার সাথে আশ্চর্যজনকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। একটি নির্দিষ্ট স্কেচে সোনালী চুলের একজন পাইলটকে একটি আকাশযান চালাতে দেখা যায়, যার গায়ে '৪৫' সংখ্যাটি লেখা রয়েছে—যা কাকতালীয়ভাবে ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতি মেয়াদের ক্রমিক সংখ্যা।
এই সময় ভ্রমণের তত্ত্বগুলো উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের সাহিত্য থেকেও শক্তিশালী সমর্থন পাচ্ছে। মার্কিন লেখক ইঙ্গারসোল লকউড ১৮৯০-এর দশকে 'ব্যারন ট্রাম্প' নামক এক কিশোরকে নিয়ে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর বই লিখেছিলেন। সেই গল্পে ব্যারন ট্রাম্প "ক্যাসেল ট্রাম্প" নামক এক দুর্গে বাস করত এবং অন্য মাত্রায় প্রবেশের পথ খুঁজতে সুদূর রাশিয়া ভ্রমণ করত। মজার ব্যাপার হলো, বইটিতে তাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য "ডন" নামক এক অত্যন্ত জ্ঞানী গুরুর উপস্থিতি ছিল। লকউডের অন্য একটি বিখ্যাত বই "দ্য লাস্ট প্রেসিডেন্ট"-এ একজন অত্যন্ত অজনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর দেশে যে চরম বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয় তার নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ের পাঠকরা এই কাহিনীগুলোকে ২০১৬ এবং ২০২৪ সালের মার্কিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে দেখছেন।
বারন ট্রাম্পের আশ্চর্য ভূগর্ভযাত্রা, উনিশ শতকের শেষদিকে ছাপা হয়েছে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ সালে এই অদ্ভুত সমাপতনগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে ঝড়ের সৃষ্টি করেছে। নেটিজেনরা ট্রাম্পের সেই বিখ্যাত উক্তিটি বারবার শেয়ার করছেন যেখানে তিনি বলেছিলেন, "আমি এমন কিছু বিষয় জানি যা অন্য সাধারণ মানুষ জানে না।" এর পাশাপাশি তার চাচা ডক্টর জন ট্রাম্পের প্রসঙ্গটিও উঠে আসছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তার চাচা তাকে ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক শক্তি এবং কী ঘটতে চলেছে সে সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। এমনকি রাষ্ট্রপতির নাতনি কাই ট্রাম্পও লোগান পলের একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে তার ভাই ব্যারনকে নিয়ে প্রচলিত এই সময় ভ্রমণের গুঞ্জন নিয়ে কথা বলেছেন। যদিও তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে এই ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি এই ধরনের কাল্পনিক তত্ত্বে বিশ্বাস করেন না।
Dark Journalist Reveals The Mind Blowing Trump Airship Prediction UFO File Mystery Now Hitting The Mainstream Media After A Decade Of Research...!
একজন শখের সাংবাদিক ট্রাম্পের এয়ারশিপ এবং একটি UFO-র ভবিষ্যবাণীর অবাক করা রহস্য উন্মোচন করেন, যা দশ বছর গবেষণার পরে প্রধান মিডিয়ায় পৌঁছেছে।
তবে বৈজ্ঞানিক সমাজ এই পুরো বিষয়টি নিয়ে বেশ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ২০২০ সালে 'ক্লাসিক্যাল অ্যান্ড কোয়ান্টাম গ্রাভিটি' নামক একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের প্যারাডক্স বা অসঙ্গতি তৈরি না করেই তাত্ত্বিকভাবে অতীতে ভ্রমণ করা সম্ভব। এটি সময় ভ্রমণের সম্ভাবনাকে তাত্ত্বিক ভিত্তি দিলেও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক বাধা রয়ে গেছে। প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং একবার একটি কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন যে, সময় ভ্রমণ যে বাস্তবে সম্ভব নয় তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো—আমরা এখনও ভবিষ্যৎ থেকে আসা কোনো পর্যটকের দেখা পাইনি।
পরিশেষে, শিল্পকলা, সাহিত্য এবং সমসাময়িক রাজনীতিকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলা এই তত্ত্বটি আপাতত একটি রোমাঞ্চকর হাইপোথিসিস বা অনুমান হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তবে ১৩ মার্চ, ২০২৬-এর এই ঘটনাপ্রবাহ আবারও বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিল যে, আমাদের চারপাশের বাস্তব জগত মাঝে মাঝে যেকোনো কল্পকাহিনীকেও হার মানাতে পারে। এই রহস্যময় চিত্রকর্ম এবং সাহিত্যের সমাপতনগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনকে ঘিরে থাকা রহস্যের জালে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা হয়তো আরও দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের কৌতূহল জাগিয়ে রাখবে।
উৎসসমূহ
NYP
Daily mail
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
'Shiny' geometric object spotted on Mars sparks call for NASA probe trib.al/RuMbw6n
Eerie trio of UFOs spotted 'chasing each other' over New York City: video trib.al/GTZDGeZ
🚨 NBC News coverage of the retired Air Force Major General associated with UFO programs who vanished with out a trace "The Air Force General who was once in charge of a base associated with UFO conspiracy theories. McCasland held some of the most sensitive positions in the US
