ইতালির মোলিজে অঞ্চল তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে মৌমাছি পালন বা অ্যাপিকালচার খাতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। আঞ্চলিক উদ্ভিদজগত সংরক্ষণের এই প্রচেষ্টাকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আঞ্চলিক মৌমাছি পালন কমিটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার মাধ্যমে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই কমিটির মূল লক্ষ্য হলো এমন কিছু নীতিগত কৌশল প্রণয়ন করা যা অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
কৃষি নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা সালভাতোরে মিকোন এই কমিটির সভা আহ্বান করেন, যা গত বছরের অক্টোবর মাসের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিকোন, যিনি একই সাথে ডিজিটাল রূপান্তর, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং বন ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যাপক কৃষি ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং বন্য উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মৌমাছি পালনকারীদের ভূমিকা অপরিসীম। তার মতে, এই নতুন সরঞ্জামগুলো স্থানীয় খামারিদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।
এই সামগ্রিক পরিকল্পনার একটি প্রধান অংশ হলো 'ব্যান্ডো এসিএ১৮' (Bando ACA18) নামক একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর জন্য ১ মিলিয়ন ইউরো বা ১০ লক্ষ ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিশাল অংকের তহবিল মূলত পরাগায়নকারী পতঙ্গের সংখ্যা হ্রাস রোধে এবং পরিবেশবান্ধব মৌমাছি পালন পদ্ধতিকে উৎসাহিত করতে ব্যবহৃত হবে। মোলিজে অঞ্চলের ইতিহাসে এটিই প্রথম এই ধরনের কোনো প্রকল্প, যা ২০২৩-২০২৭ মেয়াদের আঞ্চলিক গ্রামীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার (CSR) অধীনে 'মৌমাছি পালন প্রতিশ্রুতি'র সাথে সরাসরি যুক্ত। তবে এই প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন এজিইএ (AGEA) থেকে আসা এখনও বাকি।
এই কৌশলের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো 'আঞ্চলিক মৌমাছি পালন সনদ' (Carta apistica regionale) তৈরি করা। এই মানচিত্রের মাধ্যমে মোলিজে অঞ্চলের কোন এলাকাগুলো মৌমাছি পালনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, তা বৈজ্ঞানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভূমি ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মানচিত্রটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে স্থায়ী তৃণভূমি, পর্ণমোচী বন এবং প্রাকৃতিক চারণভূমিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি নির্দিষ্ট কিছু 'নির্দেশক প্রজাতি' এবং তাদের ফুল ফোটার সঠিক সময়কাল নির্ধারণ করে, যা সরাসরি ভূমি ব্যবহারের সাথে পরিবেশগত সংরক্ষণের সম্পর্ক স্থাপন করে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কারিগরি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই ম্যাপিং সম্পন্ন করা হয়েছে।
এই উদ্যোগটি মূলত পরাগায়নকারী পতঙ্গদের সুস্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক বাস্তুসংস্থানের স্থিতিশীলতার মধ্যে যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে, তাকেই সামনে নিয়ে আসে। বর্তমানে ইউরোপের বন্য পরাগায়নকারী পতঙ্গের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় প্রতি পাঁচটি সপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে প্রায় চারটিই বিলুপ্তির হুমকির মুখে রয়েছে। মোলিজে অঞ্চলের এই ১ মিলিয়ন ইউরোর কর্মসূচিটি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি অত্যন্ত কার্যকর অবদান। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করার লক্ষ্যে গৃহীত 'ইউরোপীয় ইউনিয়ন জীববৈচিত্র্য কৌশল ২০৩০'-এর সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে কাজ করে।


