পেন্টাগনের ফুটেজের একটি ফাঁস দেখায় যে ইউএফওরা 'অসম্ভব' গতি দেখায়, তাহলে সুপারসনিক গতিতে চলতে থাকে।
পেন্টাগনের ২০২১ সালের ভিডিও প্রকাশ: সিরিয়ার আকাশে আলোর গতির কাছাকাছি বেগে উড়ন্ত রহস্যময় বস্তু
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জেরেমি করবেল এবং জর্জ ন্যাপ পেন্টাগনের গোপনীয় আর্কাইভ থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ জনসমক্ষে আনেন। এই ভিডিওতে ২০২১ সালে সিরিয়ার সুওয়ায়দা প্রদেশের আকাশে ঘটে যাওয়া একটি অস্বাভাবিক ঘটনার চিত্র ধরা পড়েছে, যা জর্ডান সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। একটি এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোন থেকে ধারণ করা এই ফুটেজে এমন একটি রহস্যময় বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যার বৈশিষ্ট্যগুলো আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
WEAPONIZED পডকাস্টে ঘটনার বিশ্লেষণ
২০২১ সালে ধারণকৃত এই ভিডিওটি মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের তদন্তের অংশ হিসেবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নথিবদ্ধ করা হয়েছিল। করবেল এবং ন্যাপ তাদের 'উইপোনাইজড' (WEAPONIZED) নামক পডকাস্টে এই ঘটনার একটি গভীর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, বস্তুটি প্রথমে তার প্রাথমিক গতির মাত্র ৫ শতাংশে নেমে আসে এবং ঠিক তার পরেই চোখের পলকে এমন এক অবিশ্বাস্য গতিতে ত্বরান্বিত হয়, যাকে বিশেষজ্ঞরা আলোর গতির কাছাকাছি বা 'তাৎক্ষণিক ত্বরণ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন কর্মকর্তা মারিক ফন রেনেনক্যাম্পফ এই বিশ্লেষণে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বস্তুটি যখন অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন ভিডিওর পটভূমিতে থাকা অন্যান্য বস্তুগুলো স্থির ছিল, যা প্রমাণ করে এটি ক্যামেরার কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা কৃত্রিম বিভ্রম ছিল না। অদ্ভুত এই বস্তুটি দেখতে অনেকটা মাশরুমের মতো ছিল এবং এতে সাধারণ ড্রোন বা বিমানের মতো কোনো ইঞ্জিন নির্গমন বা ইনফ্রারেড সিগনেচার লক্ষ্য করা যায়নি।
সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র এই বস্তুর দ্রুত সরে যাওয়ার কৌশলকে 'অমানবিক' বা মানুষের তৈরি প্রযুক্তির বাইরের কিছু হিসেবে অভিহিত করেছে। কোনো দৃশ্যমান প্রপালশন সিস্টেম বা ইঞ্জিনের সাহায্য ছাড়াই এবং জড়তার কোনো প্রভাব না দেখিয়ে কীভাবে একটি বস্তু এমন চরম গতি অর্জন করতে পারে, তা বর্তমান অ্যারোডাইনামিক এবং প্রপালশন মডেলগুলোর জন্য একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেরেমি করবেল, যিনি দীর্ঘকাল ধরে ইউএপি (UAP) বা অজ্ঞাত আকাশযান সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের জন্য পরিচিত, তিনি দাবি করেছেন যে এই পর্যবেক্ষণ আমাদের পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞানকে লঙ্ঘন করে। অন্যদিকে, জর্জ ন্যাপ এই ভিডিওর সামরিক উৎসের কথা উল্লেখ করে এর নির্ভরযোগ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
সিরিয়ার এই ২০২১ সালের ঘটনাটি মার্কিন সামরিক কাঠামোর মধ্যে ইউএপি-র প্রতি ক্রমবর্ধমান মনোযোগের একটি বৃহত্তর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগেও এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন থেকে ধারণ করা বিভিন্ন ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে ২০১২ সালে পারস্য উপসাগরের উপরে তিনটি গোলকের সমন্বিত চলাচলের ভিডিওটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মারিক ফন রেনেনক্যাম্পফ, যার স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তিনি মূলত এটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন যে এই বস্তুটি কোনো পরিচিত আকাশযান নয়। ড্রোনের মাল্টি-স্পেকট্রাল টার্গেটিং সিস্টেম (MTS-B) ব্যবহার করে ধারণ করা এই ঘটনাটি এখন মহাকাশ গবেষণা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন এবং গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উৎসসমূহ
Chernomore
ABDPost
Unexplained Mysteries
Podnews
Forbes
YouTube