মেগাসিটির বাতাস নির্মল করতে স্কাইলিফ (SkyLeaf) ‘সুপার-পপলার’ বৃক্ষরোপণ অভিযান

লেখক: Svetlana Velhush

মেগাসিটির বাতাস নির্মল করতে স্কাইলিফ (SkyLeaf) ‘সুপার-পপলার’ বৃক্ষরোপণ অভিযান-1

গাছ

পরিবেশ রক্ষায় জৈবপ্রযুক্তি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সিঙ্গাপুর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ‘স্কাইলিফ’ (SkyLeaf) প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ের জেনেটিক্যালি মডিফাইড বা জিনগতভাবে পরিবর্তিত পপলার গাছ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এই বিশেষ গাছগুলো বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণে অত্যন্ত দক্ষ। মূলত শহরগুলোকে কার্বনমুক্ত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞানীরা অন্যান্য উদ্ভিদ ও শৈবালের জিন ব্যবহারের মাধ্যমে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করেছেন, যা গাছের শক্তি অপচয় কমিয়ে দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে আয়োজিত একটি পরিবেশ বিষয়ক ফোরামে ‘লিভিং কার্বন’ (Living Carbon) কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক ম্যাডি হল এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা কেবল গাছ লাগাচ্ছি না, বরং কার্বন ধরার একটি জীবন্ত প্রযুক্তি স্থাপন করছি।” তিনি আরও জানান যে, জলবায়ু পরিবর্তনের দ্রুত গতির সাথে পাল্লা দিতে এই পপলার গাছগুলো সাধারণ গাছের তুলনায় দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে বেড়ে ওঠে, যা বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই দ্রুত বৃদ্ধি গাছগুলোকে অল্প সময়েই পরিবেশের জন্য কার্যকর করে তোলে।

এই ‘সুপার-পপলার’ গাছগুলোর বিশেষত্ব হলো এদের শিকড় ও কাণ্ডে প্রচুর পরিমাণে বায়োমাস বা জৈববস্তু জমা করার ক্ষমতা। এটি গাছগুলোকে কার্বনের একটি আদর্শ ‘ভাণ্ডার’ হিসেবে গড়ে তোলে। এছাড়া, এই গাছের কাঠে তামা বা কপারের মতো ধাতব উপাদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কাঠকে পচনরোধী করে তোলে। এর ফলে গাছ মারা যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চিত কার্বন ডাই অক্সাইড পুনরায় বায়ুমণ্ডলে মিশে যেতে পারে না, যা জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

তবে এই বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি পরিবেশবাদীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। ‘গ্লোবাল ফরেস্ট কোয়ালিশন’ (Global Forest Coalition)-এর পরিবেশবিদরা এই বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা মনে করেন, এই ধরনের কৃত্রিম প্রজাতি স্থানীয় প্রাকৃতিক গাছপালাকে হটিয়ে দিয়ে বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এছাড়া, জিনগতভাবে পরিবর্তিত এই গাছের পরাগরণ বনের প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

সামগ্রিকভাবে, স্কাইলিফ প্রকল্প পরিবেশ বিজ্ঞানে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একদিকে যেমন এটি দ্রুত কার্বন শোষণের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে এর দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্কের অবকাশও রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই প্রয়োগ যদি সফল এবং নিরাপদ প্রমাণিত হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়া অনেক সহজতর হবে।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Can Genetically Modified Trees Save the Planet? (Documentary 2026)

  • Inside the Lab: How SkyLeaf Engineers Photosynthesis

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।